জমি-জমা সংক্রান্ত

ভূমি সেবা সহজীকরণে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি: এনআইডি লিঙ্ক ও মৌজাভিত্তিক জমির তথ্য প্রকাশের দাবি

দেশের ভূমি সেবা ডিজিটাল ও সহজীকরণ এবং নাগরিক ভোগান্তি ও জালিয়াতি দূরীকরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি লিখিত আবেদন ও স্মারকলিপি পেশ করা হয়েছে। গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই আবেদনটি জমা দেন জিয়াউল হক নামের এক সচেতন নাগরিক। আবেদনটিতে ভূমি সেবা আরও স্বচ্ছ করতে দুটি সুনির্দিষ্ট ও বৈপ্লবিক প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়েছে।

আবেদনপত্রের অনুলিপি একই সাথে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এবং সিনিয়র সচিবকেও পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবনা ১: প্রোফাইলে এনআইডি লিঙ্ক বাধ্যতামূলক করে স্বয়ংক্রিয় উত্তরাধিকার নির্ণয়

আবেদনে বলা হয়, আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও দেশে এখনো স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তরাধিকার নির্ণয় ব্যবস্থা কার্যকর হয়নি। এর ফলে সাধারণ নাগরিকেরা পৈতৃক সম্পত্তির ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অতিরিক্ত সময়, অর্থ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে নারীরা অনেক ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের মুখোমুখি হচ্ছেন।

বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মূল ওয়েবসাইট (www.land.gov.bd) এর মাধ্যমে নাগরিকেরা ই-নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর এবং খতিয়ানের সার্টিফাইড কপি সংগ্রহ করছেন। এই প্রক্রিয়াকে শতভাগ নির্ভুল ও কার্যকর করতে ব্যবহারকারীর প্রোফাইলে পিতা-মাতা, স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন এবং ছেলে-মেয়েদের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) লিঙ্ক করা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এটি করা হলে:

  • ডিজিটাল ডাটাবেজের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উত্তরাধিকার সূত্র নিশ্চিত করা যাবে।

  • জমি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ, জালিয়াতি এবং দেওয়ানি মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে।

প্রস্তাবনা ২: মৌজা ভিত্তিক দাগের জমির পরিমাণ অনলাইনে প্রকাশ ও স্বয়ংক্রিয় তথ্য প্রদর্শন

আবেদনকারীর দ্বিতীয় প্রস্তাবটি মূলত ই-নামজারি (খারিজ) প্রক্রিয়ার জটিলতা দূর করার লক্ষ্যে। বর্তমানে নামজারির আবেদন করার সময় সংশ্লিষ্ট দাগের মোট জমির পরিমাণ উল্লেখ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ আবেদনকারীরা এই সঠিক তথ্যটি না জানার কারণে আবেদনে ভুল ত্রুটি হয় এবং পরবর্তীতে তারা ব্যাপক হয়রানির শিকার হন।

এই জটিলতা নিরসনে আবেদনে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়েছে: ১. স্বয়ংক্রিয় প্রদর্শন: নামজারি বা খারিজের আবেদনকালে দাগ নম্বর প্রদান করলেই যেন সংশ্লিষ্ট দাগের মোট জমির পরিমাণ সফটওয়্যারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেসে ওঠে। ২. অতিরিক্ত খারিজ রোধ: একই দাগে মোট জমির পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত বা অসঙ্গতিপূর্ণ নামজারি প্রতিরোধে সফটওয়্যারে স্বয়ংক্রিয় যাচাই (Validation) ব্যবস্থা যুক্ত করা। ৩. উন্মুক্ত ডেটা: মৌজা ভিত্তিক সকল দাগের জমির পরিমাণের তথ্য অনলাইনে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা। ৪. বিনামূল্যে ডাউনলোড: নাগরিকেরা যেন সম্পূর্ণ মৌজার দাগভিত্তিক জমির তথ্য বিনামূল্যে ডাউনলোড করার সুযোগ পান।

দুর্নীতি হ্রাস ও নাগরিক সেবার গতি বৃদ্ধি

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এই ধরনের সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের বর্তমান সফটওয়্যারগুলোর অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা কেটে যাবে। একই সাথে ভূমি অফিসের দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য ও দুর্নীতি ব্যাপকভাবে হ্রাস পাবে এবং নাগরিক সেবা আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব হবে।

আবেদনকারী জিয়াউল হক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই প্রস্তাবনাসমূহ সরাসরি ও বিশদভাবে উপস্থাপন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দেশের ভূমি ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনতে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দূর করতে তিনি এই বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ইতিমধ্যে আবেদনটি গ্রহণ করে ডায়েরিভুক্ত করেছে, যার ফলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছেন বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

admin

আলামিন মিয়া, একজন ব্লগার, ডিজিটাল মার্কেটার, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজার। ব্লগিংকরছি প্রায় ৭ বছর যাবৎ। বিভিন্ন অনলাইন সেবা হাতের কাছে পেতে নির্দেশনা ও পদ্ধতি গুলো ব্যাখ্যা করা হয় যা আপনি খুব সহজেই এই ওয়েবসাইট হতে পেতে পারেন। যদি অতিরিক্ত কোন তথ্য প্রয়োজন হয় বা পরামর্শ থাকে তবে মেইল করুন admin@tricksboss.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *