ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নে নতুন নিয়ম: যেকোনো সার্কেল অফিস থেকেই মিলবে সেবা
বাংলাদেশের ড্রাইভিং লাইসেন্সধারীদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এখন থেকে ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে মালিকরা দেশের যেকোনো বিআরটিএ সার্কেল অফিস থেকে তা নবায়ন করতে পারবেন। আগে নির্দিষ্ট সার্কেল অফিস থেকে এই সেবা নিতে হলেও, আধুনিকায়ন ও অনলাইন সুবিধার ফলে এখন আর সেই সীমাবদ্ধতা নেই।
অনলাইনে ঘরে বসেই আবেদন
বিআরটিএ-এর সেবা এখন হাতের মুঠোয়। বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (BSP) বা bsp.brta.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গ্রাহকরা ঘরে বসেই লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করতে পারবেন। অনলাইনে ফি জমা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করার সুবিধা থাকায় গ্রাহকদের ভোগান্তি অনেকাংশেই কমে এসেছে।
নবায়ন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
লাইসেন্স নবায়ন করতে আবেদনকারীকে সাধারণত নিম্নলিখিত কাগজপত্র সংগ্রহে রাখতে হবে:
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এর কপি।
নিবন্ধিত ডাক্তারের দেওয়া মেডিকেল সার্টিফিকেট।
পুরানো ড্রাইভিং লাইসেন্সের কপি।
অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে সদ্য তোলা রঙিন ছবি।
জরিমানা ও ফি সংক্রান্ত তথ্য
লাইসেন্সের মেয়াদ থাকাকালীন বা মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করলে কোনো বিলম্ব ফি প্রযোজ্য হয় না। তবে নির্ধারিত সময়ের পর আবেদন করলে জরিমানার বিধান রয়েছে:
১৫ দিনের মধ্যে: নির্ধারিত ফি-এর সাথে প্রতি বছর ১৫০ টাকা বিলম্ব ফি।
১৫ দিন পার হলে: প্রতি বছর ২০০ টাকা হারে জরিমানা গুনতে হবে।
পেশাদার ও অপেশাদার লাইসেন্সের পার্থক্য
নতুন নিয়মে অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের মেয়াদ সাধারণত ১০ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। অন্যদিকে, পেশাদার লাইসেন্সধারীদের ক্ষেত্রে নবায়ন প্রক্রিয়ায় কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। পেশাদার চালকদের ক্ষেত্রে নবায়নের সময় পুনরায় ব্যবহারিক পরীক্ষায় (Practical Test) উত্তীর্ণ হতে হতে পারে।
ডিজিটাল সুবিধার সুফল
নতুন সিস্টেমে অধিকাংশ ক্ষেত্রে গ্রাহককে আর সশরীরে বিআরটিএ অফিসে গিয়ে কাগজ জমা দিতে হয় না। এমনকি যাদের বায়োমেট্রিক বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট আগে থেকেই ডাটাবেজে সংরক্ষিত আছে, তাদের নতুন করে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার ঝামেলাও নেই। এর ফলে লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছ ও দ্রুততর হয়েছে।
বিআরটিএ-এর এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে সাধারণ চালকরা যেমন দালালের খপ্পর থেকে রক্ষা পাবেন, তেমনি সঠিক সময়ে লাইসেন্স নবায়নে উদ্বুদ্ধ হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

