বিডি সার্ভিস রুলস

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাসপোর্টে নতুন নিয়ম, ৯ম গ্রেড থেকে অফিসিয়াল পাসপোর্টের বিশেষ সুবিধা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে অফিসিয়াল ও সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু নিয়ে নতুন করে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণ, ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ ভ্রমণ, ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তাদের পাসপোর্ট, উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরতদের পাসপোর্ট, বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারের পাসপোর্ট এবং অফিসিয়াল পাসপোর্টের মেয়াদ—সবকিছুই নতুন পরিপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এ পরিপত্র জারি করা হয়। মন্ত্রণালয়ের নোটিশে এটি ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে। পরিপত্রটির শিরোনাম—“জিও/এনওসি’র ভিত্তিতে অফিসিয়াল/সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু প্রসঙ্গে।”

সরকারি কাজে বিদেশ গেলে অফিসিয়াল পাসপোর্ট

নতুন নির্দেশনায় সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, অধীনস্থ অফিস বা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রাজস্বখাতভুক্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণ করলে সরকারি আদেশ বা GO-এর ভিত্তিতে অফিসিয়াল পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে।

এ ক্ষেত্রে সরকারি সফরের জন্য প্রয়োজনীয় GO-ই পাসপোর্ট ইস্যুর অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। সরকারি কাজে বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী অফিসিয়াল পাসপোর্ট বিনা ফিতে ইস্যুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য বিদেশ সফর এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা

পরিপত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোর একটি হলো জাতীয় বেতন স্কেলের ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের স্থায়ী কর্মকর্তাদের বিষয়ে নির্দেশনা।

পরিপত্রে নির্ধারিত শ্রেণির এসব কর্মকর্তা ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ ভ্রমণ করলেও সরকারি আদেশ (GO) অথবা কর্তৃপক্ষের অনাপত্তি সনদ (NOC)-এর ভিত্তিতে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে অফিসিয়াল পাসপোর্ট ইস্যু করতে পারবেন।

এখানে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—

১. শুধু ৯ম বা তদূর্ধ্ব গ্রেড হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাসপোর্ট ইস্যু হবে না;
২. ব্যক্তিগত বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট GO অথবা NOC এবং পরিপত্রে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।

অন্যদিকে, যোগ্য কোনো কর্মকর্তা অফিসিয়াল পাসপোর্টের পরিবর্তে সাধারণ পাসপোর্ট নিতে চাইলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

সংসদ, সুপ্রিম কোর্টসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জন্য আলাদা বিধান

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্যও বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণ করলে GO-এর ভিত্তিতে বিনা ফিতে অফিসিয়াল পাসপোর্ট পাবেন।

আর ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ ভ্রমণ করলে সরকারি আদেশ বা কর্তৃপক্ষের NOC-এর ভিত্তিতে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে অফিসিয়াল পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে।

স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিয়ম

স্বায়ত্তশাসিত/আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষ আইন বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত কমিশন/অধিদপ্তর/কর্তৃপক্ষের জাতীয় বেতন স্কেলের ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে জারি করা GO-এর ভিত্তিতে বিনা ফিতে অফিসিয়াল পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে।

তবে ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে GO অথবা NOC-এর ভিত্তিতে নির্ধারিত ফি দিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করার বিধান রাখা হয়েছে।

এখানে সরকারি কাজে এবং ব্যক্তিগত কাজে ভ্রমণের মধ্যে পার্থক্যটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরতদের জন্যও নির্দেশনা

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োজিত এবং উন্নয়ন খাত থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও নতুন পরিপত্রে পৃথক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের GO-এর ভিত্তিতে বিনা ফিতে অফিসিয়াল পাসপোর্ট দেওয়া হবে।

অন্যদিকে ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ ভ্রমণ করতে হলে GO অথবা কর্তৃপক্ষের NOC-এর ভিত্তিতে নির্ধারিত ফি দিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে।

স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পাসপোর্ট

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণের জন্য GO-এর ভিত্তিতে বিনা ফিতে অফিসিয়াল পাসপোর্ট দেওয়া হবে।

আর ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে GO অথবা NOC-এর ভিত্তিতে নির্ধারিত ফি দিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে।

অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে

উল্লিখিত বিশেষ শ্রেণির বাইরে থাকা অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও পরিপত্রে নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে GO-এর ভিত্তিতে বিনা ফিতে অফিসিয়াল পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে।

ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে GO অথবা NOC-এর ভিত্তিতে নির্ধারিত ফি দিয়ে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে।

ফলে সরকারি চাকরিতে কর্মরত হলেই ব্যক্তিগত বিদেশ ভ্রমণের জন্য সবাই একই ধরনের অফিসিয়াল পাসপোর্ট পাবেন—এমন নয়। কর্মকর্তা বা কর্মচারীর শ্রেণি, গ্রেড, প্রতিষ্ঠান এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্য অনুযায়ী পাসপোর্টের ধরন নির্ধারিত হবে।

