ফ্যাট অ্যাডাপটেশন ও ড্রাই ফাস্টিং নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নতুন পরামর্শ, বিশেষজ্ঞদের সতর্ক থাকার আহ্বান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি “ফ্যাট অ্যাডাপটেশন” এবং “ড্রাই ফাস্টিং” (পানি ও খাবার ছাড়া নির্দিষ্ট সময় উপবাস) নিয়ে একটি খাদ্যাভ্যাসভিত্তিক পরামর্শ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই পরামর্শে দাবি করা হয়েছে, ফ্যাট অ্যাডাপটেশন হওয়ার পর সপ্তাহে ৪–৫ দিন ড্রাই ফাস্টিং বা রোজা এবং বাকি ২–৩ দিন ওয়াটার ফাস্টিং অনুসরণ করলে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যগত উপকার পাওয়া যেতে পারে।
প্রচারিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মুসলমানরা প্রচলিত নিয়মে রোজা রাখবেন এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা নিজ নিজ ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী উপবাস পালন করবেন। এতে সাহরিতে কেবল পিংক সল্ট মিশ্রিত পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে নতুনদের জন্য বিকল্প হিসেবে ঘি দিয়ে ভাজা দুটি ডিম খাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইফতারের ক্ষেত্রে আজানের পর প্রথমে একটি “হলুদ বুস্টার” গ্রহণ, এরপর নামাজ শেষে আপেল সিডার ভিনেগার, আদার রস ও লেবুর রস কুসুম গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘি বা কোল্ড-প্রেসড নারিকেল তেলের সঙ্গে বাদাম, ঘি দিয়ে ভাজা ডিম, চর্বিযুক্ত মাছ বা মাংস কিংবা কলিজা এবং অলিভ অয়েল বা সরিষার তেলে রান্না করা শাকসবজি খাওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া পর্যাপ্ত পানি, পিংক সল্ট মিশ্রিত পানি এবং প্রতিদিন একটি কচি ডাবের পানি পান করার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, উপবাস বা রোজা ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত অনুশীলনের অংশ হতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় পানি ও খাবার ছাড়া থাকা, সপ্তাহের অধিকাংশ দিন ড্রাই ফাস্টিং করা কিংবা কেবল লবণ মিশ্রিত পানি খেয়ে রোজা রাখার মতো পদ্ধতির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা সম্পর্কে শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো সীমিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে—
- ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ, উচ্চ বা নিম্ন রক্তচাপ, গর্ভাবস্থা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য এমন খাদ্যাভ্যাস ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
- দীর্ঘ সময় পানি না খেলে শরীরে পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা এবং ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
- আপেল সিডার ভিনেগার, পিংক সল্ট বা বিভিন্ন ধরনের তেল ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিভেদে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
- কোনো নতুন ফাস্টিং বা খাদ্যাভ্যাস শুরু করার আগে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ফ্যাট অ্যাডাপটেশন কী?
ফ্যাট অ্যাডাপটেশন বলতে এমন একটি শারীরবৃত্তীয় অবস্থাকে বোঝায়, যেখানে দীর্ঘ সময় কম কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের ফলে শরীর শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে চর্বি ব্যবহার করতে বেশি অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। তবে এই প্রক্রিয়া সবার ক্ষেত্রে একইভাবে ঘটে না এবং এর সময়কালও ব্যক্তি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
সতর্কতার পরামর্শ
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত যেকোনো স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ অনুসরণের আগে তার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি ড্রাই ফাস্টিং বা কঠোর খাদ্যনিয়ন্ত্রণ সবার জন্য নিরাপদ নয়। তাই ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পন্থা।

