ডলারের বর্তমান দাম ২০২৬ । ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে কেন?
২০২৬ সালের শুরুতে বাংলাদেশে মার্কিন ডলারের বাজারে অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোতে ডলারের বিনিময় হার প্রায় ১২২.৮৩ টাকা থেকে ১২৩ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এমনকি আমদানির ক্ষেত্রে কোনো কোনো ব্যাংক ১২৫ টাকা পর্যন্ত দর নিচ্ছে।
ডলারের এই মূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা কেন বিপাকে পড়ছেন, তার প্রধান কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. আমদানি পণ্যের আকাশচুম্বী দাম
বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর দেশ। জ্বালানি তেল, সার, ভোজ্যতেল এবং শিল্পকারখানার কাঁচামাল ডলারে কিনতে হয়। ডলারের দাম বাড়লে এই পণ্যগুলোর আমদানি খরচ সরাসরি বেড়ে যায়। ফলে স্থানীয় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ে এবং মূল্যস্ফীতি (Inflation) নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
২. উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি
দেশের শিল্পকারখানাগুলো বিদেশ থেকে কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ আমদানি করে। ডলারের দাম বাড়ায় এসবের খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ক্রেতাদের ওপরই পড়ছে।
৩. বড় প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি
দেশের মেগা প্রকল্পগুলোর (যেমন: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র) বড় একটি অংশ বিদেশি ঋণের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। ডলারের দাম বাড়লে এই ঋণের কিস্তি এবং সামগ্রিক প্রকল্পের খরচ কয়েক হাজার কোটি টাকা বেড়ে যায়, যা জাতীয় অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
৪. ভ্রমণ ও শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি
যারা চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান বা উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে টাকা পাঠান, তাদের খরচ একলাফে অনেক বেড়ে গেছে। বিমান টিকিট থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি—সবকিছুতেই আগের চেয়ে অনেক বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।
৫. ডলারের চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্যহীনতা
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমদানির দায় নিয়মিত শোধ করার কড়াকড়ি দেওয়ায় ব্যাংকগুলোতে ডলারের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় ডলারের সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে, যা দামকে আরও উসকে দিচ্ছে।
সহজ কথায়: ডলারের দাম বাড়া মানেই টাকার মান কমে যাওয়া। এতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় আগের চেয়ে অনেক বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছে।