ব্যক্তিগত ভ্রমণে জরুরি ও অতিজরুরি সেবার সুযোগ

ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ ভ্রমণের প্রয়োজন হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুত পাসপোর্ট পাওয়ার সুবিধাও নিতে পারবেন।

GO অথবা NOC-এর ভিত্তিতে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য নির্ধারিত ফি দিয়ে জরুরি সেবা এবং জরুরি ফি দিয়ে অতিজরুরি সেবা গ্রহণ করা যাবে।

অর্থাৎ ব্যক্তিগত বিদেশ ভ্রমণের জন্য সাধারণ পাসপোর্ট প্রয়োজন হলেও দ্রুত ডেলিভারির জন্য বিদ্যমান জরুরি ও অতিজরুরি সেবার সুযোগ থাকবে।

সরকারি সফরের সঙ্গে বেসরকারি ব্যক্তি থাকলে

কোনো সরকারি সফরে বেসরকারি ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত থাকলে তার ক্ষেত্রেও পাসপোর্ট ইস্যুর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সরকারি আদেশ বা GO-এর ভিত্তিতে ওই ব্যক্তিকে সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সাধারণ ফি দিয়ে জরুরি সেবা অথবা জরুরি ফি দিয়ে অতিজরুরি সেবাও নেওয়া যাবে।

বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবার

বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনে পদায়নকৃত বা কর্মরত নন-ডিপ্লোমেটিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিবারের জন্যও নতুন পরিপত্রে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের NOC এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তাদের—

  • স্বামী বা স্ত্রী এবং
  • ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত অবিবাহিত সন্তানদের

জন্য বিনা ফিতে ৫ বছর মেয়াদি অফিসিয়াল পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিদেশস্থ মিশনে কর্মকাল শেষ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের অফিসিয়াল পাসপোর্ট সমর্পণ করতে হবে।

কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের Domestic Aide-এর পাসপোর্ট

বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনে কূটনৈতিক পদমর্যাদায় পদায়নকৃত বা কর্মরত কর্মকর্তাদের Domestic Aide-এর জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে।

সরকারি অনুমোদন এবং নির্ধারিত ফি গ্রহণ সাপেক্ষে Domestic Aide-এর অনুকূলে ৫ বছর মেয়াদি অফিসিয়াল পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে।

তবে সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক কর্মকর্তার বিদেশস্থ মিশনে কর্মকাল শেষ হলে Domestic Aide-এর অফিসিয়াল পাসপোর্টও সমর্পণ করতে হবে।

অফিসিয়াল পাসপোর্টের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছর

নতুন পরিপত্রের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অফিসিয়াল পাসপোর্টের মেয়াদ।

পরিপত্র অনুযায়ী অফিসিয়াল পাসপোর্টের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছর।

তবে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর নির্ধারিত চাকরির মেয়াদ বা অবসর/PRL-এর তারিখ যদি ১০ বছরের আগেই পড়ে, তাহলে অফিসিয়াল পাসপোর্টের মেয়াদও সেই সংশ্লিষ্ট তারিখ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হবে।

অর্থাৎ ১০ বছর সর্বোচ্চ মেয়াদ হলেও প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূর্ণ ১০ বছরের পাসপোর্ট পাবেন—এমন নয়।

PRL চলাকালে সাধারণ পাসপোর্ট নেওয়া যাবে

পরিপত্রে অবসর-পূর্ব ছুটি বা PRL-এর বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে।

কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী PRL-এ থাকা অবস্থায় তার অফিসিয়াল পাসপোর্ট পরিবর্তন করে সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণ করতে পারবেন।

ফলে চাকরির শেষ পর্যায়ে ব্যক্তিগত বিদেশ ভ্রমণের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী সাধারণ পাসপোর্ট নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

GO ও NOC যাচাইয়ে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা

পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে ভুয়া বা ভুল GO/NOC ব্যবহার ঠেকাতে যাচাই ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে একজন ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা এবং একজন বিকল্প ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নির্ধারণ করতে হবে।

তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য হিসেবে—

  • পদবি,
  • টেলিফোন নম্বর,
  • মোবাইল নম্বর,
  • ই-মেইল ঠিকানা,
  • স্বাক্ষরের নমুনা এবং
  • অফিসিয়াল সিল

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে।

ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা পরিবর্তিত হলে তথ্যও দ্রুত হালনাগাদ করতে হবে।

নতুন ব্যবস্থার ফলে পাসপোর্ট ইস্যুর আগে সংশ্লিষ্ট GO বা NOC-এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট যোগাযোগব্যবস্থা থাকবে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কী পরিবর্তন হলো?

