প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল ২০২৬: মাঠ পর্যায়ে ৫ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকার বিশাল বরাদ্দ
সারাদেশের খুদে ফুটবলারদের প্রতিভা বিকাশে শুরু হতে যাচ্ছে “প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক) ২০২৬” এবং “বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালিকা) ২০২৬”। এই টুর্নামেন্ট সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের ব্যয় নির্বাহের জন্য মোট ৫ কোটি ৪৫ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ ও ব্যয়ের মঞ্জুরি প্রদান করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
বরাদ্দের খাত ও পরিমাণ
চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) এর আওতায় ‘যোগাযোগ ও সামাজিক উদ্বুদ্ধকরণ’ সাব-কম্পোনেন্ট থেকে এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দেশের ইউনিয়ন, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন এবং উপজেলা/থানা পর্যায়ে খেলা পরিচালনার জন্য নির্ধারিত বরাদ্দের হার নিচে দেওয়া হলো:
ইউনিয়ন/পৌরসভা পর্যায়: প্রতিটি ইউনিয়ন বা পৌরসভা পর্যায়ের টুর্নামেন্টের জন্য বালক বিভাগে ২,৫০০ টাকা এবং বালিকা বিভাগে ২,৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা/থানা পর্যায়: উপজেলা বা থানা পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য বালক বিভাগে ২৫,০০০ টাকা এবং বালিকা বিভাগে ২৫,০০০ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
অর্থ ব্যয়ের কঠোর নির্দেশনা
অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (অর্থ) এইচ এম আবুল বাশার স্বাক্ষরিত এই পত্রে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কড়া শর্ত আরোপ করা হয়েছে:
১. ভাউচার সংরক্ষণ: ব্যয়ের যাবতীয় অডিট কার্যক্রমের জন্য সকল ভাউচার সংশ্লিষ্ট অফিসে সংরক্ষণ করতে হবে, যা চাহিবা মাত্র প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক।
২. অনলাইন এন্ট্রি: ব্যয়ের বিবরণী বা SOE (Statement of Expenditure) অবশ্যই ব্যয় করার ৭ দিনের মধ্যে ডিপিই-এর ওয়েব বেজড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেমে এন্ট্রি করতে হবে। অন্যথায় পরবর্তী কিস্তির বরাদ্দ পাওয়া যাবে না।
৩. আর্থিক বিধি: সরকারি সকল আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করে এই অর্থ ব্যয় করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই বরাদ্দের অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলন বা অগ্রিম উত্তোলন করা যাবে না।
৪. ভ্যাট ও ট্যাক্স: প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভ্যাট এবং আয়কর (IT) কর্তন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বাজেটের আওতায় iBAS++ সিস্টেমের মাধ্যমে DDO Authorization প্রক্রিয়ায় এই অর্থ সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও থানা শিক্ষা অফিসারদের অনুকূলে প্রদান করা হয়েছে। টুর্নামেন্টটি তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবলের জোয়ার সৃষ্টি করবে এবং শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গতকাল ১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে এই সংক্রান্ত দাপ্তরিক পত্রটি জারি করা হয় এবং আজ ২ এপ্রিল ২০২৬ থেকে এটি কার্যকর বলে গণ্য হবে।

