মাত্র ১১৭০ টাকায় জমির নামজারি: আবেদন করতে যা যা লাগবে
জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে নামজারি বা মিউটেশন একটি অপরিহার্য প্রক্রিয়া। বর্তমানে বাংলাদেশ ভূমি মন্ত্রণালয় ই-নামজারি (e-Mutation) সিস্টেমের মাধ্যমে এই সেবাটি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী করেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, একটি নামজারি সম্পন্ন করতে মোট ১১৭০ টাকা ফি নির্ধারিত রয়েছে।
ফি-এর বিস্তারিত ব্রেকডাউন
আবেদনকারীকে দুই ধাপে এই ফি পরিশোধ করতে হয়: ১. আবেদন ফি: আবেদন করার সময় কোর্ট ফি (২০ টাকা) ও নোটিশ জারি ফি (৫০ টাকা) মিলিয়ে মোট ৭০ টাকা অনলাইনে জমা দিতে হয়। ২. অনুমোদন পরবর্তী ফি: নামজারি মঞ্জুর হওয়ার পর রেকর্ড সংশোধন ফি (১০০০ টাকা) ও খতিয়ান সরবরাহ ফি (১০০ টাকা) মিলিয়ে মোট ১১০০ টাকা পরিশোধ করতে হয়।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
সফলভাবে ই-নামজারি আবেদন করতে আপনার নিচের নথিপত্রগুলো স্ক্যান কপি (PDF বা JPG ফরম্যাটে) প্রয়োজন হবে:
আবেদনকারীর ছবি ও পরিচয়পত্র: আবেদনকারীর এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), জন্ম নিবন্ধন বা পাসপোর্টের কপি।
ক্রয়সূত্রে মালিক হলে: মূল দলিলের কপি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বায়া দলিলের কপি।
উত্তরাধিকার সূত্রে মালিক হলে: অনধিক তিন মাসের মধ্যে ইস্যুকৃত ওয়ারিশন সনদপত্র।
খতিয়ানের কপি: সিএস, এসএ, আরএস বা সর্বশেষ রেকর্ডীয় খতিয়ানের কপি।
ভূমি উন্নয়ন কর: সর্বশেষ হালনাগাদ ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধের দাখিলা।
আদালতের রায় থাকলে: আদালত কর্তৃক প্রাপ্ত রায় বা ডিক্রির সার্টিফাইড কপি (যদি থাকে)।
সতর্কতা ও টিপস
১. সঠিক মোবাইল নম্বর: আবেদনের সময় নিজের সচল মোবাইল নম্বর দিন, কারণ শুনানির তারিখ এবং ফি জমা দেওয়ার মেসেজ ওই নম্বরেই আসবে। ২. অনলাইনে পেমেন্ট: দালালের মাধ্যমে লেনদেন না করে সরাসরি একপে (ekPay) বা রকেট, বিকাশ, নগদের মতো গেটওয়ে ব্যবহার করে সরকারি ফি পরিশোধ করুন। ৩. ট্র্যাকিং: আবেদন করার পর একটি ‘আবেদন আইডি’ পাওয়া যাবে, যা দিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট (mutation.land.gov.bd) থেকে আবেদনের বর্তমান অবস্থা চেক করা যাবে।


