জমি জমা সংক্রান্ত ২০২৩। দলিলের নম্বর চেনার উপায় কি?
আপনার দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি বিস্তারিত এবং জনসচেতনতামূলক নিউজ রিপোর্ট নিচে তুলে ধরা হলো:
জমি কেনাবেচায় বিভ্রান্তি এড়াতে দলিলের নম্বর চেনার সহজ উপায়
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
জমি কেনাবেচা বা মালিকানা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি হলো ‘দলিল’। কিন্তু অনেক সময় সাধারণ মানুষ মূল দলিল বা সার্টিফাইড কপির ভিড়ে আসল ‘দলিল নম্বর’ খুঁজে পেতে বিভ্রান্তিতে পড়েন। এই বিভ্রান্তি দূর করতে ভূমি বিশেষজ্ঞরা দলিলের ধরণ অনুযায়ী নম্বর চেনার কিছু নির্দিষ্ট নিয়মের কথা জানিয়েছেন।
মূল দলিলের ক্ষেত্রে চেনার উপায়
সাধারণত মূল দলিলের ক্ষেত্রে নম্বর খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে সহজ। মূল দলিলের প্রথম পাতার ওপরের ডান কোণায় দলিল নম্বর লেখা থাকে। এই নম্বরের আগে সচরাচর ইংরেজি বর্ণ ‘I’ (রোমান ১) লেখা দেখা যায়, যা দ্বারা রেজিস্টার বুক নম্বর-১ বোঝানো হয়। এছাড়া দলিলের প্রথম পাতার বাম মার্জিনে দলিলের প্রকৃতি, জমির মূল্য, পরিমাণ, মৌজা এবং থানার নাম সংক্ষিপ্ত আকারে থাকে।
সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় মূল দলিলের শেষ পাতার দ্বিতীয় পৃষ্ঠায়। সেখানে একটি নির্দিষ্ট সিলেকশন বা সিল দেওয়া থাকে, যেখানে দলিল নম্বর, ভলিউম নম্বর, রেজিস্টার বুক নম্বর, পাতার সংখ্যা এবং রেজিস্ট্রেশনের সন অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা থাকে।
সার্টিফাইড কপি বা জাবেদা নকলের ক্ষেত্রে ভিন্নতা
অনেকের কাছে মূল দলিল না থেকে আদালতের বা রেজিস্ট্রি অফিসের দেওয়া ‘সার্টিফাইড কপি’ থাকে। এক্ষেত্রে নম্বর খোঁজার নিয়ম কিছুটা ভিন্ন:
বাম মার্জিনে লক্ষ্য করুন: সার্টিফাইড কপির শেষ পাতার প্রথম পৃষ্ঠায় অথবা তার আগের কোনো পাতার বাম পাশের মার্জিনে সিল আকারে ভলিউম, পাতা ও দলিল নম্বর দেওয়া থাকে।
দলিল লেখকদের নোট: অনেক সময় দলিল লেখকরা সার্টিফাইড কপির প্রথম পাতায় হাতে লিখে দলিল নম্বর ও সন উল্লেখ করে দেন। তবে এটি নিশ্চিত হতে মার্জিনের সিলের সাথে মিলিয়ে দেখা জরুরি।
টিপসই ও শনাক্তকরণ
আসল দলিল চেনার আরও একটি মাধ্যম হলো টিপসই। মূল দলিলের প্রথম পাতার দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় দাতা এবং শনাক্তকারীর টিপসই থাকে। তবে মনে রাখতে হবে, জাবেদা নকল বা সার্টিফাইড কপিতে সরাসরি মূল টিপসই থাকে না; বরং তাদের নাম ও বিবরণ সুবিধাজনক পাতার বাম মার্জিনে উল্লেখ করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
দলিলের প্রথম পাতার ওপর অনেক সময় লেখক বিভিন্ন ক্রমিক নম্বর বা ভলিউম নম্বর এমনভাবে লেখেন যা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা দুষ্কর হতে পারে। তাই ভুল এড়াতে সবসময় দলিলের শেষ পৃষ্ঠার সিল অনুসরণ করা উচিত। জমি রেজিস্ট্রেশনের পর প্রাপ্ত এই নম্বর ও সনটি ভবিষ্যতে বালাম বই থেকে তথ্য সংগ্রহ বা নামজারির জন্য অপরিহার্য।

