ভ্যাট ও ট্যাক্স

বিআরটিএ-র ডিজিটাল সেবায় স্বস্তি, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে ভোগান্তি কি কাটবে?

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) তাদের সেবাকে জনবান্ধব ও আধুনিক করতে অনলাইন ফি ক্যালকুলেটর ও বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (BSP) চালু করেছে। তবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কাজ এগোলেও সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ—মাঠ পর্যায়ের অনিয়ম ও প্রশাসনিক জটিলতায় এখনো সেবাগ্রহীতারা দিশেহারা। বিশেষ করে দালালের সহায়তা ছাড়া কাজ করতে গিয়ে ফাইল গায়েব হওয়া এবং হেভি লাইসেন্স প্রিন্টিংয়ের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে।

১. ডিজিটাল ফি ক্যালকুলেটর: পকেট খরচ কি এর অন্তর্ভুক্ত?

বিআরটিএ-র অনলাইন ফি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করে এখন ঘরে বসেই গাড়ির নবায়ন, মালিকানা বদলি, ফিটনেস ও ট্যাক্স টোকেনের সরকারি ফি সঠিকভাবে নির্ণয় করা যাচ্ছে। এটি গ্রাহকদের জন্য একটি বড় স্বস্তি। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া জরুরি—এই ক্যালকুলেটর শুধুমাত্র সরকারিভাবে নির্ধারিত ফি এবং ভ্যাটের হিসাব প্রদান করে। অনলাইনের বাইরে গিয়ে যারা ফাইল জমা দেওয়া বা শারীরিক উপস্থিতিতে কাজ করান, তাদের যাতায়াত বা অন্যান্য আনুষঙ্গিক ‘পকেট খরচ’ এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়। স্বচ্ছতার জন্য বিআরটিএ গ্রাহকদের শুধুমাত্র ক্যালকুলেটর প্রদর্শিত ফি জমা দেওয়ার পরামর্শ দিলেও, দালালচক্রের প্রভাবে এই ‘অতিরিক্ত’ খরচের বোঝা সাধারণ মানুষকে বইতে হচ্ছে।

২. দালাল ছাড়া ফাইল জমা দিলেই কি ‘নিখোঁজ’?

সাম্প্রতিক সময়ে বিএসপি (BSP) পোর্টালের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করে সরাসরি ফাইল জমা দিতে গিয়ে অনেক গ্রাহক তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হচ্ছেন। এক গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, দালালের সাহায্য না নিয়ে নিজে ফাইল জমা দেওয়ার পর জানানো হয়েছে যে তার ফাইলটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, ডিজিটাল সিস্টেমে আবেদন সম্পন্ন হলেও অফিসের অভ্যন্তরীণ নথিপত্র ব্যবস্থাপনায় এখনো বড় ধরনের ত্রুটি বা যোগসাজশ রয়ে গেছে। ফাইল ‘হারিয়ে যাওয়া’র মতো ঘটনা মূলত দালালদের উপর নির্ভরতা তৈরির একটি কৌশল বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।

৩. কোম্পানির নামে ট্যাক্স টোকেন আপডেট ও টিআইএন (TIN) সংক্রান্ত তথ্য

অনেকেই প্রশ্ন করেন কোম্পানির নামে গাড়ির ট্যাক্স টোকেন আপডেট করতে টিআইএন সার্টিফিকেট লাগবে কি না। নিয়ম অনুযায়ী:

  • যেকোনো মোটরযানের মালিকানা বা ট্যাক্স টোকেন নবায়নের ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণ বা প্রাপ্তিস্বীকার পত্র (Acknowledgment Receipt) বাধ্যতামূলক।

  • কোম্পানির ক্ষেত্রে ওই প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধিত ই-টিআইএন (e-TIN) এবং হালনাগাদ রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ অবশ্যই দাখিল করতে হবে। এটি ছাড়া সিস্টেম থেকে ট্যাক্স টোকেন আপডেট করার সুযোগ নেই।

৪. লাইসেন্স আপগ্রেড ও স্মার্ট কার্ডের দীর্ঘ প্রতিক্ষা

পেশাদার লাইট লাইসেন্স থেকে হেভি লাইসেন্সের প্রত্যাশীদের অপেক্ষা যেন শেষই হচ্ছে না। বিশেষ করে খুলনা বিআরটিএ সহ দেশের বিভিন্ন সার্কেলে অনলাইন আপডেটের ধীরগতির কারণে গত ৩ বছর ধরে হাজার হাজার চালক তাদের স্মার্ট কার্ড থেকে বঞ্চিত।

  • কেন এই দেরি? কার্ড প্রিন্টিং ভেন্ডর পরিবর্তন এবং ব্যাকলগ জমার কারণে এই সংকট দীর্ঘায়িত হয়েছে।

  • বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রীয়ভাবে প্রিন্টিং কার্যক্রম চললেও আঞ্চলিক অফিসগুলোর ডেটা এন্ট্রি এবং ভেরিফিকেশন আপডেট না হওয়ার কারণে কার্ড ইস্যু আটকে আছে। দক্ষ চালক তৈরির ক্ষেত্রে এটি একটি বড় অন্তরায় হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

উপসংহার

বিআরটিএ ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হিসেবে চমৎকার সব টুলস নিয়ে আসলেও, তৃণমূল পর্যায়ে দুর্নীতি রোধ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। ফাইল ব্যবস্থাপনা ডিজিটাল করা এবং লাইসেন্স প্রিন্টিংয়ের দীর্ঘসূত্রতা দূর না হলে স্মার্ট বিআরটিএ-র সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়বে।

admin

আলামিন মিয়া, একজন ব্লগার, ডিজিটাল মার্কেটার, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার। ব্লগিংকরছি প্রায় ৭ বছর যাবৎ। বিভিন্ন অনলাইন সেবা হাতের কাছে পেতে নির্দেশনা ও পদ্ধতি গুলো ব্যাখ্যা করা হয় যা আপনি খুব সহজেই এই ওয়েবসাইট হতে পেতে পারেন। যদি অতিরিক্ত কোন তথ্য প্রয়োজন হয় বা পরামর্শ থাকে তবে মেইল করুন admin@tricksboss.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *