ভ্যাট ও ট্যাক্স

নতুন আয়কর আইনে রিটার্ন দাখিলে বছরজুড়ে সুযোগ, সময়ভেদে মিলবে ছাড় বা গুনতে হবে জরিমানা

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন আয়কর আইন অনুযায়ী ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য আয়কর রিটার্ন দাখিল ব্যবস্থায় আনা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এখন আর নির্দিষ্ট একটি সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বছরের যেকোনো সময় রিটার্ন দাখিল করা যাবে। তবে কোন সময়ে রিটার্ন জমা দেওয়া হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করবে করদাতা কর-ছাড় পাবেন নাকি জরিমানা গুনতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এনবিআরের একটি তথ্যচিত্রে চারটি কোয়ার্টারভিত্তিক রিটার্ন দাখিলের সুবিধা ও জরিমানার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

প্রথম কোয়ার্টার (জুলাই–সেপ্টেম্বর): ৫ শতাংশ কর-ছাড়

তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম কোয়ার্টার অর্থাৎ জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা পরিশোধিত করের ওপর ৫ শতাংশ কর-ছাড় পাবেন।

এ ক্ষেত্রে—

  • সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কর-ছাড় পাওয়া যাবে।
  • বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত বহাল থাকবে।
  • নির্ধারিত সময়ের আগেই রিটার্ন দাখিলে উৎসাহিত করতেই এ সুবিধা রাখা হয়েছে।

দ্বিতীয় কোয়ার্টার (অক্টোবর–ডিসেম্বর): কোনো জরিমানা নয়

অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে করদাতাকে কোনো বিলম্ব জরিমানা দিতে হবে না

তবে—

  • ৫ শতাংশ কর-ছাড়ের সুবিধা আর থাকবে না।
  • বিনিয়োগজনিত অতিরিক্ত কর রেয়াতের সুবিধা বাতিল হবে।
  • স্বাভাবিক নিয়মে কর পরিশোধ করতে হবে।

তৃতীয় কোয়ার্টার (জানুয়ারি–মার্চ): ২ শতাংশ জরিমানা

যারা জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসে রিটার্ন দাখিল করবেন, তাদের ক্ষেত্রে পরিশোধিত করের ওপর ২ শতাংশ জরিমানা প্রযোজ্য হবে।

এ ক্ষেত্রে—

  • সর্বনিম্ন ৩ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য হবে।
  • বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত সুবিধা পাওয়া যাবে না।

চতুর্থ কোয়ার্টার (এপ্রিল–জুন): ৫ শতাংশ বিলম্ব ফি

সবচেয়ে দেরিতে অর্থাৎ এপ্রিল থেকে জুন মাসে রিটার্ন দাখিল করলে করদাতাদের পরিশোধিত করের ওপর ৫ শতাংশ বিলম্ব ফি দিতে হবে।

এ ক্ষেত্রে—

  • সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা জরিমানা প্রযোজ্য হবে।
  • বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের সুবিধা থাকবে না।
  • করদাতার অতিরিক্ত আর্থিক ব্যয় হতে পারে।

বছরজুড়ে রিটার্ন দাখিলের সুযোগ

নতুন ব্যবস্থায় ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা বছরের যেকোনো সময় রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। তবে সময়ের ভিত্তিতে প্রণোদনা ও জরিমানার এই কাঠামোর কারণে দ্রুত রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারবেন, আর দেরি করলে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

করদাতাদের জন্য পরামর্শ

বিশেষজ্ঞদের মতে, করদাতাদের উচিত প্রথম কোয়ার্টারেই রিটার্ন দাখিলের চেষ্টা করা। এতে একদিকে কর-ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যাবে, অন্যদিকে পরবর্তী সময়ে জরিমানা বা বিলম্ব ফি দেওয়ার ঝুঁকিও এড়ানো সম্ভব হবে।

দ্রষ্টব্য: উপরের তথ্যগুলো এনবিআরের প্রচারিত তথ্যচিত্রের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাস্তবে করদাতার ধরন, প্রযোজ্য বিধান বা বিশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী আয়কর আইন ও এনবিআরের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুসরণ করা উচিত।

admin

আলামিন মিয়া, একজন ব্লগার, ডিজিটাল মার্কেটার, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার। ব্লগিংকরছি প্রায় ৭ বছর যাবৎ। বিভিন্ন অনলাইন সেবা হাতের কাছে পেতে নির্দেশনা ও পদ্ধতি গুলো ব্যাখ্যা করা হয় যা আপনি খুব সহজেই এই ওয়েবসাইট হতে পেতে পারেন। যদি অতিরিক্ত কোন তথ্য প্রয়োজন হয় বা পরামর্শ থাকে তবে মেইল করুন admin@tricksboss.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *