বিবাহ নিবন্ধনে বয়স প্রমাণের বৈধ দলিলাদি: কি বলছে ২০১৭ সালের আইনে জেনে রাখুন
বাংলাদেশে বিবাহ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বয়স যাচাই একটি বাধ্যতামূলক এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর ১২ নম্বর ধারায় বয়স প্রমাণের জন্য নির্দিষ্ট কিছু দলিলকে আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী, বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে ইচ্ছুক নারী বা পুরুষের বয়স প্রমাণের জন্য নিচের যেকোনো একটি সনদ বা দলিল দাখিল করলেই তা বৈধ বলে গণ্য হবে:
বয়স প্রমাণের জন্য স্বীকৃত দলিলসমূহ:
আইনের বিধান অনুযায়ী, বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের সময় নিম্নলিখিত দলিলগুলোর যেকোনো একটি জমা দেওয়া যাবে:
জন্ম নিবন্ধন সনদ: সরকারি ডিজিটাল ডাটাবেজে নিবন্ধিত জন্ম সনদ।
জাতীয় পরিচয় পত্র (NID): নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত ভোটার আইডি কার্ড।
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (SSC) বা সমমান: এসএসসি, দাখিল বা সমমানের পরীক্ষার সার্টিফিকেট।
জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (JSC) বা সমমান: জেএসসি, জেডিসি বা সমমানের পরীক্ষার সার্টিফিকেট।
প্রাইমারি স্কুল সার্টিফিকেট (PSC) বা সমমান: পিএসসি বা ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষার সার্টিফিকেট।
পাসপোর্ট: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত বৈধ পাসপোর্ট।
আইনি বাধ্যবাধকতা ও গুরুত্ব
সংশ্লিষ্ট আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিবাহ নিবন্ধনের সময় কাজি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এই দলিলগুলোর যেকোনো একটি উপস্থাপন করা বাধ্যতামূলক। এর মূল লক্ষ্য হলো বাল্যবিবাহ রোধ করা এবং বিবাহের ক্ষেত্রে নারী (ন্যূনতম ১৮ বছর) ও পুরুষ (ন্যূনতম ২১ বছর) উভয়ের সঠিক বয়স নিশ্চিত করা।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আইন অনুযায়ী, এই তালিকার বাইরে অন্য কোনো মৌখিক সাক্ষ্য বা অনির্ধারিত প্রমাণপত্র বয়স প্রমাণের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে না। এর যেকোনো একটি সঠিক দলিল দাখিল করলেই কোনো প্রকার জটিলতা ছাড়াই বিবাহ রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা সম্ভব।
এই আইনের যথাযথ প্রয়োগ যেমন নাগরিক অধিকার রক্ষা করে, তেমনি জালিয়াতি রোধে এবং সুস্থ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বিবাহ নিবন্ধনের আগে প্রয়োজনীয় এই দলিলাদি প্রস্তুত রাখা প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব।


