বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের দায়িত্ব পেল এনটিআরসিএ
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি) প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং সহকারী প্রধান পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। এখন থেকে এই পদগুলোতে নিয়োগ সুপারিশের দায়িত্ব পালন করবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) । শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে আজ এক পরিপত্রের মাধ্যমে নিয়োগের এই নতুন পদ্ধতি ও নিয়মাবলি জারি করা হয়েছে ।
যেসব পদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য
নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপারিনটেনডেন্ট এবং সহকারী সুপারিনটেনডেন্ট পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এনটিআরসিএ সুপারিশ প্রদান করবে ।
শূন্য পদের চাহিদা ও যোগ্যতা
প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অধিদপ্তরগুলো (মাউশি, কারিগরি ও মাদ্রাসা) পঞ্জিকাবর্ষের শূন্য পদের চাহিদা এনটিআরসিএ-র কাছে পাঠাবে । প্রার্থীদের আবেদনের ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক সর্বশেষ জারিকৃত জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে ।
পরীক্ষা পদ্ধতি ও মান বণ্টন
নিয়োগের জন্য এনটিআরসিএ একটি পৃথক পরীক্ষা গ্রহণ করবে । পরীক্ষার বিস্তারিত সময়সূচি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা এবং এনটিআরসিএ-র ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে । পরীক্ষার মান বণ্টন হবে নিম্নরূপ:
লিখিত বা বাছাই পরীক্ষা: ৮০ নম্বর
শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ: ১২ নম্বর
মৌখিক পরীক্ষা: ০৮ নম্বর
লিখিত এবং মৌখিক—উভয় পরীক্ষাতেই পাস নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ । পদভিত্তিক শূন্য পদের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৩ গুণ প্রার্থীকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ঘোষণা করে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হবে ।
মেধাতালিকা ও নিয়োগ সুপারিশ
লিখিত, মৌখিক এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার নম্বরের ভিত্তিতে ১:১ অনুপাতে একটি চূড়ান্ত মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে । একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ৫টি প্রতিষ্ঠানে পছন্দক্রম (Choice List) দিতে পারবেন । পছন্দ ও মেধার ভিত্তিতে প্রতি পদের বিপরীতে একজনকে নিয়োগের জন্য নির্বাচন করা হবে ।
এনটিআরসিএ-র সুপারিশ প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডিকে এক মাসের মধ্যে নির্বাচিত প্রার্থীকে নিয়োগপত্র প্রদান করতে হবে ।
অযোগ্যতা ও অন্যান্য নিয়ম
পরিপত্রে জানানো হয়েছে, কোনো প্রার্থী যদি ফৌজদারি বা বিভাগীয় মামলায় আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত হন, তবে তিনি এই পদের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন । এছাড়া, যদি বিদ্যমান কোনো বিধিমালা এই নতুন পরিপত্রের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তবে তা দ্রুত সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ।

