গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ছে, সব শ্রেণির গ্রাহকের ওপর বাড়তি চাপ
দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ভর্তুকির চাপ কমানোর লক্ষ্যে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই মূল্যহার আগামী জুন মাস থেকে কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধির ফলে আবাসিক, সেচ, ক্ষুদ্র শিল্পসহ প্রায় সব শ্রেণির গ্রাহককেই আগের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হবে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে বিদ্যুতের দাম প্রায় ১৬.৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে প্যাকেজভিত্তিক হিসাব করলে গড় বৃদ্ধি প্রায় ১৯.৮৫ শতাংশ পর্যন্ত দাঁড়াবে। বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়াকে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোন শ্রেণিতে কত বাড়ছে?
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪.৬৩ টাকা থেকে বেড়ে ৫.৩২ টাকা হবে। এতে মূল্যবৃদ্ধির হার দাঁড়াবে প্রায় ১৪.৯০ শতাংশ।
অন্যদিকে আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধাপে মূল্যবৃদ্ধির হার ১৭ থেকে প্রায় ২০ শতাংশের মধ্যে থাকবে।
| গ্রাহক শ্রেণি | আগের দাম (টাকা/ইউনিট) | নতুন দাম (টাকা/ইউনিট) | বৃদ্ধি (%) |
|---|---|---|---|
| লাইফলাইন (০-৫০ ইউনিট) | ৪.৬৩ | ৫.৩২ | ১৪.৯০ |
| প্রথম ধাপ (০-৭৫ ইউনিট) | ৫.২৬ | ৬.১৮ | ১৭.৪৯ |
| দ্বিতীয় ধাপ (৭৬-২০০ ইউনিট) | ৭.২০ | ৮.৫০ | ১৮.০০ |
| তৃতীয় ধাপ (২০১-৩০০ ইউনিট) | ৭.৫৯ | ৯.১০ | ১৯.৮৯ |
| চতুর্থ ধাপ (৩০১-৪০০ ইউনিট) | ৮.০২ | ৯.৬২ | ১৯.৯৫ |
| পঞ্চম ধাপ (৪০১-৬০০ ইউনিট) | ১২.৬৭ | ১৫.০১ | ১৮.৪৬ |
| ষষ্ঠ ধাপ (৬০০ ইউনিটের বেশি) | ১৪.৬১ | ১৭.৩৫ | ১৮.৭৫ |
| সেচ পাম্প | ৫.২৫ | ৬.০৪ | ১৫.০০ |
| ক্ষুদ্র শিল্প | ১০.৭৬ | ১২.৭৩ | ১৮.৩০ |
সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুতের দাম বাড়লে শুধু বিদ্যুৎ বিলই নয়, উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে। শিল্প ও ক্ষুদ্র শিল্প খাতে বিদ্যুতের খরচ বৃদ্ধি পেলে তার প্রভাব পণ্যের বাজারমূল্যে পড়তে পারে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে মাসিক বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে যারা ২০০ ইউনিটের বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাদের অতিরিক্ত ব্যয় তুলনামূলক বেশি হবে।
শিল্প ও কৃষি খাতে উদ্বেগ
সেচ পাম্পের বিদ্যুতের দাম ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষি উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও নতুন মূল্যহারের কারণে বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়বে। উদ্যোক্তাদের মতে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেলে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
সরকারের যুক্তি
সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য, এলএনজি আমদানি ব্যয় এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ ক্রমেই বাড়ছে। এই চাপ কমানোর জন্যই বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
উপসংহার
প্রস্তাবিত নতুন মূল্যহার কার্যকর হলে দেশের প্রায় সব শ্রেণির বিদ্যুৎ গ্রাহককেই বাড়তি ব্যয় বহন করতে হবে। সরকার ভর্তুকির চাপ কমাতে চাইলেও এর প্রভাব সাধারণ জনগণ, কৃষক ও শিল্প উদ্যোক্তাদের ওপর সরাসরি পড়বে। ফলে মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর হওয়ার পর জীবনযাত্রার ব্যয় ও উৎপাদন খরচ কতটা বাড়ে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

