জমি বন্ধক রাখার নিয়ম । জমি বন্ধক ও বন্ধক নামা চুক্তিপত্র লিখার নিয়ম ২০২৩

জমির বন্ধক নামা লিখার নিয়ম ২০২৩ –বন্ধুরা আজকে আমরা আলোচনা করতে যাচ্ছি জমি বন্ধক কী এবং জমির বন্ধক নামা চুক্তিপত্র কীভাবে লেখা হয়।

সূচীপত্রঃ

  1.  জমি বন্ধক কী
  2.  কীভাবে জমি বন্ধক রাখা হয়
  3. জমির বন্ধকনামা চুক্তিপত্র লিখার নিয়ম

জমি বন্ধক কী

জমি বন্ধক হচ্ছে সাধারণত ঋণ নিয়ে, তার পরিশোধের মাধ্যম। ধরুন আপনার বেশ কিছু টাকার প্রয়োজন। কিন্তু কারো কাছ থেকে ঋণ নিলে আপনি তা সহজে পরিশোধ করতে পারবেন না। এক্ষেত্রে আপনি ঋণ পরিশোধের উপায় হিসেবে জমি বন্ধক রাখতে পারেন। মানে আপনি যতদিন ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারবেন ততদিন আপনার জমি উক্ত ঋণদাতা ভোগ করবে। দলিল নমুনা ফরম ২০২২ । সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল Word Format সংগ্রহ করুন।

কিভাবে জমি বন্ধক রাখা যায়
জমি বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার জন্য অবশ্যই দাতা ও গ্রহীতা উভয় পক্ষকে রাজি থাকতে হব। গ্রহীতা পক্ষ অর্থাৎ আপনি জমি বন্ধক নিতে ও এর বিনিময়ে টাকা দিতে রাজি থাকতে হবে। অপর দিকে দাতা পক্ষ মানে যে আপনার কাছ থেকে ঋণ নিবে ও জমি বন্ধক দিবে তাকে রাজি হতে হবে। অছিয়তনামা দলিলের নমুনা pdf । যে সকল কারণে অছিয়ত নামা টিকে না

শুধু উভয় পক্ষ রাজি হলেই হবে না। বর্তমানে জমি বন্ধক করে ঋণ দেওয়া ও নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম কানুন মানতে হয়। এর জন্য প্রথমেই একটি চুক্তিপত্র তৈরি করতে হয়। একে জমির বন্ধক নামা বলা হয়। জমি বন্ধকের অঙ্গিকার নামা

জমি বন্ধকনামা চুক্তিপত্র

সাধারণত চুক্তিপত্রে কি কি থাকে ও কি কি লিখতে হয় বা করতে হয় তা নিম্নে দেওয়া হলোঃ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

জমি বন্ধকনামা চুক্তিপত্র

নাম:………….……..,.  পিতা:…………………ঠিকানা:………………. জাতীয়তা- বাংলাদেশী, ধর্ম- ইসলাম, পেশা- ব্যবসা।

—-প্রথম পক্ষ / জমির মালিক/ বন্ধক দাতা॥

নাম:………….., পিতা:…………………ঠিকানা:………………. জাতীয়তা- বাংলাদেশী, ধর্ম- ইসলাম, পেশা- ব্যবসা।

—-২য় পক্ষ/ বন্ধক গ্রহীতা।

পরম করুণাময় মহান আল্লাহ তায়ালার নাম স্মরণ করিয়া অত্র বন্ধকনামা চুক্তিপত্রের আইনানুগ বয়ান আরম্ভ করিতেছি। যেহেতু প্রথম পক্ষ নিম্নে তফসিল বর্ণিত সম্পত্তির ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত হইয়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ দখল করিয়া আসিতেছি। প্রথম পক্ষের নগদ টাকার বিশেষ প্রয়োজন হইলে দ্বিতীয় পক্ষকে নিম্নে তফসিল বর্ণিত ২ দাগে ১০ (দশ) কাঠা জমি বন্ধক দেওয়ার প্রস্তাব করিলে আপনি দ্বিতীয় পক্ষ উক্ত প্রস্তাব গ্রহণ করিয়া নিম্নে তফসিল বর্ণিত ১০ (দশ) কাঠা জমি বন্ধক নিতে রাজী ও সম্মত হইয়াছেন। যেহেতু উভয় পক্ষ কতিপয় শর্ত সাপেক্ষে অত্র জমি বন্ধকনামা চুক্তিপত্রে আবদ্ধ হইলাম।

