জিপিএফ ও সিপিএফ-এর মুনাফার হার পুনর্নির্ধারণ: আগের হারই বহাল রাখল সরকার
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাধারণ ভবিষ্য তহবিল (জিপিএফ) এবং প্রদেয় ভবিষ্য তহবিলের (সিপিএফ) মুনাফার হার নির্ধারণ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অর্থ বিভাগের প্রবিধান শাখা থেকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই হার নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও মুনাফার হার স্লাবভিত্তিক এবং অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
মুনাফার হারের বিস্তারিত (স্লাবভিত্তিক)
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জমা টাকার পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে তিনটি স্তরে মুনাফা প্রদান করা হবে:
| জমা টাকার পরিমাণ (স্থিতি) | মুনাফার হার (২০২৫-২৬) |
| ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত | ১৩% |
| ১৫ লাখ ১ টাকা থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত | ১২% |
| ৩০ লাখ ১ টাকা থেকে তদূর্ধ্ব | ১১% |
সিপিএফ-এর ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম
প্রদেয় ভবিষ্য তহবিল বা সিপিএফ-ভুক্ত স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং কর্পোরেশনগুলোর ক্ষেত্রে কিছু নমনীয়তা দেওয়া হয়েছে। সংস্থাগুলোর নিজস্ব আর্থিক সামর্থ্য এবং বিধিবিধান অনুযায়ী তারা জিপিএফ-এর এই স্লাবভিত্তিক হারকে সর্বোচ্চ সীমা ধরে নিজেদের জন্য হার নির্ধারণ করতে পারবে।
পটভূমি ও বিশ্লেষণ
২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে জিপিএফ-এর মুনাফায় এই স্লাবভিত্তিক পদ্ধতি চালু করা হয়। এর আগে মুনাফার হার সাধারণত ১৩ থেকে ১৪ শতাংশের মধ্যে স্থির থাকতো। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে তৎকালীন সময়ে এই হার কিছুটা কমিয়ে আনা হয়েছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে এবং পরবর্তী প্রজ্ঞাপনেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য এটি একটি নির্ভরযোগ্য সঞ্চয় মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়, কারণ বর্তমানে প্রচলিত অনেক সঞ্চয়পত্রের চেয়েও জিপিএফ-এর সর্বোচ্চ স্লাবের (১৩%) মুনাফার হার তুলনামূলক আকর্ষণীয়। তবে ৩০ লাখ টাকার বেশি স্থিতির ক্ষেত্রে মুনাফার হার সর্বনিম্ন ১১ শতাংশে নেমে আসে, যা মূলত বড় অঙ্কের আমানতকারীদের চেয়ে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ীদের বেশি উৎসাহিত করার একটি কৌশল।


