ব্যাংকিং নিউজ

সোনালী ব্যাংকের এফডিআর সুদহার কমল, আমানতকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংক পিএলসি তাদের ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্ট (FDR) বা মেয়াদি আমানতের সুদহার পুনর্নির্ধারণ করেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিভিন্ন মেয়াদের এফডিআরে সুদের হার পূর্বের তুলনায় ০.২৫ শতাংশ পয়েন্ট কমানো হয়েছে। ফলে নতুন করে এফডিআর খুলতে গেলে গ্রাহকদের আগের তুলনায় কিছুটা কম মুনাফা গ্রহণ করতে হবে। তবে ইতোমধ্যে যারা এফডিআর করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে পূর্বনির্ধারিত সুদের হারই বহাল থাকবে।

ছবিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন সুদহার হলো—

  • ৩ মাস বা তদূর্ধ্ব: ৮.০০% (আগে ছিল ৮.২৫%)
  • ৬ মাস বা তদূর্ধ্ব: ৮.২৫% (আগে ছিল ৮.৫০%)
  • ১ বছর বা তদূর্ধ্ব: ৮.৫০% (আগে ছিল ৮.৭৫%)

অর্থাৎ প্রতিটি মেয়াদেই সুদের হার ০.২৫ শতাংশ পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে।

কেন কমানো হলো সুদের হার?

ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে তারল্য পরিস্থিতি, আমানত সংগ্রহের ব্যয় এবং সামগ্রিক সুদহার নীতির পরিবর্তনের কারণে ব্যাংকগুলো ধীরে ধীরে আমানতের সুদহার পুনর্বিন্যাস করছে। আমানতের বিপরীতে ব্যাংকের ব্যয় কমানো এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যেও এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন কোনো ব্যাংকের পর্যাপ্ত আমানত থাকে অথবা বাজারে সুদের হার নিম্নমুখী হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়, তখন নতুন আমানতের ওপর সুদহার কমানো একটি স্বাভাবিক ব্যাংকিং কৌশল।

বর্তমান গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির খবর

সুদহার কমানোর ঘোষণার পর অনেক আমানতকারী উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, যেসব গ্রাহক ইতোমধ্যে এফডিআর খুলেছেন, তাদের চুক্তিকৃত মেয়াদ পর্যন্ত পূর্বের হারেই সুদ প্রদান করা হবে। ফলে বিদ্যমান আমানতকারীদের আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা নেই।

এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ব্যাংকিং নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদি আমানত খোলার সময় যে সুদহার নির্ধারিত হয়, মেয়াদপূর্তি পর্যন্ত সাধারণত সেই হারই কার্যকর থাকে।

আমানতকারীদের ওপর প্রভাব

নতুন হার কার্যকর হওয়ার ফলে ভবিষ্যতে যারা এফডিআর করবেন, তারা আগের তুলনায় কিছুটা কম মুনাফা পাবেন। উদাহরণস্বরূপ, ১০ লাখ টাকার এক বছরের এফডিআরে পূর্বের ৮.৭৫ শতাংশ হারে যেখানে বছরে প্রায় ৮৭,৫০০ টাকা সুদ পাওয়া যেত, এখন ৮.৫০ শতাংশ হারে পাওয়া যাবে প্রায় ৮৫,০০০ টাকা। অর্থাৎ বছরে প্রায় ২,৫০০ টাকা কম আয় হবে।

যদিও পার্থক্যটি খুব বেশি নয়, তবে বড় অঙ্কের আমানতের ক্ষেত্রে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হতে পারে।

গ্রাহকদের প্রতিক্রিয়া

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতার কারণে সামান্য সুদ কমলেও গ্রাহকদের আগ্রহ কমবে না। অন্যদিকে অনেকেই মনে করছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে আমানতের সুদহার কমানো সঞ্চয়কারীদের জন্য হতাশাজনক।

বিশ্লেষণ

ব্যাংকিং খাতের সামগ্রিক প্রবণতা বিবেচনায় সোনালী ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে অস্বাভাবিক বলা যাচ্ছে না। তবে মূল্যস্ফীতির চাপের মধ্যে সাধারণ আমানতকারীরা তাদের সঞ্চয়ের প্রকৃত রিটার্ন নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু করবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, নির্দিষ্ট আয়নির্ভর পরিবার এবং নিরাপদ বিনিয়োগপ্রত্যাশীদের জন্য এফডিআরের সুদহার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সব মিলিয়ে, সোনালী ব্যাংকের নতুন এফডিআর সুদহার বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন না আনলেও সঞ্চয়কারীদের মুনাফার ওপর সীমিত প্রভাব ফেলবে। আর যারা আগে থেকেই এফডিআর করেছেন, তাদের জন্য আপাতত স্বস্তির খবর হলো—পুরোনো হারেই তারা মুনাফা পেতে থাকবেন।

admin

আলামিন মিয়া, একজন ব্লগার, ডিজিটাল মার্কেটার, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার। ব্লগিংকরছি প্রায় ৭ বছর যাবৎ। বিভিন্ন অনলাইন সেবা হাতের কাছে পেতে নির্দেশনা ও পদ্ধতি গুলো ব্যাখ্যা করা হয় যা আপনি খুব সহজেই এই ওয়েবসাইট হতে পেতে পারেন। যদি অতিরিক্ত কোন তথ্য প্রয়োজন হয় বা পরামর্শ থাকে তবে মেইল করুন admin@tricksboss.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *