বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর ২০২৬ । বিভিন্ন ব্যাংকে ডাবল বেনিফিট স্কিমের আকর্ষণীয় অফারগুলো কি জানেন?
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নিরাপদ ও লাভজনক বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ব্যাংকের ‘ডাবল বেনিফিট স্কিম’ বা টাকা দ্বিগুণ হওয়ার বিশেষ সঞ্চয় প্রকল্প। সম্প্রতি বিভিন্ন বেসরকারি ও তফসিলি ব্যাংকের মুনাফার হার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ব্যাংকভেদে এই স্কিমে বিনিয়োগের মুনাফা এবং টাকা দ্বিগুণ হওয়ার সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।
ব্যাংকসমূহের মুনাফার তুলনামূলক চিত্র
সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এবি ব্যাংক সবচেয়ে কম সময়ে টাকা দ্বিগুণ করার সুযোগ দিচ্ছে। এই ব্যাংকে সঞ্চিত টাকা মাত্র ৫ বছর ৬ মাসে দ্বিগুণ হচ্ছে, যার সুদের হার ১৩.৪০%। এর পরেই রয়েছে ওয়ান ব্যাংক, যেখানে সুদের হার ১২.০৭% এবং টাকা দ্বিগুণ হতে সময় লাগছে ৫ বছর ১১ মাস।
নিচে প্রধান কয়েকটি ব্যাংকের ডাবল বেনিফিট স্কিমের তথ্য তুলে ধরা হলো:
| ব্যাংকের নাম | সুদের হার (%) | দ্বিগুণ হতে সময় |
| এবি ব্যাংক | ১৩.৪০% | ৫ বছর ৬ মাস |
| ওয়ান ব্যাংক | ১২.০৭% | ৫ বছর ১১ মাস |
| কমিউনিটি ব্যাংক | ১২.২৫% | ৬ বছর |
| মার্কেন্টাইল ব্যাংক | ১১.২৫% | ৬ বছর ৬ মাস |
| সীমান্ত ব্যাংক | ১১.০০% | ৬ বছর ৮ মাস |
| ইউসিবি | ১০.৮০% | ৬ বছর ৯ মাস |
| উত্তরা ব্যাংক | ১০.৫৪% | ৬ বছর ১০ মাস |
| ট্রাস্ট ব্যাংক | ১০.০০% | ৭ বছর ৩ মাস |
| প্রাইম ব্যাংক | ৯.২৫% | ৭ বছর ১১ মাস |
| পূবালী ব্যাংক | ৮.০৬% | ৯ বছর |
বিশ্লেষণ ও বিনিয়োগ পরামর্শ
তালিকায় দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ ব্যাংকে সুদের হার ৯% থেকে ১৩% এর মধ্যে উঠানামা করছে। বিনিয়োগকারীরা যেখানে ৬ বছরের কম সময়ে টাকা দ্বিগুণ করতে পারছেন, সেখানে কিছু ব্যাংকে ৯ বছর পর্যন্ত সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে। তবে সুদের হার এবং সময় ছাড়াও গ্রাহক সেবা ও ব্যাংকের স্থায়িত্ব বিবেচনা করাও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
সতর্কতা
প্রতিটি স্কিমের ক্ষেত্রেই সরকারি বিধি মোতাবেক প্রদেয় মুনাফা হতে উৎস কর (Source Tax) এবং একাউন্ট থেকে আবগারি শুল্ক (Excise Duty) কর্তনযোগ্য। ফলে গ্রাহকের হাতে আসা প্রকৃত অংক কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
বিনিয়োগের পূর্বে গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিকটতম শাখা থেকে বর্তমান সুদের হার এবং অন্যান্য শর্তাবলী যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


