আয়কর রিটার্নে তাড়াহুড়া নয়, নতুন বিধান বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ; রিফান্ড আবেদনেও সতর্ক থাকার আহ্বান
২০২৬-২৭ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে নতুন করবর্ষে আয়কর আইনে একাধিক পরিবর্তন কার্যকর হওয়ায় করদাতাদের তাড়াহুড়া না করে নতুন বিধানগুলো ভালোভাবে বুঝে রিটার্ন জমা দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন কর–সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা। বিশেষ করে ৫ শতাংশ কর প্রণোদনা পাওয়ার আশায় দ্রুত রিটার্ন দাখিল কিংবা অতিরিক্ত কাটা কর (টিডিএস) ফেরতের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট শর্ত ও সম্ভাব্য প্রক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
কর–সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-২৭ করবর্ষে ই-রিটার্ন ব্যবস্থায় আয়কর আইনের বিভিন্ন নতুন বিধান সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে এসব পরিবর্তনের কিছু দিক এখনও করদাতাদের কাছে পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ফলে পর্যাপ্ত ধারণা ছাড়া রিটার্ন দাখিল করলে পরবর্তীতে জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।
৫% প্রণোদনা পাওয়ার আগে শর্ত জেনে নিন
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত সময়ের শুরুতেই রিটার্ন দাখিল করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৫ শতাংশ কর প্রণোদনা পাওয়া যাবে—এমন ধারণা সঠিক নয়। প্রণোদনা পাওয়ার জন্য আইনে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। তাই প্রণোদনার বিধান ভালোভাবে বুঝে তারপর রিটার্ন দাখিলের সিদ্ধান্ত নেওয়াই যুক্তিযুক্ত।
কর রিফান্ড চাইলে হতে পারে বিস্তারিত পর্যালোচনা
অতিরিক্ত কর কেটে নেওয়া হয়ে থাকলে অনেক করদাতা রিফান্ডের আবেদন করার পরিকল্পনা করেন। তবে এ বিষয়ে কর বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন।
তাদের মতে, রিফান্ডের আবেদন করলে কর কর্মকর্তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্ন ও নথিপত্র বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করতে পারেন। অর্থাৎ, রিফান্ড আবেদন করলে করদাতার ফাইল গভীরভাবে যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে। ফলে আয়ের উৎস, ব্যয়, সম্পদ, কর কর্তনের তথ্যসহ সব ধরনের প্রমাণপত্র সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা জরুরি।
যদি প্রয়োজনীয় দলিল-প্রমাণে কোনো ঘাটতি থাকে, তাহলে রিফান্ড প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে। তাই পর্যাপ্ত নথিপত্র প্রস্তুত থাকলেই রিফান্ড আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বর্ণের তথ্য প্রদর্শনে নতুন চ্যালেঞ্জ
নতুন করবর্ষে স্বর্ণসম্পদের তথ্য প্রদর্শন নিয়েও করদাতাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। আগে যারা স্বর্ণের তথ্য উল্লেখ করেননি, তাদের ক্ষেত্রে এবার সম্পদের হিসাব উপস্থাপনের সময় নতুন করে তথ্য সংযোজনের প্রয়োজন হতে পারে।
অন্যদিকে, পূর্ববর্তী রিটার্নে বেশি পরিমাণ স্বর্ণ দেখিয়ে থাকলে এবং এবার সেই পরিমাণ কম দেখানো হলে, তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপন করতে হতে পারে। স্বর্ণ বিক্রির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে বলে কর–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।
সম্পদ ও দায়ের হিসাব মিলিয়ে দেখা জরুরি
নতুন বিধানের আলোকে সম্পদ ও দায়ের বিবরণী যথাযথভাবে মিলিয়ে রিটার্ন প্রস্তুত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কারণ সম্পদের পরিমাণ, দায়, নগদ অর্থ, ব্যাংক হিসাব এবং অন্যান্য বিনিয়োগের তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি থাকলে ভবিষ্যতে ব্যাখ্যা দিতে হতে পারে।
অভিজ্ঞদের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ
কর বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন আইন ও ই-রিটার্ন ব্যবস্থার পরিবর্তন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা ছাড়া নিজে নিজে বা শুধুমাত্র কম্পিউটার দোকানের সহায়তায় রিটার্ন দাখিল না করাই ভালো। প্রয়োজনে নিবন্ধিত আয়কর আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা অভিজ্ঞ কর পরামর্শকের সহায়তা নিয়ে রিটার্ন প্রস্তুত করা নিরাপদ হতে পারে।
করদাতাদের জন্য পরামর্শ
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেহেতু ২০২৬-২৭ করবর্ষের রিটার্ন দাখিলের জন্য এখনও পর্যাপ্ত সময় রয়েছে, তাই তাড়াহুড়া না করে নতুন আইন, প্রণোদনার শর্ত, সম্পদ বিবরণী, রিফান্ডের নিয়ম এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে তারপর রিটার্ন দাখিল করাই হবে সবচেয়ে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত।
দ্রষ্টব্য: উপরের আলোচনায় উল্লিখিত কয়েকটি বিষয় (যেমন স্বর্ণ প্রদর্শনের বাধ্যবাধকতা, রিফান্ড আবেদন করলে ১২০ দিনের মধ্যে পর্যালোচনা এবং স্বর্ণ কম দেখালে করের বিষয়) নির্দিষ্ট আইন, বিধিমালা ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর নির্দেশনার ওপর নির্ভরশীল। করদাতাদের রিটার্ন দাখিলের আগে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা ও প্রযোজ্য আইন যাচাই করে নেওয়া উচিত।

