এমএফএস খাতে বড় পরিবর্তন : সিম মালিকের নামেই খুলতে হবে বিকাশ-নগদ-রকেট অ্যাকাউন্ট
দেশের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) বা মোবাইল ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং প্রতারণা রোধে কঠোর নতুন নিয়ম কার্যকর করতে যাচ্ছে সরকার। এখন থেকে সিম কার্ড যে ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত, সেই একই ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খোলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
এক এনআইডিতে একটিই অ্যাকাউন্ট
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, একজন গ্রাহক তার একটি জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ব্যবহার করে প্রতিটি এমএফএস প্রতিষ্ঠানে (যেমন: বিকাশ, নগদ, রকেট বা উপায়) কেবলমাত্র একটি করেই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। অর্থাৎ, একই এনআইডি দিয়ে একাধিক বিকাশ বা একাধিক নগদ অ্যাকাউন্ট আর চালানো যাবে না। তবে একজন ব্যক্তি চাইলে একটি এনআইডি দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে (একটি বিকাশ, একটি নগদ, একটি রকেট ইত্যাদি) অ্যাকাউন্ট সচল রাখতে পারবেন।
বিটিআরসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বয়
এই প্রক্রিয়াটি শতভাগ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি-এর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে, যখনই কেউ নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে যাবেন, সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করে দেখবে যে সংশ্লিষ্ট সিমটি ওই ব্যক্তির এনআইডি দিয়ে কেনা কি না।
কেন এই কঠোর নিয়ম?
মূলত ডিজিটাল লেনদেনে স্বচ্ছতা আনা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধ করাই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন এই নিয়ম কার্যকর হলে:
প্রতারণা রোধ: অন্যের এনআইডি বা বেনামি সিমে অ্যাকাউন্ট খুলে সাধারণ মানুষকে ঠকানো বন্ধ হবে।
অবৈধ লেনদেন নিয়ন্ত্রণ: হুন্ডি বা মানি লন্ডারিংয়ের মতো অপরাধে একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের সুযোগ কমবে।
নিরাপত্তা বৃদ্ধি: প্রতিটি লেনদেনের সঠিক মালিকানা নিশ্চিত হওয়ায় গ্রাহকের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়বে।
শীঘ্রই শুরু হচ্ছে যাচাইকরণ কার্যক্রম
সরকার জানিয়েছে, খুব শীঘ্রই মোবাইল নম্বর যাচাইকরণ বা ভেরিফিকেশন কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে। এছাড়া গ্রাহকদের সচেতন করতে বিভিন্ন মাধ্যমে (SMS, ভয়েস মেসেজ ও গণমাধ্যম) প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমএফএস খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত নজরদারি চালাবে এবং নিয়ম অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশেজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপটি দেশের ডিজিটাল ইকোনমি বা ক্যাশলেস সোসাইটির প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং একটি স্বচ্ছ আর্থিক কাঠামো তৈরিতে সহায়ক হবে।

