কেনো খাবেন রোজ ৪-৫ টি কাঠ বাদাম?

বাদাম অনেক পুষ্টি গুণ সম্পূর্ণ খাদ্য। বিভিন্ন ধরনের এর বাদামের এর মধ্যে পুষ্টি গুণ বিবেচনা কাঠবাদাম এর অবস্থান সবার আগে। আজকের আমারা কাঠবাদাম এর পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করতে যাচ্ছি।

মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি-

কাঠবাদামে থাকা পুষ্টিগুণ মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। এই বাদামে থাকে মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজনীয় দুটি পুষ্টিগুণ রিবোফ্লাভিন ও এল ক্যারনিটিন। এই উপাদান দুটি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি ভুলে যাওয়ার রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। প্রতিদিন ৪-৬ টি কাঠ বাদাম ভিজিয়ে খেলে মস্তিষ্কের কাজের উন্নতি ঘটে। শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় উপকারী ফ্যাট উৎস হিসেবে কাঠবাদাম বিশেষ ভূমিকা রাখে। বাড়ন্ত শিশুদের বুদ্ধি বিকাশের জন্য কাঠবাদাম অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি খাবার।

হার্টের সুস্থতায়-

নিয়ম করে ভেজানো বাদাম খেলে হার্ট ভালো থাকে। কারণ কাঠবাদামে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি উপকারী উপাদান থাকে। যা হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে থাকা ভিটামিন-ই হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় এবং ম্যাগনেসিয়াম হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে সাহায্য করে। এটি অ্যার্টারিকে ক্ষতিকর প্রদাহের হাত থেকে সুরক্ষা দেয়। নিয়মিত বাদাম খেলে হৃদযন্ত্র ভালো থাকে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অর্ধেকে নামিয়ে আনে।

ডায়াবেটিস নিযন্ত্রণে রাখে-

কাঠবাদাম ইনসুলিনের মাত্রা কমিয়ে ডায়াবেটিস নিযন্ত্রণে সাহায্য করে। চিকিৎসকরা খাবারের পর কাঠবাদাম খাওয়া খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে-

কাঠবাদাম ফসফরাস এর খুব ভালো উৎস। এই ফসফরাস উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশ কার্যকরী। যাদের উচ্চ রক্ত চাপের সমস্যা রয়েছে তারা নিয়মিত ৪-৬ টি কাঠবাদাম নিজেদের খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন।

ওজন নিয়ন্ত্রণের সহায়ক-

বাদাম খাওয়ার পর খিদে কমে যায়। ফলে মাত্রাতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়। এর ফলে শরীরে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ক্যালরি জমে ওজন বৃদ্ধির সম্ভাবনাও কমে যায়। কাঠবাদামে থাকা নানন পুষ্টি উপাদান বিপাকের হার বাড়িয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করে।

কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে-

কাঠবাদাম শরীরে বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। প্রতিদিনের ডায়েটে বাদামের অন্তর্ভুক্ত করলে হার্টের স্বাস্থ্য নিয়ে আর চিন্তায় থাকতে হবে না। আসলে বাদামে উপস্থিত বেশ কিছু কার্যকরী উপাদান শরীরে ভিতরের ভাল কোলেস্টরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমতে শুরু করে। এছাড়া বাদামে প্রচুর পরিমাণ মনো-স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। কিন্তু কোনরকম ক্ষতিকর ট্রান্স ফ্যাট থাকে না। ফলে হার্ট অ্যাটাক কিংবা স্ট্রোকেরও আশঙ্কা কম থাকে।

হাড় ও দাঁত সুস্থ রাখে-

কাঠবাদামে থাকা ফসফরাস, মিনারেল ও ভিটামিন হাড় ও দাঁতকে সুরক্ষা দেয়। ফসফরাস কেবল হাড় ও দাঁত কে মজবুত করে না বরং এটি অস্টিওপরোসিস বা হাড়ের ক্ষয়ের মতো রোগ প্রতিরোধও সাহায্য করে। হাড় ও দাঁতের সুস্বাস্থ্য ও স্থায়িত্বের ওপর ফসফরাস এর প্রভাব রয়েছে অনেকখানি। বয়স জনিত হাড় ও দাঁতের সমস্যার তৈরি হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতেও ফসফরাস বেশ কার্যকরী।

পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়-

কাঠবাদাম অনেক গুলো পুষ্টি উপাদানে ভরপুর। এই বাদামে রয়েছে প্রায় ৩.৫ গ্রাম ফাইবার, ৬ গ্রাম প্রোটিন, ১৪ গ্রাম ফ্যাট সহ ভিটামিন ই, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন বি২, ফসফরাস এবং ম্যাগনেসিয়াম। এই সবকটি উপাদানই শরীরকে পুষ্টি ঘাটতি দূর করে শরীরকে সুস্থ রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়-

বাদামের ফাইবার শরীরের জন্য উপকারী। আর্জিনিন এবং হেলদি ফ্যাটের সঙ্গে এই ফাইবারের উপস্থিতি কার্ডিওভাসকুলার কোষ্ঠকাঠিন্য এর রোগীদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরি। ফাইবারযুক্ত খাবার খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে।

কোষের কার্য-ক্ষমতা বৃদ্ধি করে-

আমাদের দেহ অসংখ্য ছোট বড় কোষ এর সমন্বয়ে গঠিত। বাদামে থাকা প্রচুর মাত্রায় ভিটামিন ই এই কোষের কর্মক্ষমতার বৃদ্ধি ঘটায় এবং শরীরে যাতে কোনও ক্ষতের সৃষ্টি না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখে। ফলে বয়স বাড়লেও শরীরের উপর এর কোনও প্রভাব পরে না।

শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি করে-

প্রতিদিন একমুঠো কাঠবাদাম খাওয়া শরীরে শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা ম্যাঙ্গানিজ, কপার ও রিবোফ্লাবিন শরীরে শক্তি জোগায়। এটি বিপাক প্রক্রিয়া ভালোভাবে হতেও সাহায্য করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়-

কাঠবাদাম অ্যালকেলাইন সমৃদ্ধ একটি খাবার। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন-ই এ ছাড়াও রয়েছে অনেক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলো বিভিন্ন ধরনের রোগের হাত থেকে দেহকে সুরক্ষা দেয়।

ত্বকের জন্য কাঠবাদাম –

চর্ম বিশেষজ্ঞরা ত্বকের যত্নে কাঠ বাদাম এর তেল ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। নিয়মিত কাঠবাদাম খেলে ত্বকের উপকার হয় একদম ভেতর থেকেই। ফলে অল্প বয়সে বলীরেখা দেখা দেয় না এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায় প্রাকৃতিকভাবে।

প্রদাহ কমায়-

কিছু বিশেষ ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের জন্য খুবই উপকারী ও প্রয়োজনীয়। যেহেতু শরীর ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি করতে পারে না, বিভিন্ন প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদান থেকেই তাকে ফ্যাটি অ্যাসিড সংগ্রহ করতে হয়। কাঠবাদামে থাকে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাটি অ্যাসিড- লিনোলিয়েক (Linoleic) ও লিনোলিয়েক অ্যাসিড। এই ফ্যাটি অ্যাসিড সমূহ শরীরের প্রদাব কমাতে কাজ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *