আধুনিক অসুস্থতার মূল কারণ ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’: রোগমুক্ত জীবনের দিশা দিচ্ছে জেকে লাইফস্টাইল বই সংগ্রহ করুন
বর্তমান আধুনিক জীবনযাত্রায় ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা ও হৃদরোগের মতো অসংক্রামক ব্যাধিগুলো মহামারি আকার ধারণ করেছে । সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব জটিল রোগের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশেরই মূলে রয়েছে ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’ 。 এই নীরব ঘাতক থেকে মুক্তি দিয়ে সাধারণ মানুষকে ওষুধমুক্ত সুস্থ জীবন ফিরিয়ে দিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবীর এবং তার প্রতিষ্ঠান ‘জেকে লাইফস্টাইল’ ।
অসুস্থতার মূল কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি প্রাচীনকালে মানুষের জীবন ছিল প্রাকৃতিক খাবার ও শারীরিক পরিশ্রমনির্ভর, যার ফলে আধুনিক যুগের অনেক রোগই তখন ছিল না । কিন্তু বর্তমান সময়ে প্রসেসড ফুড, ফাস্ট ফুড এবং জেনেটিক্যালি মডিফাইড খাবারের আধিক্য এবং শারীরিক পরিশ্রমহীন অলস জীবনযাপন আমাদের শরীরের স্বাভাবিক বিপাক প্রক্রিয়া বা মেটাবলিজমকে নষ্ট করে দিচ্ছে 。 এর ফলে শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি সাড়া দিতে ব্যর্থ হয়, যা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স নামে পরিচিত 。
জেকে লাইফস্টাইলের ৫টি মূলনীতি ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবীর ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধে পাঁচটি বিশেষ বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন: ১. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: প্রাকৃতিক ও অর্গানিক খাবারের ওপর গুরুত্বারোপ 。 ২. অটোফেজি (রোজা বা ফাস্টিং): শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার করার প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া 。 ৩. ব্যায়াম: সঠিক নিয়মে শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে মেটাবলিজম উন্নত করা 。 ৪. পর্যাপ্ত ঘুম: সার্কাডিয়ান রিদম মেনে সঠিক সময়ে বিশ্রাম নেওয়া 。 ৫. মানসিক প্রশান্তি: মানসিক চাপ কমিয়ে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখা 。
সমন্বিত সেবা ও প্রযুক্তি জেকে লাইফস্টাইল রোগীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ সেবা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে:
হেলথ রেভুলেশন: যেখানে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে রক্তের ইনসুলিন সেনসিটিভিটি ও মেটাবলিক প্রোফাইল পরীক্ষা করা হয় 。
আল্টিমেট অর্গানিক লাইফ: উন্নত মানের অর্গানিক সুপারফুড ও ফাংশনাল ফুড সরবরাহ নিশ্চিত করা 。
জেকে ফিটনেস অ্যারেনা: দক্ষ ট্রেইনারের তত্ত্বাবধানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ব্যায়ামের সুবিধা 。
জেকে ফুড অ্যারেনা: স্বাস্থ্যসম্মত ও ঔষধি গুণাগুণ সমৃদ্ধ অর্গানিক খাবারের রেস্টুরেন্ট 。
ফ্রি জেনারেল কাউন্সেলিং সাধারণ মানুষের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবীর নিয়মিত বিনামূল্যে কাউন্সেলিং সেশন পরিচালনা করেন 。 সরাসরি সেশনে উপস্থিত থেকে অথবা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে যে কেউ সুস্থ থাকার সঠিক দিকনির্দেশনা গ্রহণ করতে পারেন 。
চিকিৎসকদের মতে, কেবল ওষুধের ওপর নির্ভর না করে সঠিক জীবনযাত্রা বা লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতা অর্জন করা সম্ভব 。 জেকে লাইফস্টাইলের এই সমন্বিত প্রচেষ্টা আধুনিক বিশ্বের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে ।

ডায়বেটিস কি চিরতরে নির্মূল করা যায়?
ডায়াবেটিস পুরোপুরি ‘নির্মূল’ (Cure) করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিশেষ করে ‘লাইফস্টাইল মেডিসিন’-এ নতুন আশার কথা বলা হচ্ছে। আপনার আপলোড করা ‘JK Lifestyle Book’ এবং আধুনিক গবেষণা অনুযায়ী বিষয়টি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. টাইপ-২ ডায়াবেটিস কি রিভার্স বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব?
হ্যাঁ, সঠিক জীবনযাত্রা বা লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ‘রিভার্স’ (Reverse) বা ওষুধমুক্ত নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবীরের মতে, টাইপ-২ ডায়াবেটিস কোনো জন্মগত রোগ নয়, বরং এটি একটি ‘লাইফস্টাইল ডিজিজ’ যা মূলত ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স-এর কারণে হয়।
২. চিরতরে নির্মূল নাকি নিয়ন্ত্রণ?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ডায়াবেটিসকে ‘সম্পূর্ণ নির্মূল’ করার চেয়ে ‘রেমিশন’ (Remission) বলা বেশি যুক্তিযুক্ত। এর অর্থ হলো:
আপনি যদি আপনার খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রা ঠিক রাখেন, তবে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক থাকবে এবং কোনো ওষুধের প্রয়োজন হবে না।
তবে আপনি যদি আবার আগের অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রায় (অতিরিক্ত চিনি, প্রসেসড ফুড, ব্যায়ামহীন জীবন) ফিরে যান, তবে এটি আবার ফিরে আসতে পারে।
৩. যেভাবে ডায়াবেটিস ওষুধমুক্ত রাখা সম্ভব (জেকে লাইফস্টাইল অনুযায়ী):
বইটিতে ডায়াবেটিস ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স দূর করার ৫টি মূলনীতির কথা বলা হয়েছে:
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: চিনি, মিষ্টি জাতীয় খাবার, কার্বোহাইড্রেট (ভাত, রুটি) কমিয়ে প্রাকৃতিক চর্বি ও শাকসবজি গ্রহণ করা।
অটোফেজি বা রোজা: নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকার মাধ্যমে শরীরকে নিজের জমে থাকা শর্করা ও চর্বি পোড়াতে সাহায্য করা।
ব্যায়াম: নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে পেশির ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ানো।
পর্যাপ্ত ঘুম: রাতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে।
মানসিক প্রশান্তি: স্ট্রেস বা দুশ্চিন্তা কমানো, কারণ মানসিক চাপ রক্তে সুগার বাড়িয়ে দেয়।
৪. টাইপ-১ ডায়াবেটিস এর ক্ষেত্রে:
টাইপ-১ ডায়াবেটিস একটি অটো-ইমিউন রোগ যেখানে শরীর ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না। এটি বর্তমানে চিরতরে নির্মূল করার কোনো উপায় আবিষ্কৃত হয়নি, তবে লাইফস্টাইল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ইনসুলিনের ডোজ কমানো এবং জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
সারসংক্ষেপ: টাইপ-২ ডায়াবেটিসকে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, রোজা এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে ওষুধ ছাড়াই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, যা অনেকটা রোগমুক্ত জীবনের মতোই। তবে একে সারাজীবন বজায় রাখতে হলে সুস্থ জীবনযাত্রার অভ্যাসটি ধরে রাখতে হবে।

