সংবিধানকে ঢাল বানিয়ে বিচার এড়ানোর চেষ্টা? রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি বনাম আইনি বাস্তবতা
সংবিধানকে ঢাল বানিয়ে বা ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিচার প্রক্রিয়া এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে জোড়ালো হয়ে উঠেছে। हाल हीতে এ বিষয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে, যেখানে সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ এবং রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য সামনে এসেছে।
আলোচিত মন্তব্যসমূহ
শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বক্তব্য: “আর কীসের বিচার করবে? কীসের? কীসের বিচার করবে? সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ পড়ে দেখুন।”
রাশেদ খানের বক্তব্য: “সংবিধান মেনে রাষ্ট্রপতির হাতে শপথ নেওয়ার পর আর তাঁর বিচার করা যায় না। কারণ সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে দায়মুক্তি দেওয়া আছে।”
আইনি বাস্তবতা ও সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ
বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদ এবং রাষ্ট্রপতির দায়মুক্তি নিয়ে যে যুক্তির অবতারণা করা হচ্ছে, তার আইনি ভিত্তি ও পরিধি পরিষ্কার করা জরুরি। সংবিধানের প্রকৃত বাস্তবতা নিচে তুলে ধরা হলো:
দায়মুক্তির পরিধি: সংবিধানের ৫১(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতিকে কেবল দায়িত্বে থাকা অবস্থায় ফৌজদারি মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবন্দি করার ক্ষেত্রে দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব ছাড়ার পর বিচার: রাষ্ট্রপতি বা সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব ছাড়ার পর এই সাংবিধানিক দায়মুক্তি আর বহাল থাকে না। তখন দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা এবং আইনানুগ বিচারিক প্রক্রিয়া পরিচালনা করা সম্ভব।
ফলস্বরূপ, সাংবিধানিক বিধানের ভুল বা একপেশে ব্যাখ্যা দিয়ে বিচার প্রক্রিয়াকে চিরতরে এড়ানোর সুযোগ নেই বলে মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা। দায়িত্বকাল সমাপ্ত হওয়ার পর প্রচলিত আইন নিজস্ব গতিতে এবং সংবিধানের বিধান অনুযায়ী কার্যকর হতে পারে।

