এডিস মশা প্রতিরোধ পদ্ধতি । ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় কি?

ডেঙ্গ জ্বর প্রতিরোধে এডিস মশার বিস্তার রোধ করতে হবে-এজন্য শুধুমাত্র সরকারি সচেতনতা যথেষ্ট নয় – এডিস মশা প্রতিরোধ পদ্ধতি দেখুন

সরকারি নির্দেশনা আছে? হ্যাঁ – অধিদপ্তরাধীন সংশ্লিষ্ট সকল অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের অবহিত করা যাচ্ছে যে, দেশে এডিস মশার বিস্তার ও এর মাধ্যমে ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সচেতন, সতর্ক হওয়া এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।

অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এর আশেপাশে যেসব জায়গায় স্বচ্ছ পানি জমার সম্ভাবনা থাকে (যেমন-প্রতিষ্ঠানের ছাদ, নির্মাণাধীন ভবন, ফুলের টব, বাগান, নালা, পানির ট্যাপের আশেপাশের এলাকা, পানির পাম্প, ফ্রিজ বা এসির পানি জমার স্থান, পানির বদনা, বালতি, হাইকমোড, আইসক্রিম বক্স, প্লাষ্টিক বক্স, ডাবের খোসা, নারিকেলের মালা, টায়ার ইত্যাদি) সে সব জায়গা চিহ্নিত করে ০১ (এক) দিন পরপর পরিষ্কার করতে হবে।

অব্যবহৃত পানির পাত্র ধ্বংস অথবা উল্টে রাখতে হবে যাতে পানি না জমে। অব্যবহৃত হাই কমোডে হারপিক ঢেলে ঢাকনা বন্ধ করে রাখতে হবে; লো-কমোডের প্যানে হারপিক ঢেলে বস্তা বা অন্য কিছু দিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখতে হবে। কোন জায়গায় জমা পানি থাকলে লার্ভিসাইড স্প্রে করতে হবে অথবা জমা পানি নিষ্কাশন করতে হবে। দিনে অথবা রাতে ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারী ব্যবহার করতে হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমে সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভার সাথে সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। ডেঙ্গু জ্বরে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সুস্থ থাকতে হবে । শিক্ষার্থীদের প্রত্যহ ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায়সমূহ অবহিত করতে হবে।উপরের সকল বিষয়সমূহ বাস্তবায়নে আপনার ব্যক্তিগত উদ্যেগ রাখতে হবে। এমতাবস্থায়, প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে উল্লিখিত নির্দেশনাসমূহ প্রতিপালনের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও প্রতিকার / ডেঙ্গু প্রতিরোধ স্লোগান

 ‘ডেঙ্গু সম্পর্কে জানব, নিরাপদ থাকব’

এডিস মশা প্রতিরোধ পদ্ধতি । ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় কি?

এছাড়াও, যখন ডেঙ্গু প্রকোপ একটি এলাকায় ঘটে, সরকার ও স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নির্ধারিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত, যেমন মসকিটো নিয়ন্ত্রণ, প্রতিষ্ঠানে জলাভূমি নিয়ন্ত্রণ, জনসংখ্যার সচেতনতা সংগঠনের মাধ্যমে জনগোষ্ঠীকে সচেতন করা ইত্যাদি। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের প্রতি জরুরি প্রয়োজনে ডেঙ্গু প্রতিরোধী খাদ্যাদান পরিচালনা করা উচিত যাতে করে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সুরক্ষা থাকে।

ডেঙ্গু একটি মশার সংক্রমণের একটি মাধ্যমিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় রোগ। ডেঙ্গু জোখম অপসারণের জন্য নিম্নলিখিত কয়েকটি করণীয় অনুসরণ করা উচিত

  1. মশার সংখ্যা কমানো: মশার জন্য প্রতিটি সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠানে জলাভূমি নিয়ন্ত্রণ করুন। বাড়তি পানি সংগ্রহ করে দয়া করে সম্পূর্ণ করে দিন বা পানিতে মশার লারভার উপস্থাপন বাধা দিন।

     

  2. মশারের মধ্যে মসকিটো পরিচালনা করার উপকরণ ব্যবহার করুন: যখন মশা বেশি দেখা যায়, আপনি ব্যক্তিগত বন্ধুদের সংস্পর্শ এড়িয়ে নিন এবং প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় মসকিটো পরিচালনা ব্যবহার করুন।

     

  3. মশার সংক্রমণ ব্যতিক্রম করুন: মশার সংক্রমণ ব্যতিক্রম করতে ব্যবহৃত পানিগুলি পরিস্কার রাখুন। সরসংক্রান্ত জলগুলি বিলম্বিত করতে সাবান বা সামান্য পরিমাণে ক্লোরিন ব্যবহার করুন। পানি রাখার ব্যপারটি অনিয়মিত করে দিয়ে দিন যাতে মশার লারভা বা মসকিটো থাকার সুযোগ কমে যায়।

     

  4. মসকিটোর সংস্পর্শ থেকে বাঁচুন: মসকিটো সংক্রমিত এলাকায় থাকার সময় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ ধরনের কাপড় পরাতে পারেন যা মসকিটো সংক্রমিত স্থানের উপরে আঘাত করতে পারে। এছাড়াও, বাড়তি মশা বিহীন রাখার জন্য নেট মোস্কিটো পর্দা বা মসকিটো নেট ব্যবহার করুন।

     

  5. অস্থায়ী জন্মনেয়া পর্যবেক্ষণ করুন: ডেঙ্গু সংক্রামিত এলাকায় থাকার সময় নির্দিষ্ট জন্মনেয়া দলের সদস্যের জন্য নির্দিষ্ট কর্মচারীদের সম্পূর্ণ করোনা পরীক্ষা এবং চিকিৎসার বিধান মেনে চলুন।

এডিস মশা প্রতিরোধের উপায় কি?

মূলত এডিস মশার কামড় এড়িয়ে চলাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায়। তাই মশার আবাসস্থল ধ্বংস করে মশার বংশবিস্তার প্রতিরোধ করতে হবে। এ জন্য এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী বিভিন্ন আধারে, যেমন, কাপ, টব, টায়ার, ডাবের খোলস, গর্ত, ছাদ ইত্যাদিতে আটকে থাকা পানি অপসারণ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *