ব্যাংক খাতে বড় সংস্কার ২০২৬ । আমানতকারীর সুরক্ষা ও সংকট মোকাবিলায় ‘ব্যাংক রেজোলিউশন বিল-২০২৬’ পাস
দেশের ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘ব্যাংক রেজোলিউশন বিল-২০২৬’। শনিবার স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। এই আইনের ফলে এখন থেকে কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হলে বা চরম তারল্য সংকটে পড়লে, তা দ্রুত পুনর্গঠন বা সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার আইনি ভিত্তি তৈরি হলো।
শক্তিশালী হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক
নতুন এই আইনের ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। এখন থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো দুর্বল ব্যাংকের সম্পদ, দায় ও সামগ্রিক কার্যক্রম অন্য কোনো লাভজনক ব্যাংকে স্থানান্তর বা পুনর্গঠন করার বিশেষ ক্ষমতা পাবে। সংকটে পড়া ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনে প্রশাসক নিয়োগ, শেয়ার হস্তান্তর এবং প্রয়োজনে ‘ব্রিজ ব্যাংক’ (অস্থায়ী ব্যাংক) গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে এই আইনে।
কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা
বিলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো ব্যাংক জালিয়াতি বা অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত পরিচালক ও কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা। যদি কোনো ব্যাংক জালিয়াতির কারণে সংকটে পড়ে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদ বা ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। এটি ব্যাংকিং খাতে সুশাসন ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
আমানতকারীদের সুরক্ষা ও আস্থা
আমানতকারীরা সাধারণত ব্যাংক সংকটে পড়লে আতঙ্কিত হয়ে অর্থ উত্তোলন শুরু করেন, যা সংকটকে আরও ঘনীভূত করে। ‘ব্যাংক রেজোলিউশন বিল-২০২৬’ নিশ্চিত করছে যে, ব্যাংক একীভূত বা পুনর্গঠিত হলেও আমানতকারীর অর্থ সুরক্ষিত থাকবে। এটি পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর জনগণের আস্থা পুনরায় ফিরিয়ে আনার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইনটির মূল প্রভাবসমূহ একনজরে:
দ্রুত সমাধান: দুর্বল ব্যাংকগুলোকে দীর্ঘকাল ধুঁকতে না দিয়ে দ্রুত উদ্ধার বা পুনর্গঠন করা সম্ভব হবে।
তারল্য সংকট নিরসন: আন্তঃব্যাংক লেনদেন ও তারল্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ফিরবে।
সুশাসন প্রতিষ্ঠা: জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে অনিয়ম হ্রাসে সহায়ক হবে।
বিশ্লেষকদের অভিমত: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আইনটি ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা আনতে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। তবে এর প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ প্রয়োগের ওপর। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে যদি স্বচ্ছতার সাথে এই আইনের বাস্তবায়ন করা যায়, তবে বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা বিশ্বমানের আধুনিক কাঠামোতে রূপান্তর হবে।
উপসংহার: ব্যাংক রেজোলিউশন বিল-২০২৬ পাস হওয়া কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, এটি দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার একটি সাহসী পদক্ষেপ। সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে এটি ব্যাংকিং খাতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে পারে।