নতুন পরিপত্রটি মূলত পাসপোর্ট ইস্যুর ক্ষেত্রে ভ্রমণের উদ্দেশ্য ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর শ্রেণিভেদে নিয়ম আলাদা করে দিয়েছে।

সহজভাবে বিষয়টি হলো—

সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণ:
GO-এর ভিত্তিতে অফিসিয়াল পাসপোর্ট এবং নির্ধারিত ক্ষেত্রে বিনা ফি।

ব্যক্তিগত কাজে বিদেশ ভ্রমণ:
কর্মকর্তা-কর্মচারীর শ্রেণি অনুযায়ী অফিসিয়াল অথবা সাধারণ পাসপোর্ট; প্রয়োজন অনুযায়ী GO/NOC এবং নির্ধারিত ফি।

৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের নির্দিষ্ট স্থায়ী কর্মকর্তা:
পরিপত্রে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে ব্যক্তিগত বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রেও অফিসিয়াল পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগ।

বিদেশস্থ মিশনের নির্দিষ্ট কর্মীদের পরিবার:
শর্তসাপেক্ষে ৫ বছর মেয়াদি অফিসিয়াল পাসপোর্ট।

অফিসিয়াল পাসপোর্ট:
সর্বোচ্চ ১০ বছর মেয়াদি, তবে চাকরি/অবসর/PRL-এর সংশ্লিষ্ট তারিখ আগে হলে সেই তারিখ পর্যন্ত।

এক নজরে পাসপোর্টের নতুন নিয়ম

ভ্রমণের ধরন/কর্মকর্তার শ্রেণিপাসপোর্টপ্রধান ভিত্তি
সরকারি কাজে রাজস্বখাতভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীঅফিসিয়ালGO
৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের নির্দিষ্ট স্থায়ী কর্মকর্তা, ব্যক্তিগত ভ্রমণঅফিসিয়ালGO/NOC + নির্ধারিত ফি
সংসদ, সুপ্রিম কোর্টসহ নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানসরকারি কাজে অফিসিয়ালGO
একই বিশেষ প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত ভ্রমণঅফিসিয়ালGO/NOC + ফি
স্বায়ত্তশাসিত/রাষ্ট্রায়ত্ত/স্থানীয় প্রতিষ্ঠানসরকারি কাজে অফিসিয়ালGO
এসব প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত ভ্রমণসাধারণGO/NOC + ফি
উন্নয়ন প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীসরকারি কাজে অফিসিয়ালGO
উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যক্তিগত ভ্রমণসাধারণGO/NOC + ফি
স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসরকারি কাজে অফিসিয়ালGO
ব্যক্তিগত ভ্রমণসাধারণGO/NOC + ফি
বিদেশস্থ নন-ডিপ্লোমেটিক কর্মীর পরিবারঅফিসিয়ালNOC + শর্ত
Domestic Aideঅফিসিয়ালসরকারি অনুমোদন + শর্ত

পরিপত্র কার্যকর

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয়েছে, এটি জারির তারিখ থেকেই কার্যকর হবে। মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল নোটিশ তালিকায় পরিপত্রটি ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত হয়েছে। একই মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালে অফিসিয়াল পাসপোর্ট থেকে সাধারণ পাসপোর্টে পরিবর্তন সংক্রান্ত পৃথক আদেশও প্রকাশিত হয়েছে, যা দেখায় যে অফিসিয়াল ও সাধারণ পাসপোর্টের ধরন পরিবর্তনের বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে পৃথক প্রক্রিয়ার আওতায় রয়েছে।

শেষ কথা

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন পরিপত্রের মূল বার্তা হলো—বিদেশ ভ্রমণের উদ্দেশ্য, কর্মকর্তা-কর্মচারীর গ্রেড ও কর্মস্থলের ধরন অনুযায়ী পাসপোর্টের ধরন নির্ধারণ করা হবে। সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য অফিসিয়াল পাসপোর্টের সুবিধা থাকলেও ব্যক্তিগত ভ্রমণের ক্ষেত্রে সবার জন্য একই নিয়ম নয়। বিশেষ করে ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের নির্দিষ্ট স্থায়ী কর্মকর্তা, সংসদ-সুপ্রিম কোর্টসহ নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনের কর্মীদের জন্য আলাদা বিধান রয়েছে।

তাই পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, পদ/গ্রেড, প্রতিষ্ঠান, GO বা NOC এবং পরিপত্রের প্রযোজ্য অনুচ্ছেদ যাচাই করা প্রয়োজন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের পাসপোর্ট-সংক্রান্ত নীতিমালা ও পরিপত্রের জন্য পৃথক অনলাইন বিভাগও রেখেছে।

সোর্স

admin

আলামিন মিয়া, একজন ব্লগার, ডিজিটাল মার্কেটার, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার। ব্লগিংকরছি প্রায় ৭ বছর যাবৎ। বিভিন্ন অনলাইন সেবা হাতের কাছে পেতে নির্দেশনা ও পদ্ধতি গুলো ব্যাখ্যা করা হয় যা আপনি খুব সহজেই এই ওয়েবসাইট হতে পেতে পারেন। যদি অতিরিক্ত কোন তথ্য প্রয়োজন হয় বা পরামর্শ থাকে তবে মেইল করুন admin@tricksboss.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *