পহেলা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
আগামী পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) থেকে দেশব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আধুনিক ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কৃষি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং প্রকৃত কৃষকদের দোরগোড়ায় সরাসরি সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিতে এই যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
সচিবালয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
আজ রবিবার (১৫ মার্চ) বেলা ১১টায় বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়ে কৃষক কার্ড বাস্তবায়ন সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কর্মসূচির প্রস্তুতি ও এর বণ্টন প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
বৈঠক শেষে জানানো হয়, ডিজিটাল এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি সার, বীজ, কীটনাশকসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণের ভর্তুকি এবং সরকারি আর্থিক প্রণোদনা সরাসরি তাদের অ্যাকাউন্টে পাবেন। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে এবং প্রকৃত কৃষকরা উপকৃত হবেন।
বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
কৃষক কার্ড প্রকল্পের এই নীতিনির্ধারণী সভায় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের মন্ত্রী ও উপদেষ্টামণ্ডলী উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
আমিন উর রশিদ: কৃষিমন্ত্রী।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু: কৃষি প্রতিমন্ত্রী।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর: প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা।
রেহান আসিফ আসাদ: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা।
মীর শাহে আলম: স্থানীয় সরকার, সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।
আধুনিক কৃষির পথে এক ধাপ এগিয়ে
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, কার্ড বিতরণে যেন কোনো ধরনের অনিয়ম না হয় এবং কোনো প্রকৃত কৃষক যেন এই তালিকা থেকে বাদ না পড়েন। তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানান, এই কার্ডটি একটি ‘স্মার্ট কার্ড’ হিসেবে কাজ করবে, যা ভবিষ্যতে কৃষকদের ডাটাবেজ হিসেবেও ব্যবহৃত হবে।
উদ্বোধনী কর্মসূচি
১৪ এপ্রিল, বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রাথমিকভাবে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে কার্ড বিতরণ শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে তা দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই কৃষক কার্ড চালু হলে দেশের কৃষি অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে।