শর্তাবলী

০১। প্রথম পক্ষ/ বন্ধক দাতা দ্বিতীয় পক্ষ /বন্ধক গ্রহিতার নিকট হইতে নিম্নে তফসিল বর্ণিত ফসলি খালি জমিখানা বন্ধক রাখিয়া এককালীন নগদ ৫০,০০০.০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা উপস্থিত স্বাক্ষীগণের সামনে বুঝিয়া নিয়াছেন।
০২। যেহেতু, অত্র বন্ধকী জমিখানা ফসলী জমী, দ্বিতীয় পক্ষ/বন্ধক গ্রহিতা নিজেই ফসলাদী রোপন করিয়া তাহা ভোগ করিবেন অথবা অন্য কাহারো মাধ্যমে ফসলাদি লাগাইয়া ভোগ করিতে পারিবেন।

চলমান পাতা- ২

(পাতা-২)

০৩। যতদিন পর্যন্ত ১ম পক্ষ ২য় পক্ষকে টাকা ফেরত না দিতে পারিবে ততদিন পর্যন্ত দ্বিতীয় পক্ষ ভোগ দখল করিবে। ইহাতে ১ম পক্ষ কোন ওজর আপত্তি করিতে পারিবেন না।
০৪। ১ম পক্ষ যখন জমি বন্ধক বাবদ ৫০,০০০.০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা দ্বিতীয় পক্ষের নিকট ফেরত দিবে, ২য় পক্ষ বন্ধকী জমির দখল প্রথম পক্ষের নিকট ফেরত বুঝাইয়া দিতে বাধ্য থাকিবেন।
০৫। প্রথম পক্ষ জমি বন্ধক থাকাবস্থায় কোনও কাহারও কাছে বন্ধকী জমি হস্তান্তর করিতে পরিবেন না। যদি হস্তান্ত করে দ্বিতীয় পক্ষ আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে পারিবে।
০৪। আল্লাহ না করুন অত্র চুক্তিপত্র সম্পাদনের পর প্রথম পক্ষ/ বন্ধক দাতা মৃত্যু বরণ করিলে তাহার স্থলবর্তী ও পরবর্তী বৈধ ওয়ারিশান প্রথম পক্ষ/ বন্ধক দাতা বলিয়া গণ্য হইয়া উক্ত বন্ধকের সম্পূর্ণ টাকা ওয়ারিশগণই দ্বিতীয় পক্ষ বন্ধক গ্রহিতাকে ফেরত প্রদান করিতে বাধ্য দিবেন।
০৫। তদরূপ ২য় পক্ষ/ বন্ধক গ্রহিতার মৃত্যু হইলে তাহার ওয়ারিশ উক্ত টাকা বুঝিয়া পাইয়া উক্ত জমিটি প্রথম পক্ষ/বন্ধক দাতাকে ফেরত বুঝাইয়া দিতে বাধ্য থাকিবেন।
০৬। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, অত্র জমিটি বন্ধকীর বিষয়ে প্রথম পক্ষ /বন্ধক দাতার পরিবার বা তাহার ওয়ারিশগণ কোন প্রকার ওজর আপত্তি করিতে পারিবে না। করিলে তাহা সর্বাদালতে অগ্রাহ্য বা বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে।

চলমান পাতা- ৩

(পাতা-৩)

এতদ্বার্থে স্বেচ্ছায়, সুস্থ শরীরে সরল মনে অন্যের বিনা প্ররোচনায় অত্র ফসলী জমির বন্ধকীনামা দলিল পাঠ করিয়া উপস্থিত স্বাক্ষীগণের সামনে নিজ নাম স্বাক্ষর করিলাম।

বন্ধকী নামা দলিলের তফসিল পরিচয়ঃ

জেলা- টাংগাইল, থানা- টাংগাইল সদর, জমির দাগ নংঃ ০২, জমির পরিমাণঃ ১০ (দশ) কাঠা

প্রথম পক্ষ/ দলিল দাতার স্বাক্ষর ও তারিখঃ
১।

দ্বিতীয় পক্ষ দলিল গ্রহিতার স্বাক্ষর ও তারিখঃ
২।

স্বাক্ষীগণের নাম ও স্বাক্ষর

১।

২।

৩।

আশা করি আপনাদের জমির বন্ধকের ক্ষেত্রে আমাদের চুক্তিরপত্রটি কাজে লাগবে। আর এভাবেই জমির বন্ধক নামা চুক্তিপত্র লিখা হয়।

জমি বন্ধক রাখার নিয়ম । জমি বন্ধক ও বন্ধক নামা চুক্তিপত্র লিখার নিয়ম ২০২৩: Word File Download

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *