সড়ক পরিবহন বিধিমালায় বড় পরিবর্তন, গাড়ির সামনের নম্বরপ্লেট নিয়েও নতুন নির্দেশনা
সড়ক পরিবহন খাতে যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের নিয়মে পরিবর্তন এনে সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ সংশোধন করেছে সরকার। এ বিষয়ে ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ গেজেটের একটি অতিরিক্ত সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। সংশোধিত বিধানে মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শন, মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বর প্রদর্শনের পদ্ধতি এবং নম্বরপ্লেটের বিন্যাসসংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
সরকারের প্রকাশিত গেজেটের তথ্য অনুযায়ী, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিএ-সংক্রান্ত শাখা থেকে এই সংশোধনী প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর আওতায় প্রণীত সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর কয়েকটি বিধান সংশোধন করা হয়েছে।
নতুন এই সংশোধনের ফলে যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিয়মের পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নম্বরপ্লেটের বিন্যাস ও স্থাপনপদ্ধতি নিয়ে নতুন নির্দেশনা যুক্ত হয়েছে।
গেজেটে কী বলা হয়েছে?
প্রকাশিত গেজেটে সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধনের কথা উল্লেখ রয়েছে। সংশোধনীতে বিশেষভাবে মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের পদ্ধতি এবং মোটরসাইকেলের সম্মুখভাগে রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেখানোর বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গেজেটের পাঠ অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের সামনের অংশে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদ্ধতির পাশাপাশি নম্বরটি একটি আনুভূমিক রেখায় লেখার অনুমতি দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও বিধিতে বর্ণিত শর্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া নম্বরপ্লেটে ব্যবহৃত অক্ষর, সংখ্যা, যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশক চিহ্ন এবং সংশ্লিষ্ট বিন্যাসের বিষয়েও সংশোধিত বিধানে নির্দেশনা রয়েছে।
তবে সংশোধনীতে উল্লিখিত প্রতিটি বিধান সংশ্লিষ্ট যানবাহনের ক্ষেত্রে কীভাবে কার্যকর হবে, তা নির্ধারণের জন্য গেজেটের সম্পূর্ণ পাঠ এবং প্রযোজ্য নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন।
গাড়ির সামনে নম্বরপ্লেট নিয়ে কী পরিবর্তন?
যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর সঠিকভাবে প্রদর্শন সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নম্বরপ্লেটের মাধ্যমে কোনো গাড়ি বা মোটরসাইকেল শনাক্ত করা যায়। ট্রাফিক আইন প্রয়োগ, যানবাহনের নিবন্ধন যাচাই এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা রয়েছে।
সংশোধিত বিধিমালায় মোটরসাইকেলের সম্মুখভাগে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের পদ্ধতি নিয়ে নির্দিষ্ট বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গেজেটের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত শর্তে নম্বরটি আনুভূমিকভাবে লেখার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।
এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি: গেজেটের এই বিধানকে সব ধরনের গাড়ির সামনের নম্বরপ্লেট নিয়ে সম্পূর্ণ নতুন বাধ্যবাধকতা হিসেবে ব্যাখ্যা করার আগে সংশ্লিষ্ট উপবিধির পূর্ণাঙ্গ পাঠ যাচাই করা প্রয়োজন। মোটরসাইকেলের সম্মুখভাগে নম্বর প্রদর্শনসংক্রান্ত বিধান এবং সাধারণ মোটরযানের নম্বরপ্লেট স্থাপনের নিয়ম এক বিষয় নয়।
তাই গাড়ির মালিক ও চালকদের জন্য সংশোধিত বিধিমালার প্রযোজ্য অংশ অনুসরণ করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট প্রদর্শনে নতুন নির্দেশনা
বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে সামনের অংশে নম্বর কীভাবে প্রদর্শন করতে হবে, নম্বরের বিন্যাস কেমন হবে এবং কোন পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য—এসব বিষয়ে চালকদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা যায়।
নতুন সংশোধনীতে মোটরসাইকেলের সম্মুখভাগে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিন্যাসের পাশাপাশি আনুভূমিকভাবে নম্বর লেখার অনুমোদন দেওয়ার সুযোগের কথা বলা হয়েছে।
তবে এই সুযোগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব মোটরসাইকেলের জন্য প্রযোজ্য—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। গেজেটে বর্ণিত শর্ত, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং কার্যকর বিধান অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।
মোটরসাইকেলের মালিকদের নম্বরপ্লেট পরিবর্তন বা নতুনভাবে স্থাপনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা জেনে নেওয়া উচিত।
কেন এই সংশোধন গুরুত্বপূর্ণ?
যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর দৃশ্যমান ও সঠিকভাবে প্রদর্শিত হলে যানবাহন শনাক্ত করা সহজ হয়। একই সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, আইন প্রয়োগ এবং নিবন্ধনসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের কাজেও সুবিধা পাওয়া যায়।
সংশোধিত বিধিমালার কয়েকটি সম্ভাব্য গুরুত্ব হলো—
১. যানবাহন শনাক্তকরণ সহজ করা: রেজিস্ট্রেশন নম্বর যথাযথভাবে প্রদর্শিত হলে সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের পরিচয় শনাক্ত করা সহজ হয়।
২. নম্বরপ্লেটের বিন্যাসে স্পষ্টতা: নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নম্বর প্রদর্শনের পদ্ধতি সম্পর্কে বিধান থাকলে যানবাহনের মালিকদের জন্য নিয়ম অনুসরণ করা সহজ হতে পারে।
৩. মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে নির্দেশনা: সামনের অংশে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের পদ্ধতি নিয়ে সংশোধিত বিধান থাকায় সংশ্লিষ্ট মালিকদের নিয়ম সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
৪. আইন প্রয়োগে সহায়তা: সঠিকভাবে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শন যানবাহন শনাক্তকরণ এবং ট্রাফিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
গাড়ির মালিক ও চালকদের এখন কী করা উচিত?
সংশোধনী গেজেট প্রকাশের পর গাড়ি ও মোটরসাইকেলের মালিকদের প্রথম কাজ হলো নিজেদের যানবাহনের ক্ষেত্রে কোন বিধান প্রযোজ্য, তা নিশ্চিত হওয়া।
এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে নতুন বিন্যাস গ্রহণ করতে চাইলে অনুমোদন ও নির্ধারিত শর্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের ভিত্তিতে নম্বরপ্লেট পরিবর্তন করা উচিত নয়। কারণ, গেজেটে কোনো পদ্ধতির অনুমতি দেওয়ার বিধান থাকলেই সেটি সব যানবাহনের জন্য বাধ্যতামূলক হয়ে যায় না।
একইভাবে, সংশোধিত বিধান কার্যকর হওয়ার তারিখ, প্রয়োগের ক্ষেত্র এবং কোনো অতিরিক্ত নির্দেশনা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও সংশ্লিষ্ট সরকারি বিজ্ঞপ্তি থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
নতুন বিধান কার্যকর হবে কীভাবে?
গেজেটে সংশোধিত বিধান কার্যকর করার বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। তবে কোনো বিধানের প্রয়োগক্ষেত্র ও বাস্তবায়নপদ্ধতি বুঝতে সংশ্লিষ্ট উপবিধি, শর্ত এবং প্রযোজ্য নির্দেশনা একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে নম্বরপ্লেটের আকার, অবস্থান, অক্ষর ও সংখ্যার বিন্যাস কিংবা অনুমোদিত পদ্ধতির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাই অনুসরণযোগ্য।
গেজেটের দৃশ্যমান অংশ থেকে সব ধরনের গাড়ির সামনের নম্বরপ্লেট নিয়ে অভিন্ন নতুন বাধ্যবাধকতা কিংবা সব মোটরসাইকেলের জন্য নির্দিষ্ট একটি পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছে না। তাই এ বিষয়ে অতিরিক্ত দাবি না করে সরকারি বিধানের পূর্ণাঙ্গ পাঠের ওপর নির্ভর করা উচিত।
শেষ কথা
সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২ সংশোধন করে সরকার যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের পদ্ধতি নিয়ে নতুন বিধান যুক্ত করেছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেলের সম্মুখভাগে নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্তে আনুভূমিকভাবে নম্বর লেখার অনুমতির বিষয়টি সংশোধনীর উল্লেখযোগ্য দিক।
তবে নতুন নিয়মের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে গাড়ির মালিক, মোটরসাইকেল চালক এবং সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত গেজেটের পূর্ণাঙ্গ পাঠ ও সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা। এতে ভুল ব্যাখ্যা, অপ্রয়োজনীয় নম্বরপ্লেট পরিবর্তন এবং বিধান প্রয়োগ নিয়ে বিভ্রান্তি এড়ানো সম্ভব হবে।


মন্তব্য (০)