প্রথমবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিচ্ছেন ১৫ লাখের বেশি ভোটার: ব্যালট ট্র্যাকিংয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া
আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে প্রথমবারের মতো বিশাল পরিসরে যুক্ত হয়েছে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এবার দেশ ও বিদেশ মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন।
নিবন্ধনের পরিসংখ্যান ও জনসচেতনতা
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নিবন্ধিত ভোটারদের মধ্যে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪১ জন দেশের অভ্যন্তরে (ইন-কান্ট্রি) এবং ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন প্রবাসী বাংলাদেশী ভোটার হিসেবে বিশ্বের ১৪৮টি দেশ থেকে নিবন্ধন করেছেন। দেশের ভেতরে নিবন্ধনে শীর্ষে রয়েছে কুমিল্লা জেলা (৯৯,৯১৫ জন), এরপরই ঢাকা ও চট্টগ্রামের অবস্থান।
প্রযুক্তিনির্ভর ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপ
এবারের নির্বাচনে বড় আকর্ষণ হলো ‘Postal Vote BD’ নামক মোবাইল অ্যাপ। এই অ্যাপের মাধ্যমে ভোটাররা ঘরে বসেই নিবন্ধনের সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া ইসি জানিয়েছে, ভোটাররা এখন অ্যাপের মাধ্যমে তাদের ব্যালট পেপারের অবস্থান বা ব্যালট ট্র্যাকিং করতে পারছেন। ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন (UPU) সিস্টেমের সাথে সমন্বয় করে এই ট্র্যাকিং সুবিধা চালু করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
ইসি থেকে জানানো হয়েছে যে, ইতিমধ্যে বিদেশে অবস্থানরত ভোটারদের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। ব্যালট ট্র্যাকিং করার প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:
-
‘Postal Vote BD’ অ্যাপে লগইন করতে হবে।
-
‘ব্যালট ট্র্যাকিং’ অপশনে ক্লিক করতে হবে।
-
সেখানে থাকা ট্র্যাকিং নম্বরের মাধ্যমে ব্যালটটি বর্তমানে কোথায় আছে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এছাড়া, যারা পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন তাদের জন্য ইসির হটলাইন নম্বর (+৮৮০৯৬১০০০০০১০৫) অথবা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাসওয়ার্ড রিসেট করার সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
ভোট প্রদানের সময়সীমা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পোস্টাল ব্যালটে যারা ভোট দিচ্ছেন, তাদের ভোট প্রদানের পর ব্যালট পেপারটি নির্দিষ্ট খামে ভরে আগামী ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬-এর মধ্যে নিকটস্থ পোস্ট অফিসে জমা দিতে বা ড্রপ বক্সে ফেলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং সিস্টেম প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবিপূরণসহ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ আরও সহজ ও স্বচ্ছ করবে।


