ফুটপাত থেকে ক্যাশলেস বিপ্লব ২০২৬ । ডিজিটাল লেনদেনে শেফালী দাসের অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা শুরু?
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা মতিঝিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঠিক সামনেই ফুটপাতে বসে পুরোনো জুতো মেরামত আর পালিশের কাজ করেন শেফালী দাস। সাধারণ চোখে এটি একটি অতি সাধারণ দৃশ্য মনে হলেও, শেফালীর কাজের ধরণটি আর সাধারণ দশজন কারিগরের মতো নয়। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় তিনি নিজের ছোট্ট দোকানটিকে রূপান্তর করেছেন এক আধুনিক ডিজিটাল পেমেন্ট পয়েন্টে।
প্রযুক্তিতে কোনো বাধা নেই
যেখানে অনেক বড় বড় ব্যবসায়ী এখনো ডিজিটাল লেনদেনে অভ্যস্ত হতে হিমশিম খাচ্ছেন, সেখানে শেফালী দাস এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। তার দোকানে এখন সারিবদ্ধভাবে রাখা আছে বিকাশ (bKash), নগদ (Nagad), রকেট (Rocket), ভিসা (Visa) এবং সর্বজনীন ‘বাংলা কিউআর’ (Bangla QR) কোড। মাত্র ১০ বা ২০ টাকার ক্ষুদ্র সেবার বিনিময়েও গ্রাহকরা এখন অনায়াসেই তাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পেমেন্ট করতে পারছেন।
ক্ষুদ্র কারিগরের বিশাল উদ্যোগ
ডিজিটালাইজেশনের এই যুগে প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পিছিয়ে নেই শেফালী। নিজের উদ্যোগেই তিনি এই আধুনিক পেমেন্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তার এই উদ্যোগে মুগ্ধ পথচারী ও গ্রাহকরা। অনেক গ্রাহক জানান, খুচরা টাকার ঝামেলা এড়াতে এই কিউআর কোড পেমেন্ট তাদের জন্য অনেক সুবিধাজনক হয়েছে। শেফালী দাসের এই সাহসী পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে, সুযোগ পেলে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষও প্রযুক্তির সুফল গ্রহণে পিছপা হয় না।
স্মার্ট বাংলাদেশের পথে এক অনুপ্রেরণা
সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে যখন স্মার্ট ইকোনমি বা ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ার কাজ চলছে, তখন শেফালী দাসের মতো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সেই লক্ষ্য পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করছেন। তার এই ডিজিটাল পদযাত্রা শুধু তার একার সাফল্য নয়, বরং এটি ডিজিটাল বাংলাদেশের এক অনুপ্রেরণামূলক গল্প। এটি একটি নীরব বার্তা—প্রযুক্তি সবার জন্য, যদি সেটি ব্যবহারের মানসিকতা থাকে।
উপসংহার
মতিঝিলের এই ফুটপাত এখন আর শুধু জুতো মেরামতের জায়গা নয়, বরং ডিজিটাল অগ্রযাত্রার এক ক্ষুদ্র কেন্দ্রবিন্দু। শেফালী দাসের এই গল্পটি আমাদের শেখায় যে, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে পেশা বা অবস্থান কোনো বাধা নয়। তার এই ছোট উদ্যোগটি আজ অনেকের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

