হাম থেকে শিশুকে সুরক্ষিত রাখতে সময়মতো টিকা নিশ্চিত করুন: সরকারের বিশেষ সতর্কতা
দেশে সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশুদের সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ইউনিসেফ (UNICEF) এবং গ্যাভি (Gavi)-এর সহায়তায় সারাদেশে ইপিআই (EPI) কর্মসূচির মাধ্যমে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
হাম প্রতিরোধের একমাত্র উপায় সময়মতো টিকা
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। শিশুদের জন্য এই রোগটি মারাত্মক হতে পারে। তবে সঠিক সময়ে টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এটি পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব। সরকারি নির্দেশনানুযায়ী, একটি শিশুর সম্পূর্ণ সুরক্ষার জন্য দুই ডোজ হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
টিকার সময়সূচী:
প্রথম ডোজ: শিশুর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হলে।
দ্বিতীয় ডোজ: শিশুর বয়স ১৫ মাস পূর্ণ হলে।
বকেয়া টিকাদানে বিশেষ গুরুত্ব
যে সকল শিশুর বয়স ২ বছরের কম কিন্তু এখনও কোনো কারণে হাম-রুবেলার টিকা পায়নি, তাদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পোস্টারে উল্লেখ করা হয়েছে, এমন শিশুদের ক্ষেত্রে দেরি না করে অতি দ্রুত নিকটস্থ ইপিআই কেন্দ্র থেকে টিকা নিশ্চিত করতে হবে। সম্পূর্ণ সুরক্ষা পেতে দুটি ডোজই সম্পন্ন করা জরুরি।
চলমান বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি (২০২৬)
বর্তমানে দেশের বেশ কিছু উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় (১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায়) বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চলছে। এই কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অতিরিক্ত এক ডোজ টিকা প্রদান করা হচ্ছে। এমনকি যারা আগে নিয়মিত টিকা পেয়েছে, তারাও এই জরুরি পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত এই সুরক্ষা ডোজটি গ্রহণ করতে পারবে।
অভিভাবক ও জনসাধারণের জন্য করণীয়
১. নিকটস্থ কেন্দ্রে যোগাযোগ: আপনার নিকটস্থ ইপিআই টিকাদান কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বিনামূল্যে এই টিকা গ্রহণ করুন।
২. অসুস্থতায় সতর্কতা: যদি শিশুর তীব্র জ্বর থাকে বা সে অন্য কোনো গুরুতর অসুখে আক্রান্ত থাকে, তবে সুস্থ হওয়ার পর টিকা প্রদান করুন।
৩. সচেতনতা বৃদ্ধি: হামের সংক্রমণ রোধে পরিবারের অন্য সদস্য ও প্রতিবেশীদের টিকার গুরুত্ব সম্পর্কে জানান।
৪. আক্রান্ত হলে যত্ন: শিশু হামে আক্রান্ত হলে তাকে প্রচুর তরল খাবার খাওয়ান এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সংক্রমণ এড়াতে আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি এই বিশেষ কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো হামমুক্ত বাংলাদেশ গড়া। তাই আপনার শিশুকে সুস্থ রাখতে অবহেলা না করে সময়মতো টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে যান।

