ডায়বেটিস রোগ ও খাদ্য

​ল্যাব টেস্ট বনাম হোম গ্লুকোমিটার: কেন ফলাফলে পার্থক্য হয়?

সাধারণত বাসায় ব্যবহৃত গ্লুকোমিটার এবং প্যাথলজি ল্যাবের ফলাফলে কিছুটা তারতম্য থাকে। আপনার ক্ষেত্রে বাসার মেশিনে ফাস্টিং (খালি পেটে) ৮.৫ আসলেও ল্যাবে এসেছে ৫.১১। এমনকি এক সপ্তাহ আগে আপনার RBS (র‍্যান্ডম ব্লাড সুগার) ছিল ৪.৭৬। এই তথ্যের ভিত্তিতে নিচের বিষয়গুলো বোঝা জরুরি:

​১. প্লাজমা বনাম হোল ব্লাড (Whole Blood)

​আপনি সঠিক ধরেছেন, ল্যাবরেটরিতে রক্ত থেকে রক্তকণিকা আলাদা করে কেবল প্লাজমা (Plasma) অংশ পরীক্ষা করা হয়। অন্যদিকে, বাসার গ্লুকোমিটারে সরাসরি আঙুল ফুটো করে যে রক্ত নেওয়া হয় তা হলো হোল ব্লাড। সাধারণত প্লাজমাতে গ্লুকোজের পরিমাণ হোল ব্লাডের চেয়ে ১০% থেকে ১৫% বেশি দেখানোর কথা। তবে ল্যাবের পদ্ধতি অনেক বেশি সুক্ষ্ম ও নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় সেটিকে ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ বা অধিক নির্ভরযোগ্য ধরা হয়।

​২. আপনার বর্তমান অবস্থা কি স্বাভাবিক?

​চিকিৎসা বিজ্ঞানের মানদণ্ড অনুযায়ী:

  • ল্যাব ফাস্টিং ৫.১১ mmol/L: এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক (Normal)। সাধারণত ৫.৬-এর নিচে থাকলে তাকে সুস্থ বলা হয়।
  • ল্যাব RBS ৪.৭৬ mmol/L: এটিও অত্যন্ত চমৎকার এবং স্বাভাবিক ফলাফল।

​আপনার ল্যাবের রিপোর্ট অনুযায়ী, আপনার বর্তমান গ্লুকোজ লেভেল নির্দেশ করছে যে আপনার ডায়াবেটিস নেই

​৩. বাসায় কেন বেশি আসলো? (সম্ভাব্য কারণ)

​বাসার মেশিনে ৮.৫ আসার পেছনে বেশ কিছু কারিগরি বা পারিপার্শ্বিক কারণ থাকতে পারে:

  • স্ট্রিপের গুণগত মান: স্ট্রিপ যদি অনেকদিন খোলা থাকে বা মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তবে ভুল রিডিং দিতে পারে।
  • হাতের পরিচ্ছন্নতা: আঙুলে যদি খাবারের কণা বা কোনো মিষ্টি জাতীয় পদার্থের অস্তিত্ব থাকে, তবে রিডিং অনেক বেশি আসতে পারে।
  • মেশিনের ত্রুটি: অনেক সময় গ্লুকোমিটারের ব্যাটারি দুর্বল হলে বা ক্যালিব্রেশনে সমস্যা থাকলে সঠিক ফলাফল পাওয়া যায় না।

​৪. ল্যাবের রিপোর্ট কেন সেরা?

​ল্যাবরেটরিতে রক্ত নেওয়ার পর সেটি বিশেষ রাসায়নিক (Reagent) এবং অত্যাধুনিক মেশিনের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। সেখানে পরিবেশের তাপমাত্রা এবং অন্যান্য প্রভাবক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়, যা বাসার ছোট মেশিনে সম্ভব নয়। তাই ডায়াবেটিস নিশ্চিত হওয়ার জন্য ল্যাব টেস্টের রিপোর্টই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়।

​পরামর্শ:

​১. যেহেতু ল্যাব রিপোর্টে আপনার সুগার স্বাভাবিক, তাই দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

২. বাসার গ্লুকোমিটারটি সঠিক আছে কি না তা যাচাই করতে অন্য কোনো সুস্থ ব্যক্তির রক্ত পরীক্ষা করে দেখতে পারেন অথবা নতুন স্ট্রিপ ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

৩. ভবিষ্যতে সুগার চেক করার সময় ল্যাব টেস্টকেই অগ্রাধিকার দিন, বিশেষ করে যদি বাসার মেশিনে হঠাৎ কোনো বড় পরিবর্তন দেখা দেয়।

সতর্কবার্তা: এটি একটি তথ্যমূলক বিশ্লেষণ মাত্র। যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা ওষুধের পরিবর্তনের জন্য আপনার ডাক্তারের সাথে সরাসরি পরামর্শ করুন।

admin

আলামিন মিয়া, একজন ব্লগার, ডিজিটাল মার্কেটার, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার। ব্লগিংকরছি প্রায় ৭ বছর যাবৎ। বিভিন্ন অনলাইন সেবা হাতের কাছে পেতে নির্দেশনা ও পদ্ধতি গুলো ব্যাখ্যা করা হয় যা আপনি খুব সহজেই এই ওয়েবসাইট হতে পেতে পারেন। যদি অতিরিক্ত কোন তথ্য প্রয়োজন হয় বা পরামর্শ থাকে তবে মেইল করুন admin@tricksboss.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *