সর্বশেষ নিউজ

অফিসকক্ষে জাতীয় পতাকা ঝোলানো নিয়ে সতর্কবার্তা, বিধিমালা মানতে নির্দেশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের

সরকারি অফিসে জাতীয় পতাকার যথাযথ ব্যবহার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং অধীনস্থ দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। জাতীয় পতাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত বিধিমালা অনুসরণ এবং অননুমোদিত বা অনুপযুক্ত ব্যবহার থেকে বিরত থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিধি শাখা থেকে জারি করা এক সরকারি স্মারকে জাতীয় পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। স্মারকটি সিনিয়র সচিব ও সচিবদের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট অধীনস্থ দপ্তর এবং স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ ও আধা-সরকারি সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

অফিসকক্ষে পতাকা প্রদর্শন নিয়ে আপত্তি

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের স্মারকে বলা হয়েছে, সরকারি ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কিছু কর্মকর্তা বা ব্যক্তি জাতীয় পতাকা ব্যবহারের অধিকারী বা যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও অফিসকক্ষে চেয়ার কিংবা সোফার পেছনে ঢিলেঢালাভাবে জাতীয় পতাকা ঝুলিয়ে প্রদর্শন করছেন। এ ধরনের ব্যবহারের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে পতাকার নির্ধারিত মর্যাদা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

জাতীয় পতাকা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় পরিচয়ের প্রতীক। তাই অফিসকক্ষে পতাকা প্রদর্শনের ক্ষেত্রেও প্রচলিত বিধিমালা অনুসরণ করা প্রয়োজন। কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তি পদ, দায়িত্ব কিংবা প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী পতাকা ব্যবহারের অধিকারী কি না, তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

জাতীয় পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২ অনুসরণের ওপর গুরুত্ব

স্মারকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের নির্ধারিত সময় ও পদ্ধতি অনুসরণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের বিধান রয়েছে। তবে মোটরগাড়ি, জলযান ও উড়োজাহাজের মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ব্যতিক্রম রয়েছে।

এ ছাড়া জাতীয় পতাকার নির্ধারিত আকৃতি, অনুপাত ও রং যথাযথভাবে বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। পতাকার নকশা পরিবর্তন, অনুপযুক্তভাবে ঝুলিয়ে রাখা কিংবা বিধিবহির্ভূত কাজে ব্যবহার জাতীয় পতাকার স্বীকৃত মর্যাদার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে।

সাজসজ্জা বা ব্যক্তিগত পরিচিতির পটভূমি হিসেবে ব্যবহার নিয়েও আলোচনা

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে অফিসকক্ষের অভ্যন্তরে সাজসজ্জা, অলংকরণ কিংবা ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক পরিচিতির পটভূমি হিসেবে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতীয় পতাকার ব্যবহার কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য বা ব্যক্তিগত পরিচিতি প্রকাশের বিষয় নয়। এর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও আইনগত বিধান জড়িত। এ কারণে পতাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

স্মারকে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত, পতাকা ও প্রতীক-সংক্রান্ত আদেশ, ১৯৭২ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা, ১৯৭২-এর উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এসব বিধানের প্রযোজ্য অংশ অনুসরণ করে জাতীয় পতাকার সম্মান অক্ষুণ্ন রাখা।

মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ

স্মারকের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে জাতীয় পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অধীনস্থ দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ নির্দেশনার আলোকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো তাদের অধীনস্থ অফিসে জাতীয় পতাকা ব্যবহারের প্রচলিত পদ্ধতি পর্যালোচনা করতে পারে। কোথাও পতাকা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে বিধিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে না বলে প্রতীয়মান হলে, প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

বিশেষ করে সরকারি অফিসে পতাকা প্রদর্শনের অনুমোদিত পদ্ধতি, পতাকার সঠিক নকশা এবং যথাযথ মর্যাদা বজায় রাখার বিষয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সচেতন করা গুরুত্বপূর্ণ।

নতুন কোনো জরিমানা বা শাস্তির ঘোষণা নেই

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সরবরাহ করা স্মারকে জাতীয় পতাকার যথাযথ ব্যবহার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে দৃশ্যমান নথিতে নতুন কোনো জরিমানা, শাস্তি কিংবা পৃথক দণ্ডবিধি ঘোষণার তথ্য পাওয়া যায়নি।

তাই এ নির্দেশনাকে নতুন শাস্তিমূলক আইন হিসেবে ব্যাখ্যা না করে জাতীয় পতাকার প্রচলিত বিধিমালা অনুসরণ ও সম্মান রক্ষার বিষয়ে প্রশাসনিক নির্দেশনা হিসেবে বিবেচনা করাই যথাযথ। কোনো নির্দিষ্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনগত বাধ্যবাধকতা বা শাস্তির প্রশ্ন উঠলে সংশ্লিষ্ট বিধিমালার পূর্ণাঙ্গ পাঠ যাচাই করা প্রয়োজন।

স্মারকে যেসব তথ্য রয়েছে

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিধি শাখা থেকে জারি করা স্মারকটির দৃশ্যমান তথ্য অনুযায়ী, চিঠির তারিখ ১১ অক্টোবর ২০২৬। এর বিষয়বস্তু জাতীয় পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন। স্মারকটি সিনিয়র সচিব ও সচিবদের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। এতে স্বাক্ষর করেছেন উপসচিব শারমিন ইয়াসমিন।

চিঠির অনুলিপি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানোর তথ্য রয়েছে, যাতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক পর্যায়ে পৌঁছানো যায়।

জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষায় সচেতনতা জরুরি

জাতীয় পতাকা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। এ প্রতীকের যথাযথ মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব সরকারি প্রতিষ্ঠান, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ নাগরিক—সবার। তবে পতাকা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কে কোন পরিস্থিতিতে পতাকা প্রদর্শন করতে পারবেন, তা নির্ধারণে প্রচলিত আইন ও বিধিমালার ওপর নির্ভর করতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই স্মারক সরকারি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে জাতীয় পতাকার ব্যবহার নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেছে। যথাযথ নিয়ম অনুসরণ, অনুপযুক্ত ব্যবহার পরিহার এবং জাতীয় পতাকার সম্মান অক্ষুণ্ন রাখার মাধ্যমে নির্দেশনার উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

সোর্স ফাইল

admin

আলামিন মিয়া, একজন ব্লগার, ডিজিটাল মার্কেটার, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার। ব্লগিংকরছি প্রায় ৭ বছর যাবৎ। বিভিন্ন অনলাইন সেবা হাতের কাছে পেতে নির্দেশনা ও পদ্ধতি গুলো ব্যাখ্যা করা হয় যা আপনি খুব সহজেই এই ওয়েবসাইট হতে পেতে পারেন। যদি অতিরিক্ত কোন তথ্য প্রয়োজন হয় বা পরামর্শ থাকে তবে মেইল করুন admin@tricksboss.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *