সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ ও পরিচালনায় নতুন বিধান, গেজেটে প্রকাশ ২০২৬ সালের অধ্যাদেশ
দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনসংক্রান্ত কার্যক্রমকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬ প্রকাশ করা হয়েছে। গত ১৯ অক্টোবর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত সরকারি নথিতে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, বিনিয়োগ, পরিচালনা, নেট মিটারিং এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নতুন এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অর্থায়ন ও পরিচালনার ধরন, সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কারণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগকারীদের কাছে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে অধ্যাদেশ প্রকাশের অর্থ এই নয় যে সব সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প ইতোমধ্যে চালু হয়েছে কিংবা প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে অবিলম্বে সৌর প্যানেল স্থাপন করতে হবে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট বিধান, অনুমোদন, চুক্তি ও কারিগরি প্রস্তুতির ওপর।
সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে আইনি কাঠামোর গুরুত্ব
সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুধু প্যানেল স্থাপন করলেই কার্যক্রম শেষ হয় না। এর সঙ্গে অর্থায়ন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, স্থাপনা নির্বাচন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ, গ্রিডে সংযোগ এবং উৎপাদিত বিদ্যুতের হিসাব সমন্বয়ের মতো বিষয় যুক্ত থাকে।
বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠানের ছাদে তৃতীয় পক্ষের বিনিয়োগে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা হলে প্রকল্পের মালিকানা, পরিচালনাগত দায়িত্ব, বিদ্যুতের মূল্য এবং রক্ষণাবেক্ষণের শর্ত স্পষ্ট থাকা প্রয়োজন।
গেজেটে প্রকাশিত অধ্যাদেশে এসব কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন পরিভাষা ও বাস্তবায়নব্যবস্থার উল্লেখ রয়েছে। ফলে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দায়িত্ব ও চুক্তির শর্ত নির্ধারণের ক্ষেত্রে অধ্যাদেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ওপেক্স ও ক্যাপেক্স—দুই ধরনের বিনিয়োগব্যবস্থা
অধ্যাদেশে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অর্থায়ন ও ব্যয় ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো অপারেশনাল এক্সপেনডিচার বা ওপেক্স এবং ক্যাপিটাল এক্সপেনডিচার বা ক্যাপেক্স।
ওপেক্স মডেলে কীভাবে কাজ করবে?
ওপেক্স মডেলে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও পরিচালনার জন্য অর্থায়নের দায়িত্ব নিতে পারে। চুক্তির ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য অর্থ পরিশোধ করতে হতে পারে।
এই মডেলের সম্ভাব্য সুবিধা হলো, বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানকে শুরুতেই পুরো স্থাপনার মূলধনী ব্যয় বহন করতে নাও হতে পারে। তবে বিদ্যুতের মূল্য, চুক্তির মেয়াদ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য আর্থিক শর্ত সংশ্লিষ্ট চুক্তির ওপর নির্ভর করবে।
ক্যাপেক্স মডেলের বৈশিষ্ট্য
ক্যাপেক্স মডেলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় মূলধনী বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান নিজেই বহন করে। এ ক্ষেত্রে যন্ত্রপাতি কেনা, স্থাপন এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনার ব্যয় পরিকল্পনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
যেসব প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে আগ্রহী, তাদের জন্য এ ধরনের মডেল প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তবে বিনিয়োগের পরিমাণ, সম্ভাব্য সাশ্রয় এবং বিনিয়োগ ফেরত পাওয়ার সময় নির্ধারণ করতে প্রকল্পভিত্তিক হিসাব প্রয়োজন।
মূল পার্থক্য: ওপেক্স মডেলে সেবাদাতার অর্থায়ন ও পরিচালনাগত দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ, আর ক্যাপেক্স মডেলে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব মূলধনী বিনিয়োগ মুখ্য।
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা
বাংলাদেশে সরকারি অফিস, বাণিজ্যিক ভবন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য উপযুক্ত স্থাপনার ছাদ ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। এ ধরনের স্থাপনায় উপযুক্ত পরিকল্পনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে প্রচলিত বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।
অধ্যাদেশে ‘ছাদ’ ও ‘উপযুক্ত স্থান’-এর মতো পরিভাষার উল্লেখ রয়েছে। তবে কোনো স্থানে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা যাবে কি না, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধান, স্থাপনার অবস্থা, অনুমোদন এবং কারিগরি উপযোগিতা বিবেচনা করতে হবে।
ছাদভিত্তিক প্রকল্পের ক্ষেত্রে ভবনের কাঠামোগত সক্ষমতা, প্যানেল স্থাপনের জায়গা, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু অব্যবহৃত ছাদ থাকলেই একটি প্রকল্প আর্থিকভাবে লাভজনক হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
নেট মিটারিং ব্যবস্থায় কী সুবিধা পাওয়া যেতে পারে?
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সঙ্গে নেট মিটারিংয়ের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী গ্রাহকের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন এবং গ্রিড থেকে ব্যবহৃত বিদ্যুতের হিসাব সমন্বয় করা হয়।
কোনো প্রতিষ্ঠানের সৌর প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ তার নিজস্ব চাহিদার চেয়ে বেশি হলে নির্ধারিত নিয়ম ও অনুমোদনের ভিত্তিতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ থাকতে পারে।
এতে উৎপাদিত বিদ্যুতের ব্যবহার এবং গ্রিড থেকে নেওয়া বিদ্যুতের হিসাব আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হতে পারে। তবে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের বিনিময়ে কত টাকা পাওয়া যাবে, কীভাবে বিল সমন্বয় হবে কিংবা কোন গ্রাহক কী সুবিধা পাবেন—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট বিধান ও প্রযোজ্য ট্যারিফের ওপর নির্ভরশীল।
অতএব, নেট মিটারিংকে সব গ্রাহকের জন্য নিশ্চিত আর্থিক আয়ের ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নে দরপত্র ও চুক্তির ভূমিকা
সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে সেবাদাতা নির্বাচন, যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। গেজেটে প্রকাশিত নথিতে দরপত্র পদ্ধতি, ইলেকট্রনিক সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা বা ই-জিপি এবং চুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোর উল্লেখ রয়েছে।
এ ধরনের প্রকল্পে দরপত্রের শর্ত, সেবাদাতার যোগ্যতা, আর্থিক সক্ষমতা এবং কারিগরি দক্ষতা বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রকল্পের মূল্য, কাজ শেষ করার সময়, যন্ত্রপাতির মান এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব চুক্তিতে স্পষ্ট থাকা জরুরি।
তবে কোন প্রকল্পে কোন দরপত্র পদ্ধতি বাধ্যতামূলক হবে, তা নির্ধারণের জন্য অধ্যাদেশের সংশ্লিষ্ট ধারা এবং প্রযোজ্য ক্রয়বিধি অনুসরণ করতে হবে।
সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব কেন গুরুত্বপূর্ণ?
সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করে সঠিক নকশা, মানসম্মত যন্ত্রপাতি, দক্ষ স্থাপন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর।
বিশেষ করে ওপেক্স মডেলে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রকল্পের ধরন ও চুক্তি অনুযায়ী স্থাপন, পরিচালনা, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ এবং উৎপাদনসংক্রান্ত কার্যক্রমের দায়িত্ব নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানকে স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা করতে হবে।
এ কারণে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রে শুধু প্রাথমিক স্থাপন ব্যয় নয়, পুরো ব্যবস্থার কার্যকর আয়ুষ্কাল এবং পরিচালনাগত ব্যয়ও বিবেচনা করা জরুরি।
বিদ্যুৎ খাতে সম্ভাব্য প্রভাব
সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য সুসংগঠিত আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামো থাকলে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রকল্প পরিকল্পনা সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের বিদ্যুৎ ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী উপযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা নির্বাচন করার সুযোগ পেতে পারে।
সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়লে দিনের বেলায় নির্দিষ্ট স্থাপনার নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সহায়তা পাওয়া সম্ভব। এর ফলে উপযুক্ত ক্ষেত্রে গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ কেনার প্রয়োজন কমতে পারে।
তবে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি আমদানি কিংবা বিদ্যুৎ খরচে কতটা পরিবর্তন আসবে, তা নির্ভর করবে বাস্তবে কতগুলো প্রকল্প স্থাপন করা হয়, কত বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় এবং উৎপাদিত বিদ্যুতের কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়—তার ওপর।
অধ্যাদেশ প্রকাশের পরপরই এসব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিমাণ সাশ্রয় বা উৎপাদন বৃদ্ধির দাবি করার মতো তথ্য নথিতে পাওয়া যায় না।
সাধারণ গ্রাহক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর করণীয়
সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে তাদের স্থাপনার উপযোগিতা যাচাই করতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ, বিদ্যুতের চাহিদা, যন্ত্রপাতির মান, রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় এবং সম্ভাব্য সাশ্রয়ের হিসাব করা প্রয়োজন।
প্রকল্পের অর্থায়নের ধরন অনুযায়ী ওপেক্স বা ক্যাপেক্স মডেল বিবেচনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি গ্রিড সংযোগ ও নেট মিটারিংয়ের সুযোগ থাকলে তার জন্য প্রযোজ্য নিয়ম এবং অনুমোদনের শর্ত যাচাই করা উচিত।
সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, ক্রয়প্রক্রিয়া এবং প্রযোজ্য প্রশাসনিক বিধান অনুসরণ করা প্রয়োজন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও চুক্তির শর্ত ও কারিগরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে চূড়ান্ত সুফল
বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬ প্রকাশের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে একটি পৃথক আইনি কাঠামো সামনে এসেছে। এর আওতায় বিনিয়োগ, পরিচালনা, নেট মিটারিং, সেবাদাতা নির্বাচন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে অধ্যাদেশের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে এর বিধান প্রয়োগ, প্রকল্প অনুমোদন, বিনিয়োগের প্রাপ্যতা, চুক্তির কার্যকারিতা এবং সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনার ওপর।
সার্বিকভাবে, নতুন অধ্যাদেশকে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও পরিচালনার আইনি কাঠামোসংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যায়। তবে এর মাধ্যমে প্রত্যেক গ্রাহকের জন্য বাধ্যতামূলক সৌর প্যানেল স্থাপন, নির্দিষ্ট আর্থিক সুবিধা কিংবা সব প্রকল্পের জন্য একই শর্ত চালু হয়েছে—এমন দাবি করার আগে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো যাচাই করা প্রয়োজন।
সূত্র: বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত সংখ্যা, ১৯ অক্টোবর ২০২৬; বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬।

