আয়কর ফাইল অডিটে পড়লে ভয় নেই, জেনে নিন আপনার করণীয়
অনেক করদাতার মনেই আয়কর অডিট বা কর ফাইল যাচাই-বাছাই নিয়ে এক ধরনের ভীতি কাজ করে। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং কর বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নথিপত্র এবং স্বচ্ছতা থাকলে অডিট নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। মূলত আয়ের তথ্যে অসামঞ্জস্য থাকলে বা দৈবচয়ন ভিত্তিতে কর ফাইল অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়।
সম্প্রতি করদাতাদের সচেতন করতে আয়কর অডিটে পড়লে করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আপনার কর ফাইলটি যদি অডিটের জন্য নির্বাচিত হয়, তবে প্রতিকূল পরিস্থিতি এড়াতে নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করা জরুরি:
১. নোটিশটি গুরুত্বের সাথে পড়ুন
অডিটের জন্য ডাকা হলে প্রথমেই আপনাকে পাঠানো নোটিশটি মনযোগ দিয়ে পড়ুন। কোন করবর্ষের জন্য অডিট করা হচ্ছে, কোন নির্দিষ্ট তথ্যের ঘাটতি পাওয়া গেছে এবং কেন অডিটে ডাকা হয়েছে—সেসব বিষয় আগেই পরিষ্কার বুঝে নিন।
২. সময়মতো সাড়া দিন
নোটিশে উল্লেখিত নির্ধারিত তারিখের মধ্যে জবাব দেওয়া বা সশরীরে উপস্থিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। কোনো কারণে যদি সময়ের প্রয়োজন হয়, তবে লিখিতভাবে সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে হবে। সময়ক্ষেপণ করলে বিষয়টি আপনার বিপক্ষে যেতে পারে।
৩. প্রয়োজনীয় নথিপত্র গুছিয়ে রাখুন
অডিটের শুনানির সময় প্রমাণের জন্য কিছু মৌলিক কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
দাখিলকৃত রিটার্নের কপি।
পূর্ণাঙ্গ আয়-ব্যয়ের হিসাব।
ব্যাংক স্টেটমেন্ট (সংশ্লিষ্ট করবর্ষের)।
বেতনভুক্তদের জন্য বেতন সনদ।
জমি বা ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয়ের দলিল (যদি থাকে)।
এফডিআর (FDR) বা ডিপিএস (DPS)-এর কাগজপত্র।
ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় হিসাবপত্র।
৪. তথ্যের মিল যাচাই করুন
রিটার্নে আপনি যে তথ্য দিয়েছেন, তার সাথে আপনার হাতের থাকা মূল দলিলের মিল আছে কি না তা আগেই মিলিয়ে নিন। যদি কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়ে থাকে, তবে তার পক্ষে যৌক্তিক ও সত্য ব্যাখ্যা প্রস্তুত রাখুন।
৫. পেশাদার আচরণ বজায় রাখুন
অডিট প্রক্রিয়ার সময় দায়িত্বরত কর কর্মকর্তার সাথে মার্জিত ও সহযোগিতামূলক আচরণ করুন। অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়িয়ে চলে কেবল যা জানতে চাওয়া হয়েছে, তার সঠিক তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন করুন।
৬. বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন
যদি অডিটের বিষয়টি জটিল মনে হয় বা আপনি আইনি দিকগুলো বুঝতে না পারেন, তবে একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA) অথবা নিবন্ধিত ইনকাম ট্যাক্স প্র্যাকটিশনারের (ITP) সহায়তা নিতে পারেন। এটি আপনার আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
ভবিষ্যতের জন্য সতর্কতা
অডিট শেষ হয়ে গেলেও নিয়মিত আয়ের রেকর্ড সংরক্ষণ করার অভ্যাস বজায় রাখতে হবে। অভিজ্ঞ লোক বা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে রিটার্ন সাবমিট করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের অডিট ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়কর প্রদান করা নাগরিকের দায়িত্ব। স্বচ্ছতার সাথে তথ্য প্রদান করলে অডিট প্রক্রিয়াটি করদাতার জন্য একটি স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।

