ফিতে চিকিৎসা সেবা – দুই কোটি ২৫ লাখ টাকা থেকে পাঁচ কোটি টাকার সম্পদ প্রদর্শন করে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন এমন মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসা ব্যয়ের ৫০ শতাংশ মওকুফ পাবেন। এ ছাড়া আয়করদাতা হিসেবে নিবন্ধিত নন এমন মুক্তিযোদ্ধার ক্ষেত্রে শতভাগ ফ্রি চিকিৎসা দেয়া হবে। অসুস্থ ও রোগাক্রান্ত মুক্তিযোদ্ধারা এ চিকিৎসাসেবা পাবেন।

২০২২-২০২৩ অর্থবছরে মুক্তিযােদ্ধাদের কল্যাণে দেশের সরকারি হাট-বাজারসমূহের ইজারালদ্ধ আয়ের ৪% অর্থ দ্বারা বীর মুক্তিযােদ্ধাদের চিকিৎসা সেবার লক্ষ্যে এতদসংক্রান্ত নীতিমালা, ৯ জানুয়ারি ২০২২ তারিখে জারিকৃত ৪৮.০০.০০০০.০১০.৩৩.০২৯.২১-১২৯ নম্বর পরিপত্র ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝােতা স্মারক-২০২১ অনুসারে নিমােক্ত শর্ত সাপেক্ষে নির্দেশক্রমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সিংড়া, নাটোর এর অনুকূলে ১,০০,০০০/-(এক লক্ষ) টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

এই ব্যয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন মুক্তিযােদ্ধাদের কল্যাণে দেশের সরকারি হাট বাজার ইজারালদ্ধ আয়ের ৪% অর্থের তহবিল হতে নির্বাহ করা হবে। অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেবে সরকার। রাজধানীর নামি-দামি হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে এ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। এজন্য ‘মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসাসেবা প্রদান নীতিমালা’ নামে একটি নীতিমালা প্রণয়ন হয়েছৈ।

ফ্রিতে চিকিৎসা সেবা পাবেন মুক্তিযোদ্ধাগণ / বিশেষ ক্ষেত্রে সিভিল সার্জন এর অনুমােদনক্রমে অতিরিক্ত ১০,০০০/- টাকা ব্যয় করা যাবে।

অতিরিক্ত ১০,০০০/- টাকা ব্যয় করা যাবে। জটিল রােগীর ক্ষেত্রে আয়ন-ব্যয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে উপজেলা বা জেলায় ৩০,০০০/- টাকা পর্যন্ত খরচ করা যাবে।

মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা সংক্রান্ত পরিপত্র ২০২২ । বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা জনপ্রতি ১০,০০০ টাকা

হাসপাতালে অসুস্থ মুক্তিযােদ্ধার জন্য প্রয়ােজনীয় ঔষধ সরবরাহসহ সর্বোত্তমভাবে সকল চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে। সকল ধরণের চিকিৎসা পরামর্শ, শল্য চিকিৎসা, হাসপাতাল কর্তৃক সরবরাহযােগ্য ঔষধ, বেড সরবরাহ, পথ্য এবং নার্সিং ইত্যাদি চিকিৎসা সেবার অন্তর্ভুক্ত হবে;

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা জনপ্রতি ১০,০০০ টাকা পাওয়ার শর্তাবলী ২০২২

