বাইকের সামনে নম্বর প্লেট বাধ্যতামূলক নয়, এখনো হয়নি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত: বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান
মোটরসাইকেলের সামনের অংশেও নম্বর প্লেট বসানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে—এমন খবর গত কয়েকদিনে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সর্বশেষ অবস্থান বলছে, এ ধরনের খবর এখনই চূড়ান্ত বা কার্যকর নয়।
বিআরটিএ জানিয়েছে, মোটরসাইকেলের সামনে নম্বর প্লেট বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে এ-সংক্রান্ত কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়নি। ফলে বাইকারদের এখনই নতুন করে সামনের নম্বর প্লেট লাগানোর প্রয়োজন নেই এবং এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
কেন এ বিভ্রান্তি তৈরি হলো?
সম্প্রতি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এআইভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি আরও কার্যকর করতে মোটরসাইকেলের সামনেও নম্বর প্লেট সংযোজনের উদ্যোগ নিয়েছে বিআরটিএ। এসব প্রতিবেদনে বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
তবে পরবর্তীতে বিআরটিএর পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়, এটি এখনো কোনো অনুমোদিত সিদ্ধান্ত নয় এবং এ বিষয়ে কোনো সরকারি নির্দেশনা বা প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।
সরকারি সিদ্ধান্ত না হলে বাধ্যতামূলক নয়
বাংলাদেশে মোটরযান সংক্রান্ত নতুন কোনো বিধান কার্যকর করতে সাধারণত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত, প্রজ্ঞাপন বা নির্দেশনা প্রয়োজন হয়। যেহেতু মোটরসাইকেলের সামনের নম্বর প্লেট বিষয়ে এখন পর্যন্ত এমন কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়নি, তাই এটি বর্তমানে বাধ্যতামূলক নয়।
বাইকারদের জন্য পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত যেকোনো তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়। মোটরযান সংক্রান্ত নতুন কোনো নিয়ম কার্যকর হলে বিআরটিএ বা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানিয়ে দেবে। তাই কোনো গুজব বা অসমর্থিত তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় বা অপ্রয়োজনীয় পরিবর্তন না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
উপসংহার
মোটরসাইকেলের সামনে নম্বর প্লেট বসানো বাধ্যতামূলক হয়েছে—এমন দাবি বর্তমানে সঠিক নয়। এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। ফলে বাইকারদের অযাচিত গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে শুধুমাত্র বিআরটিএ ও সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

