বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা: ব্যক্তিগত ঋণের মেয়াদ বাড়ল, অটো লোনে মিলবে বেশি অর্থ
ব্যক্তিগত ঋণ (পার্সোনাল লোন) এবং অটো লোন সংক্রান্ত নীতিমালায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা বিআরপিডি সার্কুলার লেটার নং-২১ (BRPD-1 Circular Letter No. 21) অনুযায়ী ঋণগ্রহীতাদের জন্য ঋণের মেয়াদ বৃদ্ধি, অটো লোনের সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানো এবং ডেট-ইকুইটি অনুপাতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নির্দেশনাগুলো ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ তারিখে প্রকাশিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব পরিবর্তনের ফলে ব্যক্তিগত ও ভোক্তা ঋণ গ্রহণ আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে দেশের অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশ এবং পরিবেশবান্ধব যানবাহারের ব্যবহারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
পার্সোনাল লোনের মেয়াদ বেড়ে ৮ বছর
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, পার্সোনাল লোন এবং ভোক্তা পণ্য ক্রয়ের ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ ৮ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে এ ধরনের ঋণের মেয়াদ তুলনামূলক কম থাকায় অনেক গ্রাহককে বেশি মাসিক কিস্তি পরিশোধ করতে হতো।
মেয়াদ বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন ঋণগ্রহীতারা দীর্ঘ সময় ধরে কিস্তি পরিশোধের সুযোগ পাবেন, ফলে মাসিক কিস্তির চাপও কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে মধ্যম আয়ের চাকরিজীবী ও পরিবারের জন্য এই সিদ্ধান্ত স্বস্তি বয়ে আনতে পারে।
অটো লোনের সর্বোচ্চ সীমা এখন ৮০ লাখ টাকা
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, অটো লোনের সর্বোচ্চ সীমা ৬০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ লাখ টাকা করা হয়েছে।
তবে এই সুবিধা মূলত ইলেকট্রিক, হাইব্রিড এবং দেশীয়ভাবে উৎপাদিত গাড়ির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। এর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব যানবাহারের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় অটোমোবাইল শিল্পকে উৎসাহ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কম ডাউন পেমেন্টে গাড়ি কেনার সুযোগ
নতুন সার্কুলারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো ডেট-ইকুইটি অনুপাত।
আগে এসইউভি (SUV) গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ডেট-ইকুইটি অনুপাত ছিল ৬০:৪০, অর্থাৎ ক্রেতাকে তুলনামূলক বেশি নিজস্ব অর্থ (ডাউন পেমেন্ট) দিতে হতো।
নতুন নির্দেশনায় এই অনুপাত ৮০:২০ করা হয়েছে। ফলে গ্রাহকরা মাত্র ২০ শতাংশ নিজস্ব অর্থ দিয়ে বাকি ৮০ শতাংশ ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে গাড়ি কেনার সুযোগ পাবেন। এতে প্রাথমিক বিনিয়োগের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।
অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে—
- ব্যক্তিগত ঋণ গ্রহণ আরও সহজ হবে।
- মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের ঋণ গ্রহণের সক্ষমতা বাড়বে।
- অটো লোনের বাজার সম্প্রসারিত হবে।
- ইলেকট্রিক ও হাইব্রিড যানবাহারের ব্যবহার উৎসাহিত হবে।
- দেশীয় অটোমোবাইল শিল্পে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।
তবে একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোকে ঋণ বিতরণে গ্রাহকের আয়, পরিশোধ সক্ষমতা এবং ঝুঁকি মূল্যায়নে আরও সতর্ক থাকতে হবে, যাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি না পায়।
সারসংক্ষেপ
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নির্দেশনায় ব্যক্তিগত ও ভোক্তা ঋণের ক্ষেত্রে গ্রাহকবান্ধব বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। পার্সোনাল লোনের মেয়াদ ৮ বছরে উন্নীত করা, অটো লোনের সীমা ৮০ লাখ টাকায় বৃদ্ধি এবং ডেট-ইকুইটি অনুপাত ৮০:২০ নির্ধারণের ফলে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ঋণ গ্রহণ আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই পদক্ষেপ দেশের অটোমোবাইল শিল্পের বিকাশ ও পরিবেশবান্ধব যানবাহারের প্রসারেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

