২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব: গোলবন্যা আর রেকর্ডের মহোৎসবে উজ্জ্বল যারা
উত্তর আমেরিকা (যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা) মহাদেশে অনুষ্ঠেয় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ ও জমজমাট বাছাইপর্বের লড়াই। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্ব ও বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়ার এই লড়াইয়ে ফুটবলপ্রেমীরা প্রত্যক্ষ করেছেন একক নৈপুণ্যের চোখ ধাঁধানো সব প্রদর্শনী। বুড়ো হাড়ের ভেলকি থেকে শুরু করে তরুণ তুর্কিদের গোল উৎসব—তথ্যাদি বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, বেশ কয়েকজন ফুটবলার নিজেদের অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সামগ্রিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে আলো ছড়ানো সেরা ফুটবলারদের পরিসংখ্যান ও তাদের প্রভাব নিচে তুলে ধরা হলো:
বিশ্বমঞ্চে গোলস্কোরিংয়ের শীর্ষে নরওয়েজীয় ‘গোলমেশিন’
পুরো বাছাইপর্বজুড়ে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বিধ্বংসী ফর্মে ছিলেন নরওয়ের স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। ইউরোপীয় অঞ্চলের (UEFA) গ্রুপ ‘I’-এ মাত্র ৮ ম্যাচে অংশ নিয়ে তিনি একাই করেছেন রেকর্ড ১৬টি গোল। গড়ে প্রতি ম্যাচে ২টি করে গোল করা হালান্ডের এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে নরওয়ে। তার ইতালির বিপক্ষে করা জোড়া গোল দলটিকে মূল পর্বের টিকিট এনে দেয়।
মহাদেশভিত্তিক শীর্ষ পারফর্মারদের পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ
বাছাইপর্বের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিভিন্ন মহাদেশের শীর্ষ গোলদাতাদের তালিকাটি নিচে দেওয়া হলো:
লাতিন আমেরিকায় এখনো ‘মেসি’ রাজত্ব, আলো ছড়ালেন লুইস দিয়াজ
দক্ষিণ আমেরিকার অত্যন্ত কঠিন ও দীর্ঘ ১৮ ম্যাচের বাছাইপর্বে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার হয়ে যথারীতি আলো ছড়িয়েছেন লিওনেল মেসি। বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ৮টি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রেও (অ্যাসিস্ট) তিনি ছিলেন অনন্য। তার নেতৃত্বেই লাতিন অঞ্চলের টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখে মূল পর্বে পা রাখে আলবিসেলেস্তেরা।
অন্যদিকে, কলম্বিয়ার আক্রমণভাগের মূল চালিকাশক্তি ছিলেন লিভারপুল তারকা লুইস দিয়াজ। ৭টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গোল করে তিনি কলম্বিয়াকে টেবিলের তৃতীয় স্থানে রেখে সরাসরি বিশ্বকাপে নিয়ে যান।
ইউরোপের অন্য দুই ভরসা: কেন এবং ডিপাই
হালান্ডের অতিমানবীয় রেকর্ডের পেছনে থাকলেও ইউরোপের ঐতিহ্যবাহী পরাশক্তিদের মূল ভরসা ছিলেন হ্যারি কেন ও মেম্ফিস ডিপাই। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেন ৮ গোল করে থ্রি-লায়নসদের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন করেছেন। সমান ৮টি গোল করে ডাচদের আক্রমণভাগ একাই টেনেছেন মেম্ফিস ডিপাই। এছাড়া অস্ট্রিয়াকে বিশ্বকাপে ফেরাতে মার্কো আরনাউতোভিচ ৮ গোল করে বড় ভূমিকা রেখেছেন।
আফ্রিকার নতুন তারা আমৌরা ও এশিয়ায় আলমুইজের দাপট
আফ্রিকার কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বাছাইপর্বে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন আলজেরিয়ার মোহাম্মদ আমৌরা। ১০টি গোল করে তিনি আফ্রিকার শীর্ষ গোলদাতা হন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন তারকা উইঙ্গার রিয়াদ মাহরেজ। এছাড়া মিসরের মোহাম্মদ সালাহ করেছেন ৯ গোল।
এশিয়ান অঞ্চলে কাতারের আলমুইজ আলি ১২ গোল করে হালান্ডের ঠিক পেছনেই বিশ্ব তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন। এশিয়ায় বরাবরের মতোই ধারাবাহিক ছিলেন টটেনহ্যাম তারকা সন হিউং-মিন (১০ গোল) এবং ইরানের মেহদি তারেমি (১০ গোল)।
পরিশেষ
বাছাইপর্বের এই নিখুঁত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ফুটবলারদের ধারাবাহিকতা এবং দলের কঠিন সময়ে একক জাদুই দলগুলোকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত মঞ্চে জায়গা করে দিয়েছে। এবার দেখার বিষয়, বাছাইপর্বের এই বিধ্বংসী ফর্ম ধরে রেখে মূল বিশ্বকাপেও এই তারকারা গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে নিজেদের কতটা মেলে ধরতে পারেন।

