উচ্চতা অনুযায়ী ওজন চার্ট ২০২৩ । আদর্শ ওজন কত হওয়া উচিত?

উচ্চতর সাথে ওজন এবং বয়সের সাথেও ওজন একটি বড় ব্যাপার-অনেক রোগের ইঙ্গিত বহন করে ওজন তাই ওজন নিয়ে মাথা ঘামাতেই হয় – উচ্চতা অনুযায়ী ওজন চার্ট ২০২৩

ওজন কেমন হলে ভালো হয় এই নিয়ে আমাদের চিন্তার অন্ত নেই। কিন্তু আদর্শ ওজনের মাপকাঠি কী? বয়স, উচ্চতা নাকি বিএমআই? আবার ডায়াবেটিস, হার্টের অসুখের মতো রোগ থাকলে বিপদও বেশি। এবার আলোচনা হল সবকটি দিক নিয়েই। তবে এখন ওজন নিয়ে ভাবতেই হবে। চলুন ওজন নিয়ে বিস্তারিত জেনে নিই।

ওজন নিয়ে মাথা ব্যথা? ব্যক্তির ওজন তাঁর শারীরিক স্বাস্থ্যের ইঙ্গিতবাহী। ওজন কম-বেশির কারণে ব্যক্তি বিভিন্ন অসুখে আক্রান্ত হতে পারেন। আবার উল্টোদিকে কোনও রোগের জন্যও ওজন বাড়তে বা কমতে পারে। তাই দৈহিক ওজন সম্বন্ধে একটু বেশিই সতর্ক থাকতে হয়। কোনও ব্যক্তির আদর্শ ওজন ঠিক কত থাকা উচিত, সেই বিষয়ে সম্যক জ্ঞান থাকা একান্ত প্রয়োজনীয়। মূলত উচ্চতা অনুযায়ী এবং বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই)-এর মাধ্যমে ব্যক্তির আদর্শ ওজন মাপা হয়। চলুন বিএমআই ক্যালকুলেটরে পরিমাপ করে দেখি। উচ্চতা অনুযায়ী ওজন কত হতে হবে? কোনও পুরুষ বা মহিলার উচ্চতা অনুযায়ী আদর্শ ওজন পরিমাপ করা যায়। এক্ষেত্রে উচ্চতা এবং ওজন মেপে নিয়ে চার্টের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে নিতে হবে।

বিএমআই কি? শরীরের আদর্শ ওজন নির্ণয়ের একটি বহুল প্রচলিত গাণিতিক পদ্ধতি হল বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআই। এই পদ্ধতিতে দেহের ওজন ও উচ্চতার ভিত্তিতে কোনও ব্যক্তির আদর্শ ওজন নির্ণয় করা হয়। পুরুষ ও নারীর স্বাভাবিক ওজনের মান জানার ক্ষেত্রে বিএমআই সূত্র একই।

ওজন কম থাকলে কি ভাল হয়? / বেশি ওজন কি সকল সমস্যার মূল হিসাবে কাজ করে?

ওজন কম থাকলেও বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা আসতে পারে। কম ওজনের কারণে অপুষ্টি, ভিটামিনের ঘাটতি, অ্যানিমিয়া, ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থেকে অস্টিওপোরোসিস, ইমিউনিটি কমে যাওয়া, ছোট বয়সে বেড়ে ওঠার সমস্যা (গ্রোথ ডেভেলপমেন্টাল ইস্যু), সার্জারিতে জটিলতা, গর্ভধারণের নানাবিধ সমস্যায় ভুগতে দেখা যায়।

Caption: www.fitbangladesh.com/BMI-Calculator

বিএমআই ক্যালকুলেটরই বলে দিবে আপনার অবস্থা ২০২৩ । কিভাবে বুঝবেন আপনি চিকন বা মোটা হয়েছেন?

  1. বিএমআই-এর মান ১৮.৫০ বা তার নীচে হলে ওজন স্বল্পতা।
  2. বিএমআই-এর মান ১৮.৫০ থেকে ২৪.৯ মধ্যে হলে ওজন স্বাভাবিক।
  3. বিএমআই-এর মান ২৫.০০ থেকে ২৯.৯ মধ্যে হলে ওজনাধিক্য।
  4. বিএমআই-এর মান ৩০.০০ এর বেশি হলে স্থূল।

বিএমআই পদ্ধতিতে আদর্শ ওজন কষার সূত্র কি?

বিএমআই= ওজন ÷ উচ্চতা২ এক্ষেত্রে ব্যক্তির ওজন ‘কেজি’ এবং তাঁর উচ্চতা ‘মিটারে’ পরিমাপ করে সূত্র ধরে অঙ্ক করতে হয়। একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়ে যাবে। ধরুন কোনও ব্যক্তির ওজন ৭০ কেজি এবং তাঁর উচ্চতা ১.৬ মিটার। ব্যক্তির বিএমআই-এর সূত্র হল— ৭০ ÷ ১.৬২। অঙ্কটিকে আরও ভেঙে দিলে দাঁড়ায়, ৭০ ÷ (১.৬ × ১.৬) = ২৭.৩৪। অর্থাৎ ব্যক্তির বিএমআই হল ২৭.৩৪। কিন্তু শুধু বিএমআই-এর মান জানলেই কাজ শেষ হয় না। এবার প্রাপ্ত বিএমআই স্কোরটিকে বিএমআই সূচকের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। চার্টে বিএমআই-এর সূচক মান দেওয়া হল। এই চার্টের সঙ্গে বিএমআই-এর মান মিলিয়ে দেখলেই বোঝা যায় ওজন বেশি, কম না স্বাভাবিক রয়েছে।

সমস্যা সমাধানের উপায় কি? প্রথমে ব্যক্তির ওজন বেশি বা কমের কারণ সম্বন্ধে জেনে নিতে হয়। মূলত বেশি খাওয়া এবং কম দৈহিক পরিশ্রমের কারণে মানুষ মোটা হয়ে যান। পাশাপাশি জিনগত কারণে, সন্তানধারণের পর এবং বেশ কিছু অসুখ থেকেও কারও কারও ওজন বাড়তে পারে। তাই ওজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সচেতন হতে হবে। ওজনের খুব বেশি তারতম্য না থাকলে নিয়মিত ব্যায়াম করলেই ওজন স্বাভাবিক হয়। তবে কোনও অসুখের জন্য বা অন্য কোনও কারণে ওজন মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সেক্ষেত্রে চিকিৎসক সবদিক বিবেচনা করে ব্যক্তির খাদ্যতালিকায় এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার কথা বলতে পারেন। প্রয়োজনে কিছু ওষুধও দেওয়া হয়ে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেরিয়াট্রিক সার্জারি করারও প্রয়োজন হতে পারে।

কম খাওয়া, খাবারের গুণগত মান ঠিক না থাকা, অতিরিক্ত পরিশ্রম, খাদ্য হজমে সমস্যা সহ অন্যান্য বিভিন্ন অসুখের কারণে ওজন কমতে পারে। তাই ওজন স্বাভাবিকের থেকে কম থাকলে সতর্ক হন। বিশেষত হঠাৎ করে ওজন কমলে চিকিৎসকের শরাণাপন্ন হতেই হবে। সাধারণ কারণে ওজন কমলে সুষম খাদ্য খাওয়ার পাশাপাশি জীবনযাত্রায় অল্পবিস্তর পরিবর্তন আনলেই স্বাভাবিক ওজন পাওয়া সম্ভব। ব্যক্তির ওজন স্বাভাবিকের অনেক নীচে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ভিটামিন, মিনারেলস বা অন্যান্য ওষুধ খেতে হতে পারে। মনে রাখবেন, বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে বা অপেশাদার কারও কথামতো ওজন বাড়ানোর কোনও ওষুধ খাওয়া আদতে শরীরেরই ক্ষতি ডেকে আনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *