সরকারি কর্মচারীদের পারিবারিক পেনশন সহজীকরণ: জেনে নিন আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র
সরকারি কর্মচারীদের মৃত্যুর পর তাদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে পারিবারিক পেনশন ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। তবে সঠিক তথ্যের অভাব এবং নথিপত্র সংগ্রহে জটিলতার কারণে অনেক সময় পেনশন পেতে বিলম্ব ঘটে। সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, পারিবারিক পেনশন অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও দ্রুত করতে নির্দিষ্ট কিছু নথিপত্রের তালিকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র: পারিবারিক পেনশন পেতে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে মোট নয় ধরনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ৩টি করে কপি জমা দিতে হবে। তালিকার প্রধান নথিগুলো হলো:
১. পেনশন আবেদন ফরম ২.২: এটি পেনশনের মূল আবেদনপত্র যা ৩টি কপি জমা দিতে হবে।
২. পাসপোর্ট সাইজ ছবি: আবেদনকারীর মোট ৪ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি প্রয়োজন।
৩. প্রত্যয়ন পত্র (সংযোজনী-৭): আনুতোষিক ও অবসর ভাতা উত্তোলন করার ক্ষমতা অর্পণ এবং অভিভাবক মনোনয়নের প্রত্যয়ন পত্র।
৪. উত্তরাধিকার ও নন-ম্যারেজ সনদ (সংযোজনী-৩): আবেদনকারীর উত্তরাধিকার সনদ এবং পুনরায় বিবাহ না করার অঙ্গীকারনামা বা নন-ম্যারেজ সার্টিফিকেট।
৫. নমুনা স্বাক্ষর ও আঙুলের ছাপ (সংযোজনী-৬): আবেদনকারীর নমুনা স্বাক্ষর এবং হাতের পাঁচ আঙুলের ছাপ।
৬. মৃত্যুর সনদ: সরকারি কর্মচারীর মৃত্যুর সত্যায়িত কপি।
৭. ওয়ারিশান সনদপত্র: স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কর্তৃক প্রদত্ত সত্যায়িত ওয়ারিশান সনদ।
৮. ভোটার আইডি কার্ড: আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি।
৯. পেনশন বহি: মূল পেনশন বহিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।
আবেদন প্রক্রিয়া: আবেদনকারীকে প্রথমে বৈধ উত্তরাধিকার সনদসহ ফরম ২.২-এর প্রথম অংশ পূরণ করে মৃত কর্মচারীর শেষ অফিস প্রধানের নিকট দাখিল করতে হবে। এরপর অফিস প্রধান ফরমের দ্বিতীয় অংশ পূরণ করে না-দাবি প্রত্যয়নপত্র ও সুপারিশসহ সেটি পেনশন মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করবেন। মঞ্জুরকারী কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই শেষে অবসর ভাতা ও আনুতোষিক মঞ্জুরির আদেশ দেবেন এবং চূড়ান্ত নিরীক্ষার জন্য অডিট অফিসে প্রেরণ করবেন।
সবকিছু ঠিক থাকলে অডিট অফিস থেকে পেনশন পরিশোধ আদেশ (পিপিও) জারি করা হয় এবং বর্তমানে এটি ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (EFT) মাধ্যমে সরাসরি পেনশনারের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রেরণের সুযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, সঠিক তথ্যের অভাবে পেনশন নিষ্পত্তি যেন বিলম্বিত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। আবেদনের কোনো অংশে ভুল থাকলে বা অপ্রয়োজনীয় তথ্য থাকলে তা যথাযথভাবে সংশোধন করে দাখিল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


