প্লাস্টিক কার্ড মেটাল করার প্রলোভন : গ্রাহকদের জরুরি সতর্কবার্তা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
দেশের ব্যাংক গ্রাহকদের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি এক সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি কিছু অননুমোদিত তৃতীয় পক্ষ বা থার্ড-পার্টি প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের সাধারণ প্লাস্টিক কার্ডকে আকর্ষণীয় ‘মেটাল কার্ডে’ রূপান্তর করার প্রলোভন দিচ্ছে। একে চরম ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গ্রাহকদের এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
প্রলোভন ও ঝুঁকির ধরণ
বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছে যে তারা সাধারণ কার্ডকে ধাতব বা মেটাল কার্ডে রূপান্তর করে দেবে। এই প্রক্রিয়ায় গ্রাহকদের তাদের কার্ডের নম্বর, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল সিভিভি (CVV) নম্বরসহ যাবতীয় তথ্য ওই সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেয়ার করতে হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যাংক বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত নয়। ফলে তথ্য প্রদানের মাধ্যমে গ্রাহকরা সরাসরি আর্থিক জালিয়াতির মুখে পড়তে পারেন।
সম্ভাব্য ৪টি প্রধান ঝুঁকি
বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের বিজ্ঞপ্তিতে মেটাল কার্ডে রূপান্তরের ক্ষেত্রে চারটি সুনির্দিষ্ট ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছে: ১. তথ্য ফাঁস: কার্ডের সব গোপন তথ্য তৃতীয় পক্ষের হাতে চলে যাওয়ায় বড় ধরনের জালিয়াতির আশঙ্কা। ২. অননুমোদিত লেনদেন: গ্রাহকের অজান্তেই কার্ড ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ হওয়ার সম্ভাবনা। ৩. আর্থিক ক্ষতি: তথ্য চুরি হওয়ার ফলে গ্রাহকের ব্যাংক ব্যালেন্স শূন্য হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি। ৪. ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা: সামগ্রিক ব্যাংকিং কার্ড ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়া।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা
গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক অনুরোধ জানিয়েছে, কার্ড সংক্রান্ত যেকোনো সেবার জন্য শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অনুমোদিত চ্যানেলের সহায়তা নিতে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে কার্ডের তথ্য না দেওয়ার পাশাপাশি ওটিপি (OTP) শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “আপনার আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ব্যাংকসমূহের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। কোনো অবস্থাতেই কার্ডের তথ্য কারো সাথে শেয়ার করবেন না। যেকোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম লক্ষ্য করলে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করুন।”
সচেতন থাকতে এবং নিরাপদ থাকতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.bb.org.bd) নিয়মিত ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সচেতন থাকুন, নিরাপদ থাকুন। জনস্বার্থে: বাংলাদেশ ব্যাংক

