বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজিরবিহীন উদ্যোগ 2026 । সচিবালয়ে নিজের কক্ষের অর্ধেক এসি ও লাইট বন্ধের নির্দেশ?
দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অপচয় রোধে কঠোর অবস্থান নিয়ে তিনি বাংলাদেশ সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের ২০১ নম্বর কক্ষে অবস্থিত নিজ কার্যালয়ের ৫০ শতাংশ বৈদ্যুতিক বাতি (লাইট) এবং ৫০ শতাংশ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে এই অভাবনীয় সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন।
মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রতিফলন
প্রধানমন্ত্রীর এই কৃচ্ছ্রসাধন নীতি আজ থেকেই কার্যকর শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, আজ সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অর্ধেক লাইট ও এসি ব্যবহার করা হয়। এটি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের উচ্চতম নীতিনির্ধারণী সভায় মিতব্যয়িতার এক বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূর্যালোকের সর্বোচ্চ ব্যবহার ও নতুন নীতিমালা
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানানো হয়, এখন থেকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব কক্ষে সব সময় অর্ধেক লাইট ও এসি সচল থাকবে। এছাড়া কৃত্রিম আলোর ওপর নির্ভরতা কমাতে দিনের বেলা কক্ষের জানালার পর্দা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে বাইরের প্রাকৃতিক আলো (সূর্যালোক) সর্বোচ্চ ব্যবহার করা যায়।
দেশব্যাপী সাশ্রয়ের আহ্বান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কেবল নিজের কার্যালয়েই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং পর্যায়ক্রমে দেশের সকল পর্যায়ে এই মডেল অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন:
সরকারি ও আধা-সরকারি অফিস: সকল স্তরের কর্মকর্তাদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।
বেসরকারি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান: শপিংমল, বাণিজ্যিক কার্যালয় এবং ব্যাংকগুলোতে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে।
বাসাবাড়ি: সাধারণ নাগরিকদেরও নিজ নিজ অবস্থানে বিদ্যুৎ অপচয় রোধে সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রীকে বিশেষ নির্দেশনা
আজকের মন্ত্রিসভা বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জ্বালানি মন্ত্রীকে একটি বিশেষজ্ঞ টিমের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত আর কী কী উপায়ে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের ব্যবহার কমানো যায়, তা দ্রুত বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহল প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে “নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত” হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, রাষ্ট্রপ্রধান যখন নিজে থেকে ত্যাগ স্বীকার করে সাশ্রয়ের পথে হাঁটেন, তখন তা প্রশাসনের সর্বস্তরে এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে বাধ্য।

