সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের আয়কর রিটার্ন পূরণের নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আয়কর আইন, ২০২৩-এর আলোকে সরকারি ও বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের জন্য আয়কর নিরূপণ ও রিটার্ন দাখিলের বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে । নতুন এই আইনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য করছাড়ের পরিধি যেমন সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে, তেমনি বেসরকারি খাতের জন্য আবাসন ও গাড়ি সুবিধার আর্থিক মূল্য নির্ধারণে আনা হয়েছে স্বচ্ছতা ।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ কর সুবিধা
নতুন প্রজ্ঞাপন (এস.আর.ও. নং ২২৫) অনুযায়ী, সরকারি বেতন আদেশভুক্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে করযোগ্য আয়ের পরিধি সীমিত করা হয়েছে ।
করযোগ্য আয়: কেবলমাত্র মূল বেতন, উৎসব ভাতা এবং বোনাস করযোগ্য আয় হিসেবে গণ্য হবে ।
করমুক্ত ভাতা: চিকিৎসা ভাতা, বাড়ি ভাড়া, যাতায়াত ভাতা, নববর্ষ ভাতা, শিক্ষা সহায়ক ভাতা এবং অবসরকালীন লাম্প গ্র্যান্টসহ প্রায় ৪০ ধরনের ভাতা সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখা হয়েছে ।
বিশেষ শর্ত: সরকারি কর্মচারীরা ষষ্ঠ তফশিলের সাধারণ এক-তৃতীয়াংশ আয় বা ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করছাড়ের সুবিধা পাবেন না ।
বেসরকারি ও অন্যান্য চাকরিজীবীদের আয় নিরূপণ
যাঁরা সরকারি বেতন আদেশের আওতাভুক্ত নন, তাঁদের ক্ষেত্রে আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ৩২-৩৪ কার্যকর হবে ।
মোট আয়: বেতন, মজুরি, পারিশ্রমিক, বোনাস, ফি, কমিশন এবং ওভারটাইম আয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে ।
পারকুইজিট ও সুবিধা: আবাসন ও গাড়ি সুবিধার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হারে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন— ১৫০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ির সুবিধার জন্য মাসিক ১৫,০০০ টাকা আয়ের সাথে যোগ হবে ।
সাধারণ করছাড়: এই খাতের করদাতারা তাঁদের মোট আয়ের এক-তৃতীয়াংশ অথবা ৫ লক্ষ টাকা— যেটি কম, সেই পরিমাণ অর্থ মোট আয় থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ পাবেন ।
কর রেয়াত ও বিনিয়োগ সুবিধা
উভয় খাতের চাকরিজীবীরা নির্দিষ্ট খাতে বিনিয়োগ করে কর রেয়াতের সুবিধা নিতে পারবেন:
ভবিষ্য তহবিলে (PF) চাঁদা প্রদান ।
কল্যাণ তহবিল ও গোষ্ঠী বিমা তহবিলে চাঁদা ।
তফসিলি ব্যাংকে মাসিক সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ডিপিএস (DPS) ।
ন্যূনতম কর ও রিটার্ন ফরম
করদাতার কর্মস্থল বা অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে সর্বনিম্ন করের হার নির্ধারণ করা হয়েছে: | এলাকা | সর্বনিম্ন কর | | :— | :— | | ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন | ৫,০০০ টাকা | | অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন | ৪,০০০ টাকা | | সিটি কর্পোরেশন বহির্ভূত এলাকা | ৩,০০০ টাকা |
চাকরিজীবীদের রিটার্ন দাখিলের জন্য আইটি-১১গ (২০২৩) ফরমের তফসিল ১ পূরণ করতে হবে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য ‘অংশ ক’ এবং অন্যদের জন্য ‘অংশ খ’ ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে ।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, নতুন এই ব্যবস্থার ফলে করদাতারা সহজেই তাঁদের আয়ের হিসাব করতে পারবেন এবং কর সংক্রান্ত জটিলতা হ্রাস পাবে ।