  1. মুক্তিযােদ্ধাদের চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা | কর্মকর্তা আয়ন ব্যয়ন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন;
  2. প্রদত্ত বরাদ্দ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ এ এতদসংক্রান্ত পরিপত্র, বীর মুক্তিযােদ্ধাগণের কল্যাণে সরকারি হাট-বাজারসমূহের ইজারালদ্ধ আয়ের ৪% অর্থ ব্যয় নীতিমালা, ২০২১ (২৮ নভেম্বর ২০২১ তারিখে প্রকাশিত সংশােধনীসহ) ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝােতা স্মারক-২০২১ অনুসারে ব্যয় করতে হবে;
  3. বরাদ্দকৃত অর্থ দ্বারা চিকিৎসার ক্ষেত্রে মুক্তিযােদ্ধার স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে এ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সমন্বিত তালিকাসহ খেতাবপ্রাপ্ত গেজেট বা যুদ্ধাহত গেজেটভূক্ত বীর মুক্তিযােদ্ধার নাম (www.molwa.gov.bd) থাকলে তিনি এ চিকিৎসা সুবিধা প্রাপ্য হবেন;
  4. বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সকল আর্থিক বিধি-বিধান ও নিয়মানুচার যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে;
  5. অব্যয়িত অর্থ (যদি থাকে) ৩০ জুন ২০২৩ তারিখের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন ব্যাংক একাউন্ট (সঞ্চয়ী হিসাব নং ০২০০০০১২১১০৫২, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, জাতীয় প্রেস ক্লাব শাখা, ঢাকা/সঞ্চয়ী হিসাব নং ৪৪২৬৩৩৪১৯১৫৫৪, সােনালী ব্যাংক লিমিটেড, রমনা করপােরেট শাখা, ঢাকা) ফেরত প্রদান পূর্বক এ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হবে। অব্যয়িত অর্থ পরবর্তী অর্থবছরেও ব্যয় করা যাবে, তবে সেক্ষেত্রে অব্যয়িত অর্থের পরিমাণ উল্লেখপূর্বক প্রতিবেদন এ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ নিশ্চিত করতে হবে;
  6. মুক্তিযােদ্ধাদের কল্যাণে দেশের সরকারি হাট-বাজারসমূহের ইজারালদ্ধ আয়ের ৪% অর্থ দ্বারা বীর মুক্তিযােদ্ধাগণের কল্যাণে সরকারি হাটবাজারসমূহের ইজারালদ্ধ আয়ের ৪% অর্থ ব্যয় নীতিমালা, ২০২১ (২৮ নভেম্বর ২০২১ তারিখে প্রকাশিত সংশােধনীসহ)প্রকাশিত হয়েছে। উক্ত নীতিমালা যথাযথ অনুসরণ করতে হবে। একইসাথে মুক্তিযােদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার নিমিত্ত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য | ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝােতা স্মারক অনুযায়ী বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে;
  7. বরাদ্দকৃত অর্থ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বীর মুক্তিযােদ্ধাদের চিকিৎসা সুবিধা প্রদান সংক্রান্ত তহবিল’ নামক একাউন্ট খুলে প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন; জ) বরাদ্দকৃত অর্থ সংশ্লিষ্ট খাত ব্যতীত অন্য কোন খাতে ব্যয় করা যাবে না। অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোনাে অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেন;
  8. বীর মুক্তিযােদ্ধার চিকিৎসায় জনপ্রতি উপজেলার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০,০০০/- টাকা খরচ করা যাবে। বিশেষ ক্ষেত্রে সিভিল সার্জন এর অনুমােদনক্রমে অতিরিক্ত ১০,০০০/- টাকা ব্যয় করা যাবে। জটিল রােগীর ক্ষেত্রে আয়ন-ব্যয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে উপজেলা বা জেলায় ৩০,০০০/- টাকা পর্যন্ত খরচ করা যাবে। নীতিমালায় যা কিছুই উল্লেখ থাক না কেন, মুক্তিযােদ্ধাকে তাঁর নিজস্ব ব্যয়ে প্রয়ােজনে এক বা একাধিকবার চিকিৎসা গ্রহণের সুযােগ নিশ্চিত করতে হবে;
  9. হাসপাতালে অসুস্থ মুক্তিযােদ্ধার জন্য প্রয়ােজনীয় ঔষধ সরবরাহসহ সর্বোত্তমভাবে সকল চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে। সকল ধরণের চিকিৎসা পরামর্শ, শল্য চিকিৎসা, হাসপাতাল কর্তৃক সরবরাহযােগ্য ঔষধ, বেড সরবরাহ, পথ্য এবং নার্সিং ইত্যাদি চিকিৎসা সেবার অন্তর্ভুক্ত হবে;
  10. মুক্তিযােদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা প্রদান কার্যক্রম পর্যালােচনা বা পরীক্ষা এবং বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার যাচাই করার লক্ষ্যে বিধি | মােতাবেক নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
  11. সংযুক্ত ‘ছক মােতাবেক বরাদ্দকৃত অর্থের প্রাপ্তিস্বীকার এ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করতে হবে।
  12. বর্ণিত চিকিৎসাসেবা শুধুমাত্র হাসপাতালে ভর্তিকৃত মুক্তিযােদ্ধাদের প্রদান করা যাবে। মুক্তিযােদ্ধার স্ত্রী/সন্তানগণ এ সুবিধা পাপ্য হবে না।
  13. ব্যয় বিবরণী সংযুক্ত ‘ছক মােতাবেক সেবা গ্রহীতার মােবাইল নম্বরসহ তথ্যাদি এ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করতে হবে।।

সর্বোচ্চ কত টাকার চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া যাবে?

মন্ত্রণালয়ের গেজেটে স্পষ্ট করে বলা আছে, এইসব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তার স্ত্রী বা স্বামীকে সাধারণ রোগের চিকিৎসা বাবদ সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকার চিকিৎসা সুবিধা প্রদান করবে। তবে কোন বীর মুক্তিযোদ্ধার একাধিক স্ত্রী থাকলে একসঙ্গে সর্বমোট অনুর্ধ ৭৫ হাজার টাকার চিকিৎসা ব্যয় পাবেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা সংক্রান্ত পরিপত্র ২০২২ । বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা জনপ্রতি ১০,০০০ টাকা: ডাউনলোড