কোর্ট ম্যারেজ ও বিয়ের রেজিস্ট্রেশন খরচ ২০২৬: যা জানা জরুরি
বাংলাদেশে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে ধর্মীয় রীতির পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, অনেকেই আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘কোর্ট ম্যারেজ’ বা হলফনামার দিকে ঝুঁকছেন। তবে এই প্রক্রিয়ার সঠিক খরচ এবং আইনি বাধ্যবাধকতা নিয়ে অনেকের মধ্যেই স্বচ্ছ ধারণার অভাব রয়েছে। মূলত কোর্ট ম্যারেজের খরচ দুটি প্রধান বিষয়ের ওপর নির্ভর করে—হলফনামা (Affidavit) তৈরির ব্যয় এবং দেনমোহরের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন ফি।
১. কোর্ট ম্যারেজ বা হলফনামার ব্যয় যেকোনো প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষ ২০০ থেকে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে বিয়ের হলফনামা সম্পন্ন করতে পারেন। এটি মূলত একটি আইনি ঘোষণা। এক্ষেত্রে স্ট্যাম্পের দাম নির্ধারিত থাকলেও আইনজীবীর ফি স্থান ও অভিজ্ঞতাভেদে ভিন্ন হতে পারে।
২. কাজী অফিসে রেজিস্ট্রেশন ফি (মুসলিম আইন) আইনজীবীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, শুধুমাত্র কোর্ট ম্যারেজ বা হলফনামা আইনিভাবে পূর্ণাঙ্গ নয়। পারিবারিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজীর মাধ্যমে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। মুসলিম বিবাহ আইন অনুযায়ী, রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারিত হয় দেনমোহরের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে:
প্রথম ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত: প্রতি ১ লক্ষ টাকায় ১,৪০০ টাকা হারে ফি দিতে হয়। অর্থাৎ দেনমোহর ৪ লক্ষ টাকা হলে ফি হবে ৫,৬০০ টাকা।
৫ লক্ষ টাকার পরবর্তী অংশ: দেনমোহর ৫ লক্ষ টাকার বেশি হলে পরবর্তী প্রতি ১ লক্ষ টাকার জন্য মাত্র ১০০ টাকা হারে ফি যুক্ত হবে।
সর্বনিম্ন ফি: দেনমোহরের পরিমাণ যাই হোক না কেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশন ফি সর্বনিম্ন ২০০ টাকা হতে পারে।
৩. হিন্দু ও বিশেষ বিবাহ আইন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন ফি সাধারণত নির্দিষ্ট করা থাকে, যা সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অন্যদিকে, যারা বিশেষ বিবাহ আইনে (Special Marriage Act) বিয়ে করতে চান, তাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিয়ম ও ফি প্রযোজ্য হয়।
৪. মোট কত খরচ হতে পারে? যদি কোনো বিয়ের দেনমোহর ১ লক্ষ টাকা ধার্য করা হয়, তবে কাজী অফিসের ফি (১,৪০০ টাকা) এবং কোর্ট হলফনামা ও আইনজীবীর ফি মিলিয়ে আনুমানিক ২,৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব। তবে দেনমোহরের অংক বাড়লে রেজিস্ট্রেশন ফি-ও আনুপাতিক হারে বাড়বে।
সতর্কতা: বিয়ের ক্ষেত্রে কেবল হলফনামা বা ‘কোর্ট ম্যারেজ’ করে নিশ্চিন্ত থাকা উচিত নয়। ভবিষ্যতে দেনমোহর আদায়, উত্তরাধিকার বা বিদেশ যাত্রার ক্ষেত্রে কাবিননামা বা কাজী অফিসের রেজিস্ট্রেশনই মূল নথি হিসেবে গণ্য হয়। তাই আইনি জটিলতা এড়াতে সঠিক নিয়মে রেজিস্ট্রেশন করার পরামর্শ দিচ্ছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

