যমুনা ব্যাংকের মিলিয়নিয়ার স্কিম: মাসে ১,৮৬৫ টাকা জমিয়ে ১৮ বছরে ১০ লাখ টাকা
নিয়মিত অল্প অল্প করে সঞ্চয় করে ভবিষ্যতে বড় অঙ্কের অর্থ গড়তে চান—এমন গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন মেয়াদি ডিপোজিট স্কিম চালু রেখেছে জামুনা ব্যাংক পিএলসি। এর মধ্যে Millionaire Deposit Scheme-এ নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে ১০ লাখ টাকা পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মেয়াদ ও মাসিক কিস্তির পরিমাণ অনুযায়ী এই স্কিমে ৩ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১৮ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন অপশন রয়েছে।
১০ লাখ টাকা পেতে কত টাকা মাসে জমাতে হবে?
জামুনা ব্যাংকের প্রকাশিত ডিপোজিট স্কিমের তথ্য অনুযায়ী, ১০ লাখ টাকা ম্যাচিউরিটি মূল্য ধরে মাসিক কিস্তির তালিকা হলো—
| মেয়াদ | মাসিক কিস্তি | মেয়াদে মোট জমা* | ১০ লাখের সঙ্গে ব্যবধান* |
|---|---|---|---|
| ৩ বছর | ২৪,১৫০ টাকা | ৮,৬৯,৪০০ টাকা | ১,৩০,৬০০ টাকা |
| ৪ বছর | ১৭,৩৯০ টাকা | ৮,৩৪,৭২০ টাকা | ১,৬৫,২৮০ টাকা |
| ৫ বছর | ১৩,২৬০ টাকা | ৭,৯৫,৬০০ টাকা | ২,০৪,৪০০ টাকা |
| ৬ বছর | ১০,৫৩০ টাকা | ৭,৫৮,১৬০ টাকা | ২,৪১,৮৪০ টাকা |
| ৭ বছর | ৮,৫৯০ টাকা | ৭,২১,৫৬০ টাকা | ২,৭৮,৪৪০ টাকা |
| ৮ বছর | ৭,১৫৫ টাকা | ৬,৮৬,৮৮০ টাকা | ৩,১৩,১২০ টাকা |
| ১০ বছর | ৫,১৭০ টাকা | ৬,২০,৪০০ টাকা | ৩,৭৯,৬০০ টাকা |
| ১২ বছর | ৩,৮৮৫ টাকা | ৫,৫৯,৪৪০ টাকা | ৪,৪০,৫৬০ টাকা |
| ১৫ বছর | ২,৬৪৫ টাকা | ৪,৭৬,১০০ টাকা | ৫,২৩,৯০০ টাকা |
| ১৮ বছর | ১,৮৬৫ টাকা | ৪,০২,৮৪০ টাকা | ৫,৯৭,১৬০ টাকা |
*মাসিক কিস্তি × মোট মাসের সরল হিসাব। প্রকৃত মুনাফা/ম্যাচিউরিটি হিসাব ব্যাংকের প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী হবে।
ব্যাংকের প্রকাশিত নথিতে ৩ বছরের জন্য ৯.৫০ শতাংশ এবং অন্যান্য উল্লিখিত মেয়াদের জন্য ৯.০০ শতাংশ হারে সুদ/প্রভিশনাল প্রফিট এবং সংশ্লিষ্ট মাসিক কিস্তি দেখানো হয়েছে।
সবচেয়ে কম কিস্তির সুযোগ ১৮ বছরের মেয়াদে
এই স্কিমের সবচেয়ে দীর্ঘ ১৮ বছরের মেয়াদ বেছে নিলে মাসে ১,৮৬৫ টাকা করে জমা দিতে হবে। অর্থাৎ প্রতিদিনের হিসাবে গড়ে প্রায় ৬২ টাকা আলাদা করে রাখার সমান। তবে এটি কেবল দৈনিক গড় হিসেবে বোঝার হিসাব; ব্যাংকে কিস্তি মাসিক ভিত্তিতেই পরিশোধ করতে হবে।
১৮ বছরে ১,৮৬৫ টাকা করে ২১৬ মাস জমা দিলে সরল হিসাবে মোট জমা দাঁড়ায় ৪ লাখ ২ হাজার ৮৪০ টাকা। ব্যাংকের প্রকাশিত স্কিমের লক্ষ্য অনুযায়ী ম্যাচিউরিটিতে পাওয়া যাবে ১০ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, যারা অপেক্ষাকৃত কম সময়ে ১০ লাখ টাকার লক্ষ্য পূরণ করতে চান, তাদের জন্য ৩ বছরের মেয়াদে মাসিক কিস্তি ২৪,১৫০ টাকা। এই মেয়াদে মাসিক সঞ্চয়ের চাপ সবচেয়ে বেশি।
১০ বছরের পরিকল্পনায় মাসে ৫,১৭০ টাকা
মাঝারি মেয়াদের পরিকল্পনা হিসেবে ১০ বছরের অপশনটি গুরুত্বপূর্ণ। এতে মাসে ৫,১৭০ টাকা জমা দিতে হয়। ১২০ মাসে সরল হিসাবে মোট কিস্তি দাঁড়ায় ৬ লাখ ২০ হাজার ৪০০ টাকা।
অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে মাসিক কিস্তির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। ৫ বছরের ক্ষেত্রে যেখানে মাসে ১৩,২৬০ টাকা দিতে হয়, ১০ বছরের ক্ষেত্রে তা নেমে আসে ৫,১৭০ টাকায়।
১২ ও ১৫ বছরের অপশনে কিস্তি আরও কম
১২ বছরের মেয়াদে মাসিক কিস্তি ৩,৮৮৫ টাকা এবং ১৫ বছরের মেয়াদে ২,৬৪৫ টাকা। ফলে যাদের মাসিক আয় থেকে বড় অঙ্কের টাকা দীর্ঘ সময়ের জন্য আলাদা করা কঠিন, তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কিস্তি কাঠামো তুলনামূলকভাবে কম মাসিক চাপ তৈরি করে।
তবে দীর্ঘ মেয়াদ মানেই সব পরিস্থিতিতে বেশি লাভ—এমন সিদ্ধান্ত সরাসরি দেওয়া যায় না। মূল্যস্ফীতি, ভবিষ্যতের সুদ/মুনাফার হার, টাকার ক্রয়ক্ষমতা এবং দীর্ঘ সময় নিয়মিত কিস্তি দেওয়ার সক্ষমতাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
স্কিমটির মূল বৈশিষ্ট্য কী?
জামুনা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে Millionaire Deposit Scheme-কে তাদের প্রধান ডিপোজিট স্কিমগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। একই তালিকায় মাসিক সঞ্চয়, কোটিপতি, লাখপতি, ডাবল/ট্রিপল গ্রোথ, শিক্ষা, হজ, বিবাহ ও পেনশনসহ বিভিন্ন ডিপোজিট স্কিমও রয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী Millionaire Scheme-এর মূল লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট সময় ধরে নিয়মিত মাসিক কিস্তি জমার মাধ্যমে মেয়াদ শেষে ১০ লাখ টাকা পাওয়া।
কিস্তি বাছাইয়ের আগে যে বিষয়গুলো দেখবেন
একটি দীর্ঘমেয়াদি ডিপোজিট স্কিম নেওয়ার আগে শুধু মাসিক কিস্তির অঙ্ক দেখলেই হবে না। বিশেষ করে—
- কিস্তি নিয়মিত পরিশোধের সক্ষমতা আছে কি না;
- বর্তমান প্রযোজ্য সুদ/মুনাফার হার কত;
- আগাম ভাঙলে কী নিয়ম প্রযোজ্য;
- কিস্তি অনিয়মিত হলে কী হবে;
- কর ও অন্যান্য প্রযোজ্য কর্তনের নিয়ম;
- নমিনি ও হিসাব পরিচালনার শর্ত;
- ম্যাচিউরিটির অর্থ পাওয়ার পদ্ধতি
এসব বিষয় ব্যাংক থেকে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্যাংকের ওয়েবসাইটে বর্তমানে Interest Rates পেজটি হালনাগাদ করার প্রক্রিয়ায় থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। তাই কোনো পোস্ট, পুরোনো চার্ট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সর্বশেষ ব্যাংক-প্রকাশিত শর্ত যাচাই করা উচিত।
১০ লাখ টাকার লক্ষ্য—কাদের জন্য কোন মেয়াদ?
মাসিক কিস্তির দিক থেকে বিষয়টি সহজভাবে দেখলে—
৩–৫ বছর: দ্রুত ১০ লাখ টাকার লক্ষ্য, কিন্তু মাসিক কিস্তি তুলনামূলক বেশি।
৬–৮ বছর: মাঝারি মেয়াদের পরিকল্পনা; মাসিক কিস্তিও ধীরে ধীরে কমে আসে।
১০–১২ বছর: দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের জন্য তুলনামূলক কম মাসিক কিস্তি।
১৫–১৮ বছর: মাসিক চাপ সবচেয়ে কম, তবে দীর্ঘ সময় ধরে কিস্তি চালিয়ে যেতে হবে।
সুতরাং, কারও জন্য ৩ বছরের পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত হতে পারে, আবার অন্য কারও জন্য ১০ বা ১৮ বছরের পরিকল্পনা বেশি উপযোগী হতে পারে—এটি সম্পূর্ণভাবে তার আয়, ব্যয়, বয়স, আর্থিক লক্ষ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে।
শেষ কথা
জামুনা ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১০ লাখ টাকা ম্যাচিউরিটি লক্ষ্যে মাসিক কিস্তি ১,৮৬৫ টাকা থেকে শুরু করে ২৪,১৫০ টাকা পর্যন্ত, আর মেয়াদ ৩ বছর থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত।
তবে সুদের/মুনাফার হার ও ব্যাংকের শর্ত পরিবর্তন হতে পারে। তাই স্কিম খোলার আগে জামুনা ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে ম্যাচিউরিটি মূল্য, প্রযোজ্য হার, কর/কর্তন এবং আগাম ভাঙার নিয়ম নিশ্চিত করা জরুরি। ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ডিপোজিট পণ্যের তালিকাও পাওয়া যায়।
তথ্যসূত্র: জামুনা ব্যাংক PLC-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং ব্যাংকের প্রকাশিত Millionaire Deposit Scheme-এর তথ্যপত্র।

