৯ম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবি: রাজস্ব বৃদ্ধিতে যুগান্তকারী সম্ভাবনা
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বিল হতে স্বয়ংক্রিয়াভাবে আয়কর কর্তন বিষয়ক সাম্প্রতিক একটি সরকারি চিঠির পর নতুন পে-স্কেল নিয়ে আলোচনা নতুন মোড় নিয়েছে। হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (CGA) কার্যালয় থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আইবাস++ (iBAS++) সিস্টেমে নির্দিষ্ট সীমার উপরে মূল বেতনধারী কর্মচারীদের জন্য আয়কর প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক বিশ্লেষক এবং সরকারি কর্মচারী সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, যদি ৯ম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়, তবে দেশের প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মচারীর সবাই আয়কর দাতার আওতায় আসবে, যা জাতীয় রাজস্ব বৃদ্ধিতে এক অনন্য মাইলফলক হতে পারে।
তথ্য বিশ্লেষণ: ২৬,৭৮৫ এবং ৩০,৩৫৭ টাকার সমীকরণ
সিজিএ কার্যালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে পুরুষ কর্মকর্তাদের মাসিক মূল বেতন ২৬,৭৮৫ টাকা এবং নারী কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ৩০,৩৫৭ টাকা বা তার অধিক হলে তাদের বার্ষিক আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করে। ফলে তাদের বেতন বিল হতে উৎস কর (TDS) কর্তন করা হচ্ছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়:
যদি ৯ম পে-স্কেলের সর্বনিম্ন গ্রেডের (২০তম গ্রেড) মূল বেতন ২০,০০০ টাকা দিয়ে শুরু হয়, তবে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং মহার্ঘ ভাতা মিলিয়ে মাত্র ২-৩ বছরের ব্যবধানে প্রায় প্রতিটি কর্মচারীর মূল বেতন ওই করযোগ্য সীমানায় (২৬,৭৮৫ টাকা) পৌঁছে যাবে।
এর ফলে বর্তমানে যারা আয়করের আওতার বাইরে আছেন, এমন কয়েক লক্ষ কর্মচারী সরাসরি রাজস্ব বোর্ডে অবদান রাখতে শুরু করবেন।
রাজস্ব বৃদ্ধিতে প্রভাব
বর্তমানে বড় একটি সংখ্যক সরকারি কর্মচারী আয়করের সীমার নিচে অবস্থান করছেন। প্রস্তাবিত সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকার স্কেল বাস্তবায়ন হলে: ১. আয়কর দাতার সংখ্যা বৃদ্ধি: দেশের প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মচারী ও কর্মকর্তার একটি বিশাল অংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়কর জালে আসবে। ২. এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন: উৎস কর কর্তন সহজ হওয়ায় কর ফাঁকির কোনো সুযোগ থাকবে না, যা এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে। ৩. আর্থিক সক্ষমতা: বেতন বৃদ্ধির ফলে কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান বাড়বে, যা পরোক্ষভাবে ভ্যাট (VAT) এবং অন্যান্য অভ্যন্তরীণ কর বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
কেন সর্বনিম্ন স্কেল ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন?
দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারীরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা মূল বেতনের দাবি জানিয়ে আসছেন। এই দাবি কেবল কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়ন নয়, বরং রাষ্ট্রের রাজস্ব কাঠামোকে শক্তিশালী করার একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেতন বাড়লে সরকারের ব্যয় বাড়লেও, আয়করের মাধ্যমে সেই অর্থের একটি বড় অংশ পুনরায় সরকারি কোষাগারে ফেরত আসবে।
উপসংহার
আগামী পে-কমিশনে বেতন বৈষম্য দূর করে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে সর্বনিম্ন স্কেল ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলে তা হবে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি। এতে একদিকে কর্মচারীরা মুদ্রাস্ফীতির চাপ সামলাতে পারবেন, অন্যদিকে ২৬,৭৮৫ টাকার নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করায় রাষ্ট্রের রাজস্ব ভাণ্ডার হবে আরও সমৃদ্ধ। ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় আইবাস++ সিস্টেমের মাধ্যমে এই কর আদায় প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

