লাইভ বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ | ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
টেক ব্রেকিং
সড়ক পরিবহন বিধিমালায় বড় পরিবর্তন, গাড়ির সামনের নম্বরপ্লেট নিয়েও নতুন নির্দেশনা এসএসসি-এইচএসসি ফলাফলে বড় পরিবর্তন, দুই বছরেই কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা, মিটার ও বিলের সমস্যা সমাধানে যা জানা প্রয়োজন Android AuthorityPixel Buds Pro 2 একটি বড় $৬০ Amazon ছাড় পাচ্ছে 9to5Googleপিক্সেল ওয়াচ ৫ অ্যামাজনে সর্বকালের কম দামে আঘাত করেছে BBC Technologyইউএস টেক স্টকগুলি এআই খরচ উদ্বেগের উপর তীব্র পতন দেখে Android Authorityকোয়ালকমের জন্য বড় ধাক্কা? এই আসন্ন আল্ট্রা ফ্ল্যাগশিপ স্ন্যাপড্রাগন ফ্ল্যাগশিপ SoCs এড়িয়ে যেতে পারে বাংলা ট্রিবিউনইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো চুরির নেপথ্যে উ. কোরিয়া? জাগো নিউজ২০ বছর আগে চুরি হওয়া ১৭ শতকের চিত্রকর্ম উদ্ধার করলো এআই 9to5Googleগুগল বলেছে যে অ্যান্ড্রয়েড অটো ভিডিও অ্যাপগুলি এখনও ‘শীঘ্রই আসছে’ সময়সীমা কাছাকাছি

ইসলামের বিধান: ১ লক্ষ টাকায় ২,৫০০ টাকা জাকাত, জেনে নিন সঠিক হিসাব ও নিয়ম

ইসলামের বিধান: ১ লক্ষ টাকায় ২,৫০০ টাকা জাকাত, জেনে নিন সঠিক হিসাব ও নিয়ম ছবি: Tricksboss

ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে প্রত্যেক মুসলিমের ওপর বছরান্তে জাকাত আদায় করা ফরজ। জাকাতের হার ও নিসাব নিয়ে সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার্থে ওলামায়ে কেরামগণ গাণিতিক বিশ্লেষণ প্রদান করেছেন। প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী, মোট সঞ্চিত সম্পদের ৪০ ভাগের এক ভাগ (১/৪০) বা ২.৫% হারে জাকাত প্রদান করতে হয়।

জাকাতের গাণিতিক হিসাব

জাকাতের হিসাবটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। যদি কোনো ব্যক্তির কাছে জাকাতযোগ্য সম্পদ এক বছর যাবৎ সঞ্চিত থাকে, তবে তাকে ২.৫ শতাংশ হারে অর্থ প্রদান করতে হবে।

  • ১০০ টাকায় জাকাত: ২.৫ টাকা।

  • ১,০০০ টাকায় জাকাত: ২৫ টাকা।

  • ১,০০,০০০ (১ লক্ষ) টাকায় জাকাত: ২,৫০০ টাকা।

সহজ কথায়, আপনার মোট সম্পদের পরিমাণকে ৪০ দিয়ে ভাগ করলে যে অঙ্কটি আসবে, সেটিই আপনার প্রদেয় জাকাতের পরিমাণ।

নিসাব বা জাকাত ফরজ হওয়ার শর্ত

জাকাত সবার ওপর ফরজ নয়। কোনো মুসলিমের কাছে যদি সাড়ে সাত তোলা সোনা অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা কিংবা এর সমমূল্যের নগদ টাকা বা ব্যবসার পণ্য থাকে, তবেই তার ওপর জাকাত ফরজ হয়। এই পরিমাণ সম্পদকে শরিয়তের পরিভাষায় ‘নিসাব’ বলা হয়।

উল্লেখ্য: এই সম্পদটি ব্যক্তির ঋণমুক্ত হতে হবে এবং টানা এক চন্দ্রবছর তার মালিকানাধীন থাকতে হবে।

জাকাত কেন জরুরি?

জাকাত কেবল দরিদ্রের প্রতি করুণা নয়, বরং এটি ধনীর সম্পদে দরিদ্রের অধিকার। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “তাদের ধনসম্পদে অভাবী ও বঞ্চিতদের হক রয়েছে।” জাকাত আদায়ের ফলে সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস পায় এবং সম্পদের পবিত্রতা অর্জিত হয়।

কাদের জাকাত দেওয়া যাবে?

জাকাত কেবল নির্দিষ্ট আটটি খাতে ব্যয় করা যায়। এর মধ্যে প্রধান হলো: ১. চরম দরিদ্র ও নিঃস্ব ব্যক্তি। ২. যাদের চলার মতো কোনো অবলম্বন নেই। ৩. নওমুসলিম (যাদের ঈমান মজবুত করার প্রয়োজন)। ৪. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি (যিনি ঋণ পরিশোধে অক্ষম)। ৫. আল্লাহর পথে (ইসলামের খেদমতে) নিয়োজিত ব্যক্তি। ৬. মুসাফির (যিনি সফরে বিপদগ্রস্ত)।

বিশেষজ্ঞ মত

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, অনেকেই মনে করেন শুধু রমজান মাসেই জাকাত দিতে হয়। বিষয়টি এমন নয়; বরং যার যার সম্পদের বছর যেদিন পূর্ণ হবে, সেদিনই তার ওপর জাকাত হিসাব করা জরুরি। তবে রমজানে সওয়াব বেশি হওয়ার আশায় অনেকেই এই মাসে জাকাত প্রদান করে থাকেন।

যাকাত না দেওয়ার শাস্তি কি?

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, যাকাত দেওয়া কেবল দান নয় বরং একটি ফরজ ইবাদত। যাকাত অস্বীকার করা কুফরি এবং যাকাত আদায় না করা কবিরা গুনাহ বা মারাত্মক অপরাধ। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে যাকাত না আদায়কারীর জন্য অত্যন্ত কঠোর শাস্তির বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।

যাকাত না দেওয়ার শাস্তিকে মূলত দুই ভাগে দেখা হয়:


১. পরকালীন কঠিন শাস্তি

কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী, পরকালে যাকাত না দেওয়া সম্পদই শাস্তির মাধ্যম হয়ে দাঁড়াবে।

  • তপ্ত ধাতুর ছ্যাঁকা: পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, যারা সোনা-রুপা বা সম্পদ জমা করে রাখে এবং যাকাত দেয় না, কিয়ামতের দিন সেই সম্পদকে জাহান্নামের আগুনে উত্তপ্ত করা হবে এবং তা দিয়ে তাদের কপালে, পাঁজর ও পিঠে দাগ দেওয়া হবে। (সূরা তাওবাহ, আয়াত: ৩৪-৩৫)

  • বিষধর সাপের দংশন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন কিন্তু সে যাকাত আদায় করেনি, কিয়ামতের দিন তার সম্পদকে একটি টাকপড়া বিষধর সাপে রূপান্তর করা হবে। সাপটি তার গলায় পেঁচিয়ে দেওয়া হবে এবং সেটি তার দুই গালে দংশন করতে করতে বলবে, “আমিই তোমার সম্পদ, আমিই তোমার জমাকৃত ভাণ্ডার।” (সহিহ বুখারি)

২. দুনিয়াবি পরিণতি ও শাস্তি

ইসলামি শরিয়ত ও ইতিহাসের আলোকে এর কিছু জাগতিক কুফলও রয়েছে:

  • বরকত কমে যাওয়া: যাকাত না দিলে সম্পদের পবিত্রতা নষ্ট হয় এবং সম্পদে আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া বরকত উঠে যায়।

  • প্রাকৃতিক বিপর্যয়: হাদিস অনুযায়ী, কোনো জাতি যখন যাকাত দেওয়া বন্ধ করে দেয়, আল্লাহ তখন তাদের ওপর থেকে বৃষ্টিপাত বন্ধ করে দেন (অনাবৃষ্টি বা খরা)। যদি পশুপাখি না থাকত, তবে একদমই বৃষ্টি হতো না। (ইবনে মাজাহ)

  • রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা: যদি কোনো মুসলিম প্রধান দেশে কেউ সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যাকাত দিতে অস্বীকার করে, তবে রাষ্ট্র চাইলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে। ইসলামের প্রথম খলিফা আবু বকর (রা.) যাকাত দিতে অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন।


সংক্ষেপে শাস্তির ধরন

শাস্তির ক্ষেত্র প্রকৃতি
শারীরিক শাস্তি জাহান্নামের আগুনে পোড়ানো সম্পদ দিয়ে শরীরে ছ্যাঁকা দেওয়া।
মানসিক শাস্তি কিয়ামতের ময়দানে সবার সামনে অপমানিত হওয়া।
পার্থিব ক্ষতি সম্পদে অভাব আসা, দুর্ভিক্ষ এবং সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি পাওয়া।

সারকথা: যাকাত না দেওয়া মানে গরিবের হক আত্মসাৎ করা। এটি ব্যক্তির আত্মিক ও আর্থিক ধ্বংসের কারণ হতে পারে।

মন্তব্য (০)

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। মন্তব্য করার আগে মন্তব্য নীতিমালা পড়ুন।