সুস্থ থাকার উপায়

বাচ্চা কি পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে? মায়েদের দুশ্চিন্তা ও ডা. মাহমুদা মিতুর ‘রুল অব থ্রি’

নবজাতক বা কোলের শিশুকে নিয়ে মায়েদের চিন্তার অন্ত নেই। বিশেষ করে ‘বাচ্চা পর্যাপ্ত দুধ পাচ্ছে না’—এমন অভিযোগ প্রায় প্রতিটি ঘরেই শোনা যায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বাচ্চার ওজন ঠিক আছে, প্রস্রাবও স্বাভাবিক হচ্ছে, তবুও মা মনে করেন শিশুটি ক্ষুধার্ত। এই বিষয়টি এবং শিশুদের কিছু নির্দিষ্ট অভ্যাসের পেছনে লুকায়িত মনস্তাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন জনপ্রিয় চিকিৎসক ডা. মাহমুদা মিতু

দুধ পাচ্ছে কি না বোঝার আসল মাপকাঠি কী?

ডা. মিতুর মতে, বাচ্চা দুধ পাচ্ছে কি না তা বোঝার জন্য কান্নাকাটি বা সারাক্ষণ নিপল চুষতে চাওয়া সঠিক মাপকাঠি নয়। মায়ের প্রথম এবং প্রধান পর্যবেক্ষণ হওয়া উচিত—বাচ্চা দিনে কতবার প্রস্রাব করছে?

  • প্রস্রাবের হিসাব: যদি একটি শিশু ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১০ থেকে ১২ বার প্রস্রাব করে, তবে বুঝতে হবে সে পর্যাপ্ত বুকের দুধ পাচ্ছে।

  • ওজন বৃদ্ধি: বাচ্চার ওজন যদি আশানুরূপভাবে বৃদ্ধি পায়, তবে মায়ের ‘দুধ পায় না’ এই আশঙ্কার কোনো ভিত্তি নেই।

ডা. মিতু স্পষ্ট করেছেন যে, কান্নাকাটি করা বা সারাদিন নিপল মুখে নিয়ে থাকতে চাওয়ার সাথে দুধ না পাওয়ার কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। এটি মূলত শিশুর একটি অভ্যাস বা প্রশান্তি খোঁজার মাধ্যম মাত্র।

সতর্কতা: শিশুকে নিপলে লাগিয়ে ঘুম পাড়াবেন না

অনেক মা শিশুকে শান্ত রাখতে বা ঘুম পাড়াতে নিপল মুখে দিয়ে শুয়ে থাকেন। চিকিৎসকের মতে, এটি একটি ভুল পদ্ধতি। এর ফলে: ১. শিশু সারাদিন নিপল ধরে লেগে থাকতে চাইবে। ২. মা নিজের জন্য কোনো সময় পাবেন না, যা তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলবে।

পরামর্শ: বাচ্চাকে সবসময় বসে দুধ খাওয়ান। বাচ্চা ঘুমিয়ে গেলে তাকে আলাদা বিছানায় শুইয়ে দিন। এতে শিশু স্বাধীনভাবে ঘুমানোর অভ্যাস করবে এবং মা নিজের প্রয়োজনীয় কাজ বা বিশ্রামের সুযোগ পাবেন।

অভ্যাস গঠনে ‘রুল অব থ্রি’ (Rule of 3)

ডা. মিতু শিশুদের আচরণগত একটি বিশেষ নিয়ম উল্লেখ করেছেন, যা ‘রুল ৩’ নামে পরিচিত। যদি কোনো শিশুকে টানা তিন দিন একইভাবে কোনো কাজ করানো হয় (যেমন: পায়ে দোলানো, কোলে নিয়ে ঘোরা বা দুধ মুখে দিয়ে পাশে শুয়ে থাকা), তবে শিশুটি সেই বিষয়ে অভ্যস্ত হয়ে যায়।

পরবর্তীতে ওই নির্দিষ্ট পদ্ধতি ছাড়া শিশু আর ঘুমাতে চায় না। শুরুতে এটি আরামদায়ক মনে হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি মায়ের ব্যক্তিগত আরাম ও সময় নষ্ট করে। তাই শিশুকে অতিরিক্ত নির্ভরশীল না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য ও ‘নিজের স্পেস’

সন্তান লালন-পালনের ভিড়ে মায়েরা যেন নিজেদের হারিয়ে না ফেলেন, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এই চিকিৎসক। তিনি বলেন, “মানুষ মাত্রই তার নিজস্ব স্পেস বা ব্যক্তিগত সময়ের প্রয়োজন।”

বাচ্চা ঘুমিয়ে গেলে সেই সময়টুকু মায়ের নিজের জন্য ব্যয় করা উচিত। আয়না দেখা, সাজগোজ করা, সুরা পাঠ করা বা গান শোনার মতো ছোট ছোট কাজ মায়ের মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

উপসংহার

একটি সন্তানকে জন্ম দেওয়ার চেয়ে তাকে সঠিক শিক্ষায় ও সুস্থ পরিবেশে বড় করে তোলা অনেক বেশি কঠিন। আর এই কঠিন যাত্রায় মা যদি নিজেই সুস্থ ও হাসিখুশি না থাকেন, তবে শিশুর সঠিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। তাই বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে শিশুর খাদ্যাভ্যাস ও ঘুমের নিয়ন্ত্রণ করা এবং মায়ের নিজের যত্ন নেওয়া—উভয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

admin

আলামিন মিয়া, একজন ব্লগার, ডিজিটাল মার্কেটার, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার। ব্লগিংকরছি প্রায় ৭ বছর যাবৎ। বিভিন্ন অনলাইন সেবা হাতের কাছে পেতে নির্দেশনা ও পদ্ধতি গুলো ব্যাখ্যা করা হয় যা আপনি খুব সহজেই এই ওয়েবসাইট হতে পেতে পারেন। যদি অতিরিক্ত কোন তথ্য প্রয়োজন হয় বা পরামর্শ থাকে তবে মেইল করুন admin@tricksboss.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *