জমি-জমা সংক্রান্ত

ভূমি রেকর্ড ও খতিয়ান সংশোধনের নিয়মাবলী: এসিল্যান্ড কার্যালয়ে প্রতিকার পাওয়ার উপায়

জমি সংক্রান্ত বিরোধ বা ভুল তথ্যের কারণে আমাদের অনেকেরই নাজেহাল হতে হয়। বিশেষ করে খতিয়ান বা রেকর্ড তৈরির সময় ভুলবশত নাম, দাগ নম্বর বা অংশের হিসেবে গরমিল থাকলে তা সংশোধন করা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় দেখা যায়, খতিয়ান চূড়ান্ত প্রকাশের পর মালিকরা বুঝতে পারেন সেখানে ভুল রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগের কিছু নেই, কারণ বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী এটি সংশোধনের সুনির্দিষ্ট পথ রয়েছে।

রেকর্ড সংশোধনের আইনগত পর্যায়

প্রজাস্বত্ব বিধিমালা অনুযায়ী, খতিয়ান বা রেকর্ড চূড়ান্ত প্রকাশের পর তা ৩০ দিন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। এই সময়ের মধ্যে বা এরপরও যদি কোনো ভুল পরিলক্ষিত হয়, তবে প্রজাস্বত্ব বিধিমালা ১৯৫৫-এর ২৩ বিধির উপবিধি ৩ অনুযায়ী করণিক ভুলগুলো সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।

যেসব করণিক ভুল সংশোধন করা সম্ভব

সাধারণত রেকর্ডে বিদ্যমান নিচের ভুলগুলো সংশোধনের জন্য আবেদন করা যায়:

  • নামের বানান ভুল: মালিক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামের বানানে অসংগতি।

  • অংশ বসানোর ভুল: খতিয়ানে মালিকের অংশের হিসেবে গাণিতিক বা তথ্যগত ভুল।

  • দাগসূচীতে ভুল: ভুল দাগ নম্বর অন্তর্ভুক্তি বা বাদ পড়া।

  • মানচিত্র ও রেকর্ডের অমিল: ম্যাপের সাথে মাঠপর্যায়ের রেকর্ডের তথ্যগত পার্থক্য।

  • উত্তরাধিকার সংক্রান্ত ভুল: জরিপকালে পিতার মৃত্যুর পর সন্তানদের নামে রেকর্ড হওয়ার কথা থাকলেও ভুলবশত পিতার নামে রয়ে যাওয়া।

  • প্রতারণামূলক ভুল: কোনো অসাধু উপায়ে বা তথ্য গোপনের মাধ্যমে ঘটানো ভুল।

এসিল্যান্ড বরাবর আবেদনের প্রক্রিয়া

উপরে উল্লেখিত ভুলগুলো সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড (AC Land) কার্যালয়ে আবেদন করতে হয়। ভূমি মালিকদের সচেতন থাকতে হবে যে, খতিয়ানের যেকোনো গুরুতর ভুল নজরে আসার সাথে সাথেই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়।

প্রক্রিয়াটি যেভাবে সম্পন্ন হয়: ১. আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্রসহ (যেমন: দলিল, পূর্বের খতিয়ান, ওয়ারিশ সনদ ইত্যাদি) এসিল্যান্ড বরাবর আপিল বা আবেদন করতে হবে। ২. এসিল্যান্ড কার্যালয় আবেদনটি যাচাই-বাছাই করবে। ৩. প্রয়োজনবোধে সরেজমিন তদন্ত বা শুনানির মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত হয়ে এসিল্যান্ড উক্ত ভুলগুলো সংশোধন করে দিবেন।

সতর্কতা: জমি বা খতিয়ান সংক্রান্ত যেকোনো ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে সরাসরি সরকারি ভূমি অফিসে যোগাযোগ করুন। নিয়মানুযায়ী আবেদন করলে এবং উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারলে এসিল্যান্ডের মাধ্যমেই আপনার রেকর্ড সঠিক ও হালনাগাদ করা সম্ভব।

জমি আপনার সম্পদ, তাই রেকর্ডের সঠিকতা নিশ্চিত রাখা নাগরিক হিসেবে আপনার দায়িত্ব। এ বিষয়ে আরও কোনো আইনি পরামর্শ প্রয়োজন হলে আপনার নিকটস্থ উপজেলা ভূমি অফিসে সরাসরি যোগাযোগ করুন।

admin

আলামিন মিয়া, একজন ব্লগার, ডিজিটাল মার্কেটার, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার। ব্লগিংকরছি প্রায় ৭ বছর যাবৎ। বিভিন্ন অনলাইন সেবা হাতের কাছে পেতে নির্দেশনা ও পদ্ধতি গুলো ব্যাখ্যা করা হয় যা আপনি খুব সহজেই এই ওয়েবসাইট হতে পেতে পারেন। যদি অতিরিক্ত কোন তথ্য প্রয়োজন হয় বা পরামর্শ থাকে তবে মেইল করুন admin@tricksboss.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *