ডায়াবেটিস রোগ ও খাদ্য

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কতটা সফল আপনি? জানিয়ে দেবে মাত্র একটি পরীক্ষা ‘HbA1c’

ডায়াবেটিস বর্তমান বিশ্বে এবং আমাদের দেশে অন্যতম প্রধান একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতিদিন সকালে বা খাওয়ার পর রক্তের শর্করা বা সুগার মেপে আমরা সাময়িক একটা ধারণা পেলেও, তা দিয়ে ডায়াবেটিসের প্রকৃত অবস্থা পুরোপুরি বোঝা যায় না। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীর শরীর গত ৩ মাসে কেমন আচরণ করেছে, তা নিখুঁতভাবে জানার একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো HbA1c (Glycated Hemoglobin) পরীক্ষা।

সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়াতে চিকিৎসকেরা বলছেন, HbA1c শুধু কোনো ল্যাবের সংখ্যা নয়; এটি মূলত গত ৯০ দিনে আপনি নিজের শরীরের কতটা যত্ন নিয়েছেন, তারই এক জীবন্ত প্রতিফলন।

HbA1c পরীক্ষা আসলে কতদিন পর পর করা উচিত?

এই পরীক্ষাটি কতদিন পর পর করতে হবে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে একজন মানুষের বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ওপর। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সময়সীমাটি নিচে দেওয়া হলো:

  • নিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস: যাদের ডায়াবেটিস নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন ও ওষুধের মাধ্যমে চমৎকার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তাদের জন্য বছরে মাত্র দুই বার (প্রতি ৬ মাসে একবার) এই পরীক্ষাটি করাই যথেষ্ট।

  • অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস বা নতুন রোগী: যাদের রক্তের সুগার ওঠানামা করছে বা যারা সম্প্রতি ডায়াবেটিসের চিকিৎসা শুরু করেছেন, তাদের প্রতি ৩ মাসে একবার HbA1c করানো জরুরি।

  • ওষুধ বা ইনসুলিন পরিবর্তন হলে: চিকিৎসকের পরামর্শে ডায়াবেটিসের ওষুধ পরিবর্তন বা ডোজ বাড়ানো-কমানো হলে, নতুন ওষুধের কার্যকারিতা বুঝতে পরিবর্তনের ঠিক ৩ মাস পর এই পরীক্ষাটি করতে হয়।

  • প্রি-ডায়াবেটিস ও পারিবারিক ইতিহাস: যাদের বর্ডারলাইন ডায়াবেটিস (প্রি-ডায়াবেটিস) আছে কিংবা পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে, তারা সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বছরে ১ বার এই পরীক্ষাটি করতে পারেন।

HbA1c-এর নরমাল রেঞ্জ বা স্বাভাবিক মাত্রা কত?

আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন (ADA) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, এই পরীক্ষার ফলাফলের তিনটি প্রধান ধাপ রয়েছে:

পরীক্ষার ফলাফল (HbA1c)শারীরিক অবস্থাকরণীয়
৫.৭% এর নিচেস্বাভাবিক (Normal)চিন্তার কিছু নেই, সুস্থ জীবনধারা বজায় রাখুন।
৫.৭% থেকে ৬.৪%প্রি-ডায়াবেটিস (Pre-diabetes)এখনই সতর্ক হতে হবে। ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।
৬.৫% বা তার বেশিডায়াবেটিস (Diabetes)অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে চিকিৎসা ও ওষুধ শুরু করতে হবে।

বিশেষ লক্ষ্যমাত্রা: যারা ইতিমধ্যে ডায়াবেটিসের রোগী, তাদের জন্য চিকিৎসাজগত বৈশ্বিকভাবে HbA1c-এর মান ৭% এর নিচে রাখাকে আদর্শ লক্ষ্যমাত্রা (Target) হিসেবে বিবেচনা করে।

সবার লক্ষ্যমাত্রা কি এক?

একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ৭% লক্ষ্যমাত্রা সবার জন্য এক নাও হতে পারে। রোগীর বয়স এবং শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসকেরা এই লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা শিথিল বা পরিবর্তন করতে পারেন। যেমন:

১. প্রবীণ বা বয়স্ক মানুষ,

২. গর্ভবতী মা,

৩. এবং যেসব রোগীর রক্তের সুগার হঠাৎ খুব বেশি কমে যাওয়ার (Hypoglycemia) প্রবণতা থাকে।

এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা রোগীর সুরক্ষার কথা চিন্তা করে লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা শিথিল (যেমন: ৭.৫% থেকে ৮%) নির্ধারণ করতে পারেন।

শেষ কথা: সুস্থতার চাবিকাঠি আপনার হাতে

ডায়াবেটিস কোনো মরণব্যাধি নয়, যদি একে সঠিক নিয়মে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। আর এই নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি হলো অবহেলা না করে নিয়মিত HbA1c পরীক্ষা করা।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ল্যাব টেস্ট, সুশৃঙ্খল ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাস এবং প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট নিয়ম করে হাঁটার অভ্যাস— এই তিনটি সাধারণ অভ্যাসই একজন ডায়াবেটিস রোগীকে সারাজীবন সম্পূর্ণ সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে পারে। আজই আপনার বা আপনার পরিবারের সদস্যদের HbA1c-এর মাত্রা জেনে নিন এবং সচেতন হোন।

admin

আলামিন মিয়া, একজন ব্লগার, ডিজিটাল মার্কেটার, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার। ব্লগিংকরছি প্রায় ৭ বছর যাবৎ। বিভিন্ন অনলাইন সেবা হাতের কাছে পেতে নির্দেশনা ও পদ্ধতি গুলো ব্যাখ্যা করা হয় যা আপনি খুব সহজেই এই ওয়েবসাইট হতে পেতে পারেন। যদি অতিরিক্ত কোন তথ্য প্রয়োজন হয় বা পরামর্শ থাকে তবে মেইল করুন admin@tricksboss.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *