বমি ও রোজা ভঙ্গ ২০২৬ । বমি হলে কি রোজা হবে?
২০২৬ সালের রমজান মাসের বিধান অনুযায়ী, বমি হওয়া বা করার ক্ষেত্রে রোজা ভঙ্গের নিয়মগুলো বেশ স্পষ্ট। আপনি যদি রোজা থাকা অবস্থায় বমি করেন, তবে নিচের দুটি বিষয় খেয়াল করতে হবে:
১. অনিচ্ছাকৃত বা স্বতঃস্ফূর্ত বমি
যদি আপনার অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হয় (যেমন: অসুস্থতা, দুর্গন্ধ বা অন্য কোনো কারণে নিজে থেকেই চলে আসা), তবে আপনার রোজা ভাঙবে না। বমি অল্প হোক বা বেশি, রোজা শুদ্ধ থাকবে। এমনকি বমির কিছু অংশ যদি নিজে নিজেই আবার পেটে ফিরে যায়, তবুও রোজা নষ্ট হবে না।
২. ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা
যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে (যেমন: মুখে আঙুল দিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে জোর করে বমি করা), তবে তার রোজা ভেঙে যাবে। হাদিস অনুযায়ী, এক্ষেত্রে ওই রোজার ‘কাজা’ আদায় করতে হবে (অর্থাৎ রমজানের পর একটি রোজা রাখতে হবে), তবে ‘কাফফারা’ লাগবে না।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ খুঁটিনাটি:
বমি গিলে ফেলা: বমি মুখ পর্যন্ত আসার পর যদি কেউ তা ইচ্ছাকৃতভাবে গিলে ফেলে, তবে রোজা ভেঙে যাবে।
অসুস্থতা: বমির কারণে যদি শরীর অনেক বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোজা রাখা জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়, তবে রোজা ভেঙে ফেলা জায়েজ। সেক্ষেত্রে পরে শুধু একটি কাজা আদায় করলেই চলবে।
মুখ পরিষ্কার: বমি হওয়ার পর কুলি করে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি যাতে বমির কোনো অংশ পেটে চলে না যায়।
বমি হলে কি রোজা হবে?
সাধারণভাবে বমি হওয়ার ক্ষেত্রে রোজার বিধান নির্ভর করে বমিটা কীভাবে হয়েছে তার ওপর। ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী বিষয়টি দুই ভাগে বিভক্ত:
অনিচ্ছাকৃত বমি হলে: যদি হঠাৎ বা অসুস্থতার কারণে নিজে থেকেই বমি হয়, তবে রোজা ভাঙবে না। বমির পরিমাণ কম হোক বা বেশি, তাতে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।
ইচ্ছাকৃত বমি করলে: যদি কেউ মুখ দিয়ে আঙুল দিয়ে বা অন্য কোনোভাবে জোর করে ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে, তবে তার রোজা ভেঙে যাবে। এক্ষেত্রে পরবর্তীতে ওই রোজার কাজা আদায় করতে হবে।
কিছু জরুরি তথ্য: ১. অনিচ্ছাকৃত বমি হওয়ার পর যদি ওই বমির কোনো অংশ আবার নিজে থেকে ভেতরে চলে যায়, তাতেও রোজা ভাঙবে না। তবে যদি মুখ ভরে আসার পর কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে তা গিলে ফেলে, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। ২. বমির কারণে যদি শরীর খুব বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে এবং রোজা রাখা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়, তবে রোজা ভেঙে ফেলা জায়েজ আছে এবং পরবর্তীতে তা কাজা করে নিতে হবে।
আপনার যদি নির্দিষ্ট কোনো শারীরিক অসুস্থতার কারণে এমন হয়ে থাকে, তবে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

